মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০১৭ ০৯:১০:৪৮ এএম

হাজার ভোল্ট শর্টে গ্যাটিজ শাহিন এখন মৃত্যু পথে

আতিকুর রহমান | জেলার খবর | ঝিনাইদহ | সোমবার, ৮ মে ২০১৭ | ০৪:০২:৪৪ পিএম

ঝিনাইদহ ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন (ওজোপাডিকো) অফিসে সরকার নিয়োজিত বেতন ভুক্ত কোন লাইন ম্যান কাজ করেন না। লাইনম্যানের কাজ সারা হয় অদক্ষ ব্যক্তিদের (গ্যাটিজ) দিয়ে।

এমন একটি ঝুকিপুর্ন কাজ করতে গিয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে এসে দাড়িয়েছে শাহিন মোল্লা নামে এক যুবক। বিষয়খালী এলাকায় ট্রান্সফরমারের নেগেটিভ বুস লাগাতে গিয়ে ঝলসে যায় শানের শরীর। তিনি এখন মৃত্যু পথযাত্রী। এ দুর্ঘটনার দায়ভার নিতে রাজি নয় ঝিনাইদহ ওজোপাডিকো।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ঝলসে যাওয়া শরীর নিয়ে শাহিন কাতরাচ্ছে। শাহীন জানান, ৩রা এপ্রিল দুপুর সাড়ে বারটার দিকে ঝিনাইদহ ওজোপাডিকোর লাইনম্যান মজিবর ও পরিতোষ গ্যাটিজ শাহীনকে বলেন, বিষয়খালী বোর্ড ঘরের সামনে ট্রান্সফরমারের নেগেটিভ বুস কেটে গেছে লাগাতে হবে।

লাইনম্যান মজিবর ও পরিতোষ নিজের কাজ নিজে না করে গ্যাটিজ শাহীনকে তুলে দেন ১১ হাজার ভোল্টের ট্রান্সফরমারের নেগেটিভ বুসের তার লাগাতে। ট্রান্সফরমারের নেগেটিভ বুসের কাজ করা অবস্থায় ঝিনাইদহ শহরের হামদহের সাবষ্টেশনের এসবিএ হাফিজ হঠাৎ করে লাইনের সুইজ অন করে দিলে শাহীন ১১ হাজার ভোল্টের তারে জড়িয়ে ঝুলতে থাকে।

এমতবস্থায় খাম্বায় লাগানো বাঁশের মই দিয়ে নিচ থেকে মজিবর ও পরিতোষ ধাক্কা মেরে শাহীনকে মাটিতে ফেলে দেয়। শাহীনের হাত, পা, উরু, বুকের পাশে চামড়া সহ মাংশ উঠে যায়। পরে লাইনম্যান মজিবর ও পরিতোষ শাহীনকে উদ্ধার করে পিকাপে তুলে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার রাশেদ আল মামুন তাকে চিকিৎসা দেন। শাহিনের অবস্থার অবনতী হলে ৪ এপ্রিল তাকে ঢাকার বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করা হয়। তিনি ঢাকা বার্ন ইউনিটের ৫ম তলায় ১০৩ নং রুমের ১০ নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শাহীনের বোন রানু বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ঝিনাইদহ বিদ্যুত অফিসের(ওজোপাডিকো) লাইনম্যানেরা নিজের কাজ নিজে না করে গ্যাটিজ দিয়ে জটিল কাজগুলো করানোর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি ঝিনাইদহ ওজোপাডিকোর কালে চিকিসার ব্যায় ভার দাবী করেন। এ ব্যাপারে লাইনম্যান মজিবর ফোন রিসিভ করেননি।

তবে পরিতোষ ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলামনা, আমি কিচ্ছুই জানিনা। শাহীনের সার্কেলের ইঞ্জিনিয়ার নির্মল বাবু সাংবাদিকদের পরামর্শদেন এ সংবাদটি প্রকাশ না করতে। অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহ ওজোপাডিকোর প্রকৃত লাইনম্যানরা বাবু সেজে বসে থাকেন।

আর কাজ করান বাইরের রেঅকজন দিয়ে। ফলে এ পর্যন্ত বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় লেবুতলার মজনু মারা গেছে। সারা জীবনের মত পঙ্গু হয়ে গেছে খাজুরা গ্রামের মির্জা, পবহাটির খলিল ও আরাপপুরের খোরশেদ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন