শনিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৭ ০৯:৪৯:০১ এএম

“ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ঐহিত্যবাহী প্রাচীন শহর পানাম নগরী”

সৌরভ আদিত্য | জেলার খবর | মেীলভীবাজার | সোমবার, ৮ মে ২০১৭ | ০৬:৩৯:২০ পিএম

ঘুরে আসুন কালের স্বাক্ষী বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহর পানাম নগর। নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁতে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহর । প্রাচীন সোনারগাঁও বড় তিন নগর ছিলঃ- ১। বড় নগর ০২। খাস নগর ও ০৩। পানাম নগর এদের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষনীয় ছিল পানাম নগর। পানাম নগরে কয়েক শতাব্দী পুরোনো অনেক ভবন রয়েছে যা বাংলার বার ভূঁইয়াদের ইতিহাস জড়ানো রয়েছে।

অবস্থানঃ- রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৩০ কিঃ দক্ষিন পূর্বে পানাম নগেরর অবস্থান। সোনারগাঁয়ের দীর্ঘ ২০ Displaying 18361436_1888219491203497_1035547844_n.jpg
বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে পানাম নগরী। সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর থেকে উত্তরের দিকে হাঁটলে সহজে পৌঁছানো যায় অর্ধ্বচন্দ্রাকৃতি পানাম পুলে (যদিও পুলটি ধ্বংস হয়ে গেছে)। পুলটির দৈর্ঘ্য ছিল ৭২ ফুট এবং প্রস্থ ছিল ১৫.৫ ফুট, এই পুলের মাঝখান ছিল উঁচু। এই পুল পেরিয়ে পানাম নগর এবং নগরী চিরে বয়ে যাওয়া পানাম সড়ক। সড়কের দুপাশে সারি সারি চোখ জুড়ানো আবাসিক একতলা ও দ্বিতল বাড়িতে ভরপুর পানাম নগর।

ইতিহাসঃ- ১৫ ঈসা খাঁ বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেছিলেন সোনারগাঁয়ে। মেঘনা, আর শীতলক্ষ্য নদীপথে বিলেত থেকে আসতো বিলাতী থানকাপড়, দেশ হতে যেতো মসলিন। মেঘনা এবং শীতলক্ষ্যার ঘাটে প্রতিদিনই ভিড়তো পালতোলা নৌকা।

প্রায় ঐ সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে ইউরোপীয় অনুপ্রেরনায় নতুন স্থাপত্যরীতিতে গড়ে উঠে পানাম নগরী। পরবর্তীতে ইংরেজরা এখানে নীলের বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তুলে।

শহরটিতে ঔপনিবেশিক আমলের প্রচুর দোতলা এবং একতলা বাড়ি রয়েছে। যার বেশির ভাগই ঊনবিংশ শতাব্দির (১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের)। মুলত পানাম ছিলো হিন্দু ধনী ব্যবসায়ীদের বসতক্ষেত্র। হিন্দু ব্যবসায়ীদের ব্যবসাছিল ঢাকা-কলকাতা জুড়ে। তারাই গড়ে তোলেন এই পানাম নগরী। ১৬১১ খ্রিস্টাব্দে মোঘলদের সোনারগাঁও অধিকারের পর সড়ক ও সেতু নির্মানের ফরে সরাসরি রাজধানীর সাথে পানাম এলাকার যোগাযোগ স্থাপিত হয়। পানাম নগরীর তিনদিকের খাল-বেষ্টনী থেকে বোঝা যায় পানাম সোনারগাঁর একটা উপশহর ছিলো। সুলতানী আমল থেকে এখানে বাংলার সংস্কৃতি বিকশিত ছিলো।

বিবরণঃ- পানাম নগরীর পরিকল্পনা ছিল নিখুঁত। পানামে টিকে থাকা বাড়ী গুলোর মধ্যে ৫২টি বাড়ী অন্যতম। পানাম সড়কের উত্তরে রয়েছে ৩১টি এবং দক্ষিনে রয়েছে ২১টি বাড়ী। বাড়ী গুলোর স্থাপত্যে ঔপনিবেশিকতা ছাড়াও মোঘল, গ্রিক, গান্ধারা স্থাপত্যশৈলী এবং স্থানীয় কারিগরদের শিল্পের কুশলতার অপূর্ব সংমিশ্রন দেখা যায়। প্রতিটি বাড়ির কারুকাজ, রঙের ব্যবহার কুশলতায় ভরপুর। ইটের সঙ্গে ইটের ব্যবহার, মেঝেতে লাল, সাদা, কালো মোজাইকের কারুকাজ। প্রায় বাড়ীতে ছাদের মধ্যবর্তী স্থানে নীল ও সাদা ছাপ দেখা যায়। এছাড়া বেশির ভাগ বাড়ীর ঘেরাটোপের ভিতর আছে উন্মুক্ত উঠান।
নগরীর ভিতর আবাসিক ভবন ছাড়াও আছে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, মঠ, গোসলখানা, নাচঘর, পান্থশালা, চিত্রশালা, দরবার কক্ষ ও গুপ্ত পথ। এছাড়া আছে ৪০০ বছরের পুরোনো টাঁকশাল বাড়ী।

যেবাবে যাবেনঃ- প্রাইভেটকার অথবা মাইক্রোবাস নিয়ে সরাসরি লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে যেতে পারবেন। যদি বাসে যেতে চান গুলিস্থান থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ মোগড়াপারা চৌরস্তায় নামতে হবে। মোগড়াপারা বাসষ্ট্যান্ড থেকে প্রায় ০২ কিঃ মিঃ অভ্যন্তরে সোনারগাঁ যাদুঘরের অবস্থান এবং তার সাথেই রয়েছে পানাম নগরী।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন