বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০১:৩৯:৫২ পিএম

মিমাংসার পর বেঁধে নির্যাতন, পরে মামলা

আতিকুর রহমান | জেলার খবর | ঝিনাইদহ | বুধবার, ১০ মে ২০১৭ | ১০:৩৬:৩২ এএম

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়নের মহামায়া গ্রামের তুহিন রেজা নামের এক যুবককে মালেয়েশিয়ায় পাঠিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে একই গ্রামের আদম ব্যাপারি ফারেজুল ইসলাম মধু ও তার স্ত্রী মাজেদা খাতুনকে বেঁধে দলেচটকে মধ্য যুগিও কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

খবর পেয়ে রাতেই বাজার গোপালপুর পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনা স্থলে যান এবং তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠান।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।অভিযুক্ত ফারেজুল ইসলাম মধু জানান, তুহিনের পিতা ইসলাম এবং আমি একই সাথে গরু ব্যবসা করতাম। তার ছেলে তুহিনকে বিদেশ পাঠানোর জন্য উদ্যোত হলে আমার পরিচিত একজনকে দিয়ে মালেয়েশিয়ায় পাঠাই। সেখানে দালালদের খপ্পরে পড়েন এবং সকল প্রকার দোষি আমাকে করা হয়।

শেষ পর্যন্ত আমার নামে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি মামলা করেন। যা পরে চেয়াম্যানের মাধ্যমে ২লাখ টাকায় মিমাংসা করি। গতদিন যে ঘটনা ঘটেছে তা পরিকল্পিত ভাবে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়েছে। তারা নগদ টাকা এবং স্ত্রীর চেইন, ঘরে রাখা এক জোড়া বালা লটপাট করাসহ আমার বাড়ি ঘর ভাংচুর করা হয়েছে। আমাদেরকে বেঁধে রেখে যে ধরনের নির্যাতন করা হয়েছে তা উদ্ধারকারি পুলিশ ভাইয়েরা দেখেছে। খবর পেয়ে রাতেই বাজার গোপালপুর পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনা স্থলে এসে উদ্ধার না করলে দু’জনকে মেরেই ফেলতো।

এই ঘটনায় সদর থানায় আজগর আলি ব্যাপারির ছেলে ইসলাম (৫৪), ইসলামের দুই ছেলে তুহন রেজা (২৮) ও সুমন হোসেন (২৫), কিয়ামের ছেলে ছাব্দার আলি (২৮) আয়েব হোসেনের ছেরে রিংকু (২৫) মহাতাপ হোসেনের ছেলে রবিউল ইসলাম (৩২) এবং আজগর আলির ঘরজামাই খয়বর হোসেন (৪২) সহ অঞ্জাত আরো ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। মামলাটি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।হাসপাতালে চিকিৎসারত মধু এবং মাজেদা খাতুনের সম্পর্কে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তাদের দুজনকে ছেঁচা মার দেয়া হয়েছে। দুজনারই তলপেটে মারাক্তক ভাবে আঘাত করা হয়েছে।

প্রসাবের সাথে মাঝে মধ্যে রক্ত বের হচ্ছে। সেখানে রক্ত জমাট বেঁধেছে। এছাড়া মাজেদার চোখের নিচে আঘাতে কেটে গেছে সেখানে দুটি সেলাই দেয়া হয়েছে। দুজনকেই পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে।মামলার বিষয়টি ঝিনাইদহ সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেন্দ্রনাথ সরকার নিশ্চিত করেছেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন