সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:১৪:২০ পিএম

থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির পাখি

আতিকুর রহমান | জেলার খবর | ঝিনাইদহ | বুধবার, ১০ মে ২০১৭ | ১১:০০:৪৯ এএম

একসময় সকাল সন্ধ্যায় পাখিদের কিচির মিচির শব্দে মুখরত থাকতো ঝিনাইদহ জেলার প্রতিটি উপজেলা প্রতিটি গ্রাম। বনাঞ্চল উজাড় ও খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি পাখি। এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চল এখন প্রায় পাখি শূন্য।

মহেশপুরে পাখিদের বিচরণ ও আবাসন ছিল নিরাপদ। মহেশপুর উপজেলার আজামপুর ইউনিয়নের দোবিলা, স্বরূপপুর ইউনিয়নের উকড়ীর বিল, চাপাতলার বাওড়, শ্রীনাথপুর বাওড়, অনন্তপুর বাওড়, পোড়াপাড়া বাওড়, তালসারের পেতের বিল, নেপা বাওড়সহ বিভিন্ন ছোট বড় খালবিলে ও এলাকার বনাঞ্চলে পাখিদের বিচরণ ছিল নিরাপদ আশ্রয়।

আজ থেকে কয়েক বছর আগেও এ অঞ্চলে নানা জাতের দেশি-পাখির মধ্যে ঘুঘু, দোয়েল, টুনটুনি, কোকিল, কাক, ডাহুক, শামুক কেচু, কুলি, মাছরাঙ্গা, শ্যামা, ময়না, টিয়া, ফিঙ্গে, বুলবুলি, সারস, বক, সালিক, শামুক ভাঙ্গা, বাবুইসহ নানা প্রাজাতির পাখি নজর কেড়ে নিত। বর্তমানে এসব পাখি দেখা যায় খুবই কম।

এই এলাকার খালবিল নদীতে পলি পড়ে ভরাট হওয়ায়, নির্বিচারে বনাঞ্চল উজাড় করে ইট পোড়ানের কাজে ব্যবহার করায় এবং ইটভাটার ধোয়ায় পরিবেশ দূষন হওয়ায়, জমিতে কীটনাশক ঔষধ প্রয়োগ করায় এলাকায় পাখিদের আবাসস্থল ও প্রজনন কমে যাওয়ায় আজ পাখি শূণ্য হতে চলেছে। তাছাড়া জনসংখ্যা বিস্তার লাভের কারণে বসতি এলাকার পরিধি বেড়ে যাওয়ায় বৃক্ষ নিধনের কারণেও পাখিদের বিচরণের পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে।

এক শ্রেণির শিকারীরাও নির্বিচারে পাখি শিকার করায় পাখিদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। যদি সরকারী ভাবে দেশি পাখিদের সংরক্ষণের উদ্যোগ না নেয়া হয় তবে একদিন পুরো এলাকা পাখি শূণ্য হয়ে যাবে যা পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন এলাকার সূধীজনেরা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন