রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ ১২:৩১:৪৪ এএম

ওজন বাড়ানোর স্বাস্থ্যসম্মত উপায়

লাইফস্টাইল | সোমবার, ১৫ মে ২০১৭ | ০৩:১০:২৮ পিএম

সবসময় ওজন কমানোর পেছনে ছুঁটে মানুষ। কিন্তু কিছু মানুষকে দেখলে মনে হয়, জোরে বাতাস আসলে সে উড়ে যাবে। তারা নিজেদের আরেকটু স্বাস্থ্যবান করার জন্য অনেক চেষ্টা করে। কিন্তু তা আর হয়ে উঠে না। তাই চিকন ও পাতলা মানুষের দুঃখ কিছুটা লাঘব করার জন্য আজকের এই আয়োজন।

আপনারা সবাই জানেন, উচ্চ ক্যালরী যুক্ত খাবার বা জাঙ্কফুড খেলেই ওজন এবং ফ্যাট বাড়ে। প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে ওজন বাড়ানোর জন্য বেশি বেশি আলু, ফাস্টফুড, মিস্টি, কোল্ড ড্রিংক্স এইগুলা খেতে থাকব?

হ্যাঁ খেতে পারেন, ওজন ও বাড়বে কোন সন্দেহ নেই। লজিক তো তাই বলে! ফ্যাটি খাবার খেলে ওজন বাড়বে, কিন্তু সমস্যা হল সবার ন্যাচারাল ডাইজেস্ট সিস্টেম বা মেটাবলিজম সমান নয়।

আপনি যখন ই বেশি বেশি জাঙ্কফুড খাবেন ওজন বাড়ানোর জন্য, আপনার ডাইজেস্ট সিস্টেমের উপর চাপ পড়বে। দেখা গেল ওজন বাড়াতে গিয়ে উল্টো আরও অসুস্থ্য হয়ে পড়বেন।

শরীর ঠিকঠাক আছে কিনা সেটা বোঝার একটা ভালো উপায় হলো ‘বডি মাস ইনডেক্স’ বা উচ্চতা ও ওজনের অনুপাতের হিসাব। সে অনুযায়ী ওজন কম হলে বিষয়টা ভাবা প্রয়োজন। কেননা অতিরিক্ত ওজন যেমন স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক তেমনি অতিরিক্ত ওজনহীনতাও বিপদ ডেকে আনতে পারে। হালকা-পাতলা শরীরটায় বাসা বেঁধে থাকতে পারে রক্তশূন্যতা, ঝামেলা থাকতে পারে পরিপাকের। এ ছাড়া মেয়েদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণের ঝুঁকি ও হাড়ের দুর্বলতাও চিন্তার বিষয়। ফলে ওজন বাড়ানোর প্রয়োজন হলে নিম্নোক্ত পরামর্শ মেনে চলার চেষ্টা করতে পারেন।

ওজন বাড়াতে হলে খেতে হবে। যা খুশি তা-ই খেলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি। ভারসাম্যপূর্ণ পুষ্টিকর খাবার। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটের যথাযথ সমন্বয় থাকতে হবে খাবারে। মাংসপেশি গঠন আর ওজন বাড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিনের চাহিদা মেটানো গুরুত্বপূর্ণ। নানা ধরনের বাদাম, দুধ ও দুধজাত খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাবে।

ওজন বাড়াতে হলে আগে ক্ষুধা বাড়াতে হবে। ক্ষুধা বাড়ানোর জন্য হজমে সহায়ক পানীয় পান করুন। সারা দিনে ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি খান। তবে, খেতে বসার ঠিক আগে পানি খাবেন না বা খাওয়ার মাঝখানেও পানি খাবেন না। এতে ক্ষুধা নষ্ট হয়ে যায়।

সকাল-দুপর-রাতের ভারী খাবারের মাঝে বারবার এটা-সেটা খাবেন না। কেউ কেউ বলেন দিনে তিন থেকে পাঁচ বেলা ভারী খাবার খাওয়াটাই ভালো। বেছে বেছে পুষ্টিকর খাবারে পেট ভরাতে হবে। হালকা-পাতলা শরীরে বারবার হাবিজাবি ভাজাপোড়া বা ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার খেয়ে ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে।

আপনার হালকা-পাতলা শরীর দেখে কাছের মানুষেরা হয়তো কেক-পেস্ট্রিসহ নানা অতিরিক্ত শর্করা জাতীয় খাবার খেতে উৎসাহিত করবেন। কিন্তু অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবারের বিষয়ে সাবধান। ভিসেরাল ফ্যাট বা স্কিনি ফ্যাটের খপ্পরে পড়ে যেতে পারেন আপনি। এটা এমন চর্বিযুক্ত উপাদান যা হঠাৎ মেদ বাড়িয়ে না দিলেও দেহের ভেতরে নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যঙ্গে বাসা বাঁধতে পারে। তাই শর্করা খেতে হবে বেছে বেছে।

কলা ওজন বাড়ানোর জন্য চমৎকার একটি খাবার। প্রতিদিন ১-২টি পাকা কলা ও সাথে এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন নাস্তায়। এছাড়া প্রতিবার ভারী খাবার খাওয়ার পর একটি কলা খেতে পারেন যা হজমক্রিয়াকে উন্নত করে। এছাড়া কলা আর দুধ দিয়ে কলার শেক বানিয়েও খেতে পারেন।

দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাবার যেমন দুধ, মিষ্টি দই, পনির ইত্যাদি খাওয়ার পরিমান বাড়িয়ে দিন। তবে অবশ্যই কোনো কিছু অতিরিক্ত মাত্রায় খাবেন না। কারন আর ফলে বদজমের, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদির ঝুঁকি বেড়ে যায়। বাটার এবং ঘি নিয়মিত খান।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন