রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৬:২৪:২৬ এএম

হুজুগে বাঙালি, ‘ধর্ষণ’ এরকম কিছু হতেই পারে

খোলা কলাম | মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০১৭ | ০৪:০১:১৫ পিএম

সাদিয়া চৌধুরী।।

বাঙ্গালির শুধু ইস্যু দরকার। তারপর শুরু হয়ে যায় লাফালাফি। বিচার না হলে, ফাঁসি না হলে ঘরে ফিরবে না টাইপের আন্দোলন । আরে ভাই এক পক্ষ বললেই কি হয়ে যায় অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে যতক্ষণ অপরাধ প্রমাণিত না হয়? সাম্প্রতিককালে বনানী ধর্ষণ মামলা নিয়ে খুব আন্দোলন টক শোর পরিণতিতে আপন জুয়েলার্স নজরদারিতে আসলো ।

আপন জুয়েলার্স একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বহু কর্মচারী এখানে শ্রম দিয়ে পরিবারের ভরন পোষণ করেন । আপন জুয়েলার্সের যদি সরকারের কোন রীতি নীতি ভঙ্গ করে বা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে থাকে আইন অনুযায়ী তার ব্যবস্থা হবে , কিন্তু এখন যা হচ্ছে তা মনে হচ্ছে কিছুটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, নাহলে এতদিন এই সব বিষয় যে সংস্থা গুলোর নজরদারিতে থাকার কথা তারা কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন? নাকি টাকা তাদের চোখ মুখ বন্ধ করে রেখেছিল ? ঢাকায় নামি দামি বহু স্বর্ণের দোকান , আটকানোর ইচ্ছা হলে মোটামুটি অধিকাংশকেই কর ফাঁকি স্মাগ্লিং ইত্যাদিতে আটকানো যাবে ।

কিন্তু আটকাবে কে ? যাদের দায়িত্ব তাদের তো নির্লোভ হতে হবে । শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কেন প্রত্যেকটি নাগরিক আইন মেনে চলুক আইনের প্রয়োগ হোক এটা ব্যক্তিগত ভাবে চাই কিন্তু কারো উপর প্রতিশোধ স্পৃহায় কিছু হোক তা কোন ভাবেই কাম্য নয় ।

বনানী ধর্ষণ ঘটনা নিয়ে আমি কোন মন্তব্য এখনও করিনি শুধু বিভিন্ন জনের মন্তব্য পড়েছি , টক শো দেখেছি , প্রথম কয়দিন সব সংবাদ পড়ে যা ও মনে হয়েছিল হয়ত বা সত্যি ধর্ষণ হয়েছে কিন্তু ধর্ষিতা দাবী কারী মেয়েটির ভিডিও সাক্ষাৎকার দেখে আমার মতামত বদলাতে বাধ্য হই অর্থাৎ সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে । আইনের সাথে যারাই আপনারা একটু পরিচিত বা চোখ কান খোলা মানুষ খুব সহজ কিছু জিনিষ বুঝতে পারবেন ভিডিও সাক্ষাৎকার টি দেখলে ।

এই ভিডিও সাক্ষাৎকার টি তাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দেখা দেবে বলেই আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে মনে হয় । অনেক অসামাঞ্জস্য মেয়েটির কথায় ।

১। তারা পূর্ব পরিচিত , বেশ কয়েকবার দেখা সাক্ষাত , খাওয়া দাওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে

২। দাওয়াতে তারা ৪ জন গিয়েছে , তারমধ্যে একজন ডাক্তার , একজন ডাক্তার উনি মেয়ে গুলোর ক্লাস ফ্রেন্ড তো নন , অবশ্যই বেশ কয়েক বছরের সিনিয়র উনি , উনি কিভাবে এত কাছের বন্ধু হন মেয়েগুলোর ?

৩। অন্য আরেকজন মেয়ে ছিল তাকে তারা ধর্ষণ করেনি কেন ? তাকে কেন খাতির করা হোল ? তাকে কি পছন্দ হয় নাই ? এখন সে কোথায় ?

৪। ধর্ষিতা দাবী কারী মেয়ে দুটোর বাবা মা কোথায় এবং তাদের পেশা কি ? তারা বনানী তে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তার খরচ কে বহন করে ?

৫। এটা যে সাজানো খেলা এটার সব চেয়ে বড় প্রমান ৭০২ নং রুম সেটা স্যুট এবং সেই রুমের নিখুঁত বর্ণনা , তারা নিজেরাই বলেছে তাদের জোড় করেই রুমে নেওয়া হয়েছে এবং অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ করেছে , ধর্ষণ কথা টি শুনলেই একটা মেয়ের মধ্যে ভীতি কাজ করে আর তারা তখন সেই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি , এমন পরিস্থিতিতে কোন মেয়ের পক্ষে হোটেলের রুমের এত সুন্দর বর্ণনা কি দেওয়া সম্ভব ? তাও রাতের বেলায় যেসময় আলো আধারি থাকে , এটা সাইকলজিস্টরা ভাল বলতে পারবেন ।

৬। আরও অবাক করা বিষয় মেয়েগুলো ধর্ষক দের সাথে বেশ কয়েকবার দেন দরবারও করেছে , সেটাও তারাই বলেছে এটাও কিন্তু একজন ধর্ষিতা মেয়ে যে কিনা মানসিক শারীরিক সব দিক থেকেই ভঙ্গুর অবস্থানে থাকে তা তার পক্ষে এত সহজ করে সম্ভব কিনা তাও বিশেষজ্ঞ গণ ভাল ভাবে বলতে পারবেন ।

৭। সর্বোপরি শিক্ষিত মেয়ে খুব ভাল ভাবেই জানে যে ধর্ষণের পর ৪০দিন পার হয়ে গেলে কোন আলামত থাকেনা , এটা না জানার প্রশ্নই আসেনা , এমনকি ধর্ষণের পর গোসল করলেও আলামত নষ্ট হয়ে যায় । তাহলে এখানে সহজ প্রশ্ন আসে সেটা কি ধর্ষণ ছিল নাকি আধুনিক যুগের বন্ধুদের মাঝে সমঝতার মাধ্যমে মেলামেশা নাকি সুবিধা ভোগী হিসাবে মেলা মেশা ?

যাই হোক আমার মনে হয়েছে অনেক ফাঁক ফোঁকর আছে , বড় বড় আইনবিদ্গন অনেক ভাল বলতে পারবেন । আরও সহজ হয়ে যাবে যদি জানা যায় মেয়েদের বাবা মা কোথায় থাকেন কি পেশা তাদের , মেয়েদের সামাজিক অবস্থান টি অনেক ইম্পরট্যান্ট এই মামলায় ?

ধর্ষণ সহ সবধরনের অন্যায়ের শাস্তি হোক এটাই কাম্য কিন্তু তারমানে এই নয় অন্যায় না করেও কারো শাস্তি হোক । এমন যাতে না হয় কোন
প্রমান ছাড়াই কেউ কাউকে ধর্ষণ বা অন্য কোন অভিযোগ এ হয়রানি করতে পারে । কেউ ধর্ষিতা হলে আমরা তার জন্য ন্যায় বিচার অবশ্যই চাইবো কিন্তু এটাও খেয়াল রাখব মিথ্যা মামলায় যাতে কাউকে ফাঁসানো না হয় , আমাদের প্রত্যেকের ঘরেই পুরুষ সদস্য ও আছে , নাহলে একসময় তাদের প্রতিও অন্যায় হবে । খুব জানতে ইচ্ছা হচ্চছে তনু নামে যে মেয়েটা কঠিন নির্যাতিত হয়ে মারা গেলো তার হত্যাকারীরা কি ধরা পরেছে , ধর্ষিত হওয়ায় যে মেয়েটি বাবার সাথে একত্রে আত্মহত্যা করে বাঁচল তাদের আসামীরা কি ধরা পরেছে ? । তারা কেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে ? তারা কি এই ধনীর দুলাল দের চেয়ে কম দোষী , না তারা কিন্তু প্রমানিত অপরাধী কারন ওই অভাগা মেয়েগুলো ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে তা চিকিৎসক গণ দ্বারা প্রমানিত । সমাজের একটি অংশ আপনারা একটু সময় নিয়ে বুঝে লাফালাফি করলে বোধহয় ভাল হয় । আরেক জনের কথা আমার খুব মনে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা উনার নাম টা এই মুহূর্তে মনে আসছেনা নামের শেষ অংশ মনজুর খুব সম্ভবত উনার চোখে আঙ্গুল দিয়ে স্বামী অন্ধ করে দিয়েছিলেন উনি এখন বহাল তবিয়তেই আছেন কিন্তু উনার আসামী স্বামী বন্দী অবস্থায় কিভাবে মারা গেলেন ? উনিও তো ন্যায় বিচারের অধিকারী ছিলেন । উনার কি স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল ? এক চোখা নীতি অনুসরণ করাই অন্যায় । আমি নারী বলেই আমাকে নারীর পক্ষে কথা বলতে হবে নাহলে আমি নারীবাদী হবোনা এটা যুক্তি সঙ্গত নয় । সর্বোপরি আমি মানুষ আমি নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াবো সে হোক পুরুষ হোক নারী ।

আজ আপন জুয়েলার্সের ব্যবসায়িক যে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এটা আল্লাহ প্রদত্ত উনার অহংকারের শাস্তি পাচ্ছেন উনি কারন আল্লাহ অহংকার কেই সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করেন, সামলে না চললে সেটা যে কোন সময় যে কারোরই হতে পারে , এতে খুশি হবার খুব বেশি কিছু নেই , ধর্ষিতা দাবী কারী মেয়েদের চেয়ে আমার সাফাত কেই বেশি অসহায় মনে হয়েছে , কারন অনেক কিছুই সে স্বাভাবিক ভাবেই করে এসেছে বাপের টাকার জোড়ে , ফুর্তি করাও তার মধ্যে একটা , কিন্তু ওই মেয়েগুলো যদি মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের হয়ে থাকে তারা কেন এমন বন্ধু বলয় গড়ে তুলবে যারা তাদের সহপাঠী ও নয় পারিবারিক বন্ধুও নয় , আমার মেয়েকে তো আমি কখনই যেতে দেবনা এবং সে ও যাবেনা । আমরা আদালতে এখন হরহামেশাই দেখি অনেকাংশে নারী নির্যাতন মামলা পুরুষদের হয়রানি করার জন্যই দায়ের করা হয় , আমি সমাজের সচেতন নাগরিক এবং সন্তানদের মা হিসাবেই চাই প্রকৃত দোষীর শাস্তি হোক সেখানে নারী পুরুষ হিসাবে কোন বিভেদ বা কোন পক্ষ অযাচিত সুবিধা ভোগী যাতে না হয় ।

লেখক: ব্যবসায়ী

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন