বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৭ ১০:৫০:৪২ এএম

‘প্রতিবাদের নামে মানুষকে কষ্ট দেওয়া চলবে না’

রাজনীতি | বৃহস্পতিবার, ১৮ মে ২০১৭ | ১১:৩৪:৫৬ পিএম

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘প্রতিবাদের নামে হাজার হাজার মানুষকে কষ্ট দেওয়া চলবে না।’

বৃস্পতিবার সন্ধ্যায় রমনার গ্রিন রেস্তোরাঁয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ছাত্রী হল শাখার নেত্রীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঢাবির এক ছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর কেন হবে? কেন অবরোধ হবে? একটি মৃত্যুর প্রতিবাদ করতে গিয়ে অবরোধে আটকা পড়া মুমূর্ষু রোগী মারা গেলে তখন কী হবে? ডাক্তারের জন্য রোগী মারা গেলে শাস্তি পাবে ডাক্তার, হাসপাতালে কেন ভাঙচুর হবে? প্রতিবাদের নামে হাজার হাজার মানুষকে কষ্ট দেওয়া চলবে না।’

হাওর অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা ঢাকা বসে এত বড় বড় কথা বলছেন। তাদের নেত্রী (খালেদা জিয়া) যিনি তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, তিনি কি একবারও হাওরে গিয়েছেন? বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একবার হাওর অঞ্চলে গিয়েছিলেন? তিনি দুর্গত মানুষের কোনো সাহায্য দেননি? যারা সেখানে সাহায্য নিতে এসেছিল তারা খালি হাতে ফিরে গেছেন। আসলে তিনি গিয়েছিলেন সেখানে ফটোসেশনের জন্য। এর পর ঢাকায় এসে এটা নিয়ে বড় বড় কথা বলছেন।’

ওবায়দুর কাদের বলেন, ‘বিএনপি যে গণতন্ত্রের কথা বলে, আসলে তাদের মুখে গণতন্ত্রের বুলি মানে ভূতের মুখে রাম নাম। তারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা বলে। তাদের বহুদলীয় গণতন্ত্র ছিল রাতের বেলায় কারফিউ আর দিনের বেলা খাল কাটা।’

বিএনপির গণতন্ত্রকে ম্যাজিকের তাস অভিহিত তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন তারা বর্জন করল গণতন্ত্র উদ্ধার করবে বলে। তখন তারা কত মানুষ পুড়িয়ে মারল। তারা ১৬৫ জন মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করল। অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালালো। এর আগে হেফাজতের সমাবেশ দেখে খালেদা জিয়া গদ গদ হয়ে ঢাকাবাসীকে যোগ দিতে আহ্বান জানালেন। এরপর আমরা বায়তুল মোকররম মসজিদে আগুন জ্বলতে দেখলাম। সেখানে কোরআন শরিফ পুড়ল। এটা কি বিএনপির গণতন্ত্র? পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ মারা কি তাদের গণতন্ত্র? তাদের গণতন্ত্র আসলে ম্যাজিকের তাস। কথায় কথায় রং বদলায়। কখনো বিবি, কখনো গোলাম।’

ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাদের আকর্ষণীয় হতে হবে। মেধা, বুদ্ধি, যোগ্যতা, দক্ষতা দিয়ে তাদের আকর্ষণীয় হতে হবে। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের এমন কিছু করা যাবে না যাতে শেখ হাসিনার কষ্ট হয়।’

ছাত্রলীগের দুই-একজনের খারাপ আচরণে শেখ হাসিনার উন্নয়ন, অর্জন যেন নষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গতকাল নিজের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের জন্য দলের ভেতরের ষড়যন্ত্রকারীদের দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই প্রতিক্রিয়ায় আজ বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের জবাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এগুলোর প্রতিক্রিয়া দেবে হাছান (হাছান মাহমুদ), তার ওপরে হানিফ (মাহবুব উল আলম হানিফ), আরো উপরে আমি দেব।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সামছুন্নাহার চাঁপা, কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন