মঙ্গলবার, ৩০ মে ২০১৭ ০৪:৫৪:৩৪ এএম

ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাতের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ফাঁস হওয়ায় দারুণ বিব্রত ‘ধর্ষিতা ছাত্রী’!

বিবিধ | শুক্রবার, ১৯ মে ২০১৭ | ০৫:২২:৫৬ পিএম

রাজধানীর বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি নাঈম আশরাফের (মো. আব্দুল হালিম) বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ জামান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার অন্যতম আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের পুত্র সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমানকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। সাফাতের গাড়ি চালক ও দেহরক্ষীও রিমান্ডে রয়েছে।

এরই মধ্যে সেদিন রাতে ধর্ষণের অভিযোগ আনা দুই ছাত্রীর সঙ্গে প্রধান তিন আসামির অনেক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এরমধ্যে প্রধান আসামি সাফাতের সঙ্গে এক ছাত্রীর আপত্তিকর ছবিও রয়েছে। আর এই ছবি ফাঁস হওয়ায় বিব্রত হয়ে পড়েছেন সেই ছাত্রী।

তবে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্যই ফেসবুকে ছবি পোস্ট করা হয়েছে বলে দাবি করে এক ছাত্রী জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া যারা আমার ছবি পোস্ট দিচ্ছেন তারা সম্মানহানির চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় আইনের সহায়তা চেয়ে আইসিটি অ্যাক্টে মামলা করবো।

মামলা করার বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমকে ওই ছাত্রী বলেন, একটা ছবি জোরপূর্বক তোলা হয়েছিল। পরে ফোন করে হুমকি দিয়ে বলা হয় যে তারা সেসব ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেবে।’

তিনি আরও বলেন, এর বাইরে কিছু ছবি তারা ফটোশপের মাধ্যমে মাথা কেটে অ্যাডজাস্ট করে ফেসবুকে দিয়েছে। আর ক’টা ছবি আমাদের ফেসবুক থেকে নিয়ে কারসাজি করে দিয়েছে।

কে বা কারা করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নিজেও জানি না ঠিক করা এ বাজে কাজগুলো করছে। তবে আমি যেসব পেজ ও ফেসবুক ওয়াল থেকে ছবিগুলো দেখতে পেয়েছি সেসবের তালিকা করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

তিনি বলেন, আইসিটি অ্যাক্টে মামলা করবো। আইনের আশ্রয় নেবো। যে বা যারা এ ধরনের ছবি পোস্ট দিয়ে আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে তাদের যেন শাস্তি হয় সেজন্যই মামলা করবো।

এর আগে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি সাফাতের বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ বলেন, ‘তারা সেদিন রাতে এবং এর আগে ও পরে কী কী করেছেন, আরও ছবি পাওয়া যাবে’।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বলেন, মামলার পর সঠিক তদন্ত হলে ফেসবুকে কে বা কারা আপত্তিকর ছবি পোস্ট করেছে, ছবি কারা কোন স্বার্থে জোগান দিয়ে সহযোগিতা করেছে সবই বেরিয়ে আসবে।

এর আগে ঢাকার মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে অভিযান চালিয়ে নাঈম আশরাফ ওরফে নাঈম ওরফে এইচএম হালিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ সদরের বিশেষ টিম ও ডিবি পুলিশের একটি দল। বাদীদের ভাষ্য অনুযায়ী- সেদিন রাতে নাঈমের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত ছিল। গ্রেফতারের পর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ওমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন্সের তদন্ত কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে।

এই ঘটনায় বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিমান্ডের প্রথম দিনে মামলার অন্যতম আসামী নাঈম আশরাফের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায় রিমান্ডের প্রথম রাতেই জিজ্ঞাসাবাদে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে নাঈম আশরাফ। গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, তার বান্ধবীর সংখ্যা কত এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাঈম আশরাফ ২ শতাধিক বান্ধবীর কথা উল্লেখ করেছেন। আর নাঈমের এত বান্ধবীর সংখ্যা শুনে কিছুটা অবাকই হয়েছেন গোয়েন্দা কর্তারা।

এদিকে এই দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠেছে সারাদেশের মানুষ। পাশাপাশি চর্চা হচ্ছে ‘ধর্ষক’ নাঈম আশরাফের সেলফি নিয়ে। বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন শোবিজের অনেকে। তেমনই একজন ছোট ও বড়পর্দার তারকা মৌসুমী হামিদ। এ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী।
সেলফি প্রসঙ্গে মৌসুমী বলেন, “২০১৫ সালে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত নেপালের সহযোগিতায় ‘কনসার্ট ফর নেপাল’-এ আমাদের এক সহকর্মীর আমন্ত্রণে কলাবাগান মাঠে গিয়েছিলাম। সেখানে কনসার্টে পার্থ বড়ুয়াসহ অনেক সেলিব্রিটি অংশ নেন। সেই সময় ছবিটি তোলা হয়। কারো চেহারা দেখে তো ভালো-মন্দ বোঝা যায় না। তবে সম্প্রতি ধর্ষকের সঙ্গে ওই ছবি নিয়ে অপপ্রচার করা নিয়ে আমি খুব বিব্রত।”

তিনি আরো বললেন, ‘নাঈমের সঙ্গে ওই একবারই আমার দেখা হয়েছে। এর আগে অরিজিৎ সিং ও নেহা কাক্করের কনসার্টে পারফর্ম করার জন্য আমাকে সে বলেছিল। তবে যে কোনো কারণ বশত কাজটি করিনি।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌসুমী জানালেন, রাজধানীর একটি হাসপাতালে রয়েছেন তিনি। সেখানে কয়েকদিন ধরে তার এক আত্মীয় চিকিৎসাধীন।

এ অভিনেত্রী আরো বলেন, ‘একটা খুনের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড না হলেও ধর্ষণের শাস্তি অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। প্রত্যেকটা ধর্ষণ মামলার বিচার যেন অবশ্যই এবং দ্রুত কার্যকর করা হয়। এটা পৃথিবীর জঘন্যতম অপরাধ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এবারো যদি ওরা টাকার জোরে দু’দিন পর ছাড়া পায় আমার মনে হয় আমাদের দেশের সাধারণ জনগণ সবাইকে চিনে ফেলেছে। সবার ছবি লক্ষবার দেখেছে সবাই। সারাজীবন তো ঘরের মধ্যে থাকবে না। বের তো হতেই হবে। বাকিটা বুঝে নেন। তারা মিডিয়ার শক্তি সম্পর্কে জানে না। স্টপ রেপ।’

এর আগে গণমাধ্যমে নাঈমের ছবি দেখে তাকে হালিম বলে শনাক্ত করেন সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের গাইন্দাইল গ্রামের বাসিন্দারা। হালিম ওই গ্রামের ফেরিওয়ালা আজমদাজ হোসেনের ছেলে। এলাকায় প্রতারক হিসেবে তার পরিচয় ছিল।
গ্রামবাসী ভাষ্য, হালিম প্রভাবশালী বিভিন্ন জনকে তার বাবা পরিচয় দিয়ে নানা সুবিধা আদায় এমনকি বিয়েও করেছিল দুই বার।

ঢাকায় এসে নাঈম আশরাফ নাম নিয়ে ‘ই-মেকার্স’ নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান খুলে ২০১৪ সালে ভারতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের কনসার্টের আয়োজন করেন তিনি।

২০১৬ সালে ঢাকায় ভারতের আরেক শিল্পী নেহা কাক্কারকে নিয়ে ‘নেহা কাক্কার লাইভ ইন কনসার্ট’ অনুষ্ঠানের আয়োজনও করেন নাঈম বা হালিম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাঈম বিভিন্ন জনের সঙ্গে নিজের সেলফি দিতেন, যা সুবিধা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত বলে এখন মনে করছেন ওই ছবিতে থাকা ব্যক্তিরা।

নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে হালিম এলাকায় পোস্টার-ব্যানারও লাগাতেন; যদিও সংগঠনে তার কোনো পদ ছিল না বলে জানান স্বেচ্ছাসেবক লীগের কাজীপুরের নেতারা।

আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাতের সঙ্গে নাঈমের নিবিড় ঘনিষ্ঠতার কথা সাফাতের সাবেক স্ত্রী ফারাহ মাহবুব পিয়াসাও জানিয়েছেন।

গত ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে দুই তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার ৪০ দিন পর গত ৬ মে এক তরুণী বনানী থানায় একটি মামলা করেন।

বনানীর ‘দ্যা রেইন ট্রি’ হোটেলের জন্মদিনের পার্টিতে আমন্ত্রণ করে ওই দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬ মে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এতে পাঁচ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ মার্চ রাত ৯টার দিকে রেইনট্রি হোটেলে আহমেদ শাফাতের জন্মদিনের নিমন্ত্রণে যান ওই দুই তরুণী। মধ্যরাতে জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর শাফাত ও নাঈম হোটেলের দুটি কক্ষে আটকে রেখে তাদের ধর্ষণ করে। সাদমান সাকিফ, বিল্লাল ও আজাদ ধর্ষণে সহায়তা করেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১১ মে এই মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার (১৫ মে) সন্ধ্যার পর রাজধানীর নবাবপুর ও গুলশান থেকে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলী ওরফে আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আলোচিত দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের সেই রাতে আরো তিন তরুণীর সঙ্গে ফুর্তি করেছিল সাফাত আহমেদ। এর আগে শরীরে শক্তি বাড়াতে ইয়াবা সেবন করে নেয়। শুধু তাই নয়, এমন আরো দুই ডজন তরুণীর সঙ্গে সময়ে-অসময়ে মিলিত হতো।
মাত্র ব্যতিক্রম ঘটেছে আলোচিত দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ক্ষেত্রে। তাদের জন্মদিনের পার্টির কথা বলে নিয়ে গিয়েছিল সাফাত। আর ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে লুটে নেয় ইজ্জত। এতেই ঘটে বিপত্তি।

ডিবি কার্যালয়ে রিমান্ডে নানা তথ্য দিচ্ছে সাফাত। পুলিশকে জানিয়েছে, তার অগণিত বান্ধবীর কথা। জিজ্ঞাসাবাদে তার মধ্যে ঘনিষ্ঠ অন্তত দুই ডজন বান্ধবীর তথ্য দিয়েছে সাফাত আহমেদ।

যাদের সঙ্গে বনানীর কয়েক হোটেলে প্রায়ই দিনে-রাতে সময় কাটিয়েছে সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ। বান্ধবীদের প্রায় সবাই মডেল, উপস্থাপক, অভিনেত্রী, শিল্পী হিসেবে পরিচিত। প্রথম শ্রেণির কয়েক মডেল ও অভিনেত্রীর নামও রয়েছে এই তালিকায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত আহমেদের বেপরোয়া জীবনযাপন সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গাড়িচালক বিল্লাল। সেই সঙ্গে গানম্যান রহমতের কাছ থেকে ওই রাতের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

সাফাত আহমেদ জানিয়েছেন, বন্ধুদের উৎসাহে মাঝে মধ্যে পার্টি দেয়া হতো। এসব পার্টিতে অনেকেই অংশ নিতো। কোনো কোনো অভিনেত্রী, মডেল তার সঙ্গে দেশের বাইরে যেতে স্বেচ্ছায় প্রস্তাব করতেন। দুইজন আইটেম গার্ল ও একজন প্রতিষ্ঠিত মডেল ও দুইজন অভিনেত্রীর সঙ্গে ভারত ও মালয়েশিয়ায় অন্তরঙ্গ সময় কাটিয়েছিলেন সাফাত আহমেদ। সর্বশেষ মার্চে কলকাতায় একজনের সঙ্গে ছিলেন কয়েকদিন।

বনানী ও গুলশানের কয়েকটি হোটেলে ছিল তাদের রাতের আড্ডা। গুলশান-২ এর একটি হোটেলে ওই ঘটনার কয়েকদিন আগে ২৬শে মার্চ দুই মডেলের সঙ্গে মদের আড্ডা দিয়েছিলেন সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ। সেখানে প্রভাবশালী এক নেতার ছেলেও অংশ নিয়েছিলেন।

সাফাত দাবি করেছেন, তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হতো। এমনকি নগদ টাকা দেয়া হতো অনেক মেয়েকে। বান্ধবীদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছিলো তার। একবার তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে মেয়েরাই তাকে কল করে কথা বলতো। তারমধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এসব তরুণীদের সঙ্গে পরিচয়-সম্পর্কের সূত্রপাত করিয়ে দিতো নাঈম আশরাফ।

সাফাত আহমেদের কললিস্ট থেকে গোয়েন্দারা অনেক তরুণীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছে। সূত্রমতে, তাদের মধ্যে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক মডেলের বাসায় গিয়ে আড্ডা দিতেন সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ।

সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলতো তাদের আড্ডা। জিজ্ঞাসাবাদে সাফাতের দেয়া তথ্যমতে, যখন কোনো পার্টির আয়োজন করা হতো তখন পার্টিতে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করতে চাইতো অনেকে। তাদের সবাইকে একসঙ্গে ডাকা সম্ভব হতো না। তাই বাধ্য হয়েই পার্টির বিষয় সকল বান্ধবীদের জানাতেন না সাফাত। এ জন্য মিথ্যাও বলতে হতো তাকে। যে কারণে ২৮শে মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের নামে পার্টি করলেও তা ঘনিষ্ঠ অনেক বান্ধবীদের জানাননি।

একজন মডেল জানিয়েছেন, ২৭শে মার্চ তার সঙ্গে কথা হয়েছিলো নাঈম আশরাফের। নাঈম বলেছিলো সাফাত ও সে ২৮শে মার্চ সিলেটে যাবে। জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা পুলিশ তথ্য পেয়েছে ওই দিন ইয়াবা সেবন করেছিলো সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ।

যদিও শুরুতে ইয়াবা সেবনের বিষয়টি অস্বীকার করেছিলো সাফাত আহমেদ। বলেছিলো সে মদ পান করে, ইয়াবা না। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, তার বান্ধবীর সংখ্যা অনেক। অন্তত ২৪ জন ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর কথা জানা গেছে।

তাদের অনেকেই পরিচিত মুখ। তবে দুই তরুণী ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইসমত আরা এমি বলেন, রেইনট্রি হোটেলের ওই ধর্ষণ মামলার তদন্তের স্বার্থে যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ধর্ষণের অভিযোগে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার গাড়ি চালক বিল্লাল, গানম্যান রহমত ও নির্যাতিতা দুই তরুণীর বন্ধু সাদমান সাকিফকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন