বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৭:০৪:৫৩ পিএম

কুমিল্লা দক্ষিনের সুযোগ্য নেতাদের শুভ হালখাতা এবং অপ্রিয় কিছু ঐতিহাসিক সত্য!!

সম্পাদকীয় | মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০১৭ | ০৮:২৭:৪১ এএম

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং সর্ব অন্যতম জেলা গুলির মধ্যে কুমিল্লা একটি অন্যতম সুপ্রাচীন জেলা হিসেবেই সমাদৃত।স্বাধীনতা পূর্বাপর জেলাটির সাথে রয়েছে তেতো মিঠা অনেক ইতিহাস।
বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কুমিল্লার মানুষের রয়েছে অপরিসীম অবদান।

স্বাধীনতা পূর্বাপর চ্যালেঞ্জিং অবস্থান থেকে কুমিল্লার রাজনীতির চালকের আসনে বসে দেশীয় রাজনীতির অংশীদারিত্বে অংশ নেয়া যতটা ছিল কষ্টসাধ্য, একচেটিয়া আওয়ামী রাজনীতির বাইরে থেকে কোনো নেতৃত্ব তৈরী করাটা ছিল তার চেয়ে বেশি কঠিন চ্যালেঞ্জ।

দক্ষিণ কুমিল্লা তথা সমগ্র কুমিল্লার লৌহমানব খ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদারের উত্থান হয়েছিল তৎকালীন কুমিল্লার মানুষের রাজনৈতিক রক্ষাকর্তা হিসেবে।

লুটেরা ব্যবস্থাপনায় নিজের অঞ্চলের অধিকার আদায় করে পুরো সংসদীয় এলাকাতে সঠিক বাটোয়ারা করে, নিজেকে এবং নিজের জীবনের সকল আহ্লাদকে বিসর্জন দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করে গিয়েছিলেন নিরন্তর।

কিছু কুৎসা ছিল বৈকি, তাঁর নিজের দলের অন্তর্কোন্দলে সমালোচিত হতে হয়েছিলো বার বার।
নেতা কর্মীদের উশৃঙ্খল রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে কখনো কখনো ব্যর্থ হয়েছিলেন নিঃসন্দেহে।

তাঁর আমলেই দক্ষিণ কুমিল্লার ঐতিহাসিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছিল সবচে বেশি। বিশেষ করে তিনি ছিলেন শিক্ষানুরাগী, তাঁর নিজের জীবনে সবচে বেশি সময় কাটিয়েছিলেন নিজের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে।

তাঁর সবচে বেশি উপস্থিতি ছিল লালমাই ডিগ্রি কলেজে, নিজের প্রতিষ্ঠিত কলেজের অধক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন জীবনের শেষ অবধি।

তাঁর দেয়া সংসদের ভাষণ ১৯৮৬ সালে সর্বশ্রেষ্ট বক্তব্য হিসেবেসীকৃতি পেয়েছিল।
 কুমিল্লার বাঘ বলেই ডাকতেন অনেকে। তাঁর বলিষ্ঠ কণ্ঠের বক্তব্যে কেঁপে উঠতো সমগ্র পার্লামেন্ট।

তাঁর সবচে বিখ্যাত উক্তি ছিলো " ফসলের মাঠ বলে দেবে, কুমিল্লার কোথায় শুরু কোথায় শেষ " ।
স্বাধীনতা পরবর্তীতে কুমিল্লার শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষার মান ছিল অনেক ভালো, অন্যান্য জেলার তুলনায়।

এই শিক্ষার অগ্রগতিকে রুখে দিয়ে কালো আইনের মতো আইন করে কোটা ভিত্তিক চাকরি সুবিধা চালু করেছিলো এরশাদ সরকার।

সব ষড়যন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে কুমিল্লার মানুষের শিক্ষার জন্য লড়াই করে গেছেন. কিন্তু তার মৃত্যুর পর তার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কুমিল্লার শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে . 
এর পর থেকেই কুমিল্লার শিক্ষার মান নিন্মমুখি হতে শুরু করেছিলো, যা আজো বিদ্যমান।

আবুল কালাম মজুমদারের আমলে হত্যা লুট-তরাজের মাত্রাটাও কম ছিলোনা। তার তৈরিকৃত গুন্ডা বাহিনী ছিলো ভয়ঙ্কর। কথিত আছে, তিনি একদিকে যেমন মানুষের উপকার করতেন, অপরদিকে নিজেই অপকারের ছকটি আঁকতেন নিজের বাহিনী দ্বারা।

তবে তাঁর সময়ে উন্নয়নের কাছে এসব দুর্নাম অনেকটাই ছিলো ম্লান। 
তিনি একজন পুরোধা হিসেবে ছিলেন জনগণের কাছে।
তাঁর কাছ থেকে রাজনৈতিক শিক্ষা নিয়ে অনেকেই বড় বড় নেতা হয়েছেন।

জীবনের সায়াহ্নে তিনি ছিলেন একদম অসহায়। অনেকটাই একা হয়ে গিয়েছিলেন এই বলিষ্ঠ নেতা। পাশাপাশি পারিবারিক কোন্দলতা এবং নিজের দলীয় কর্মীদের অন্তর্কোন্দলই তাঁর রাজনীতিতে কোনঠাসা হয়ে যাবার কারণ ছিলো।

শেষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মতো আর্থিক এবং আইনি সুযোগ কম থাকায় তিনি নিজ থেকেই সুযোগ দেন জনাব মনিরুল হক চৌধুরীকে।
নিজের ভাইয়ের সাথে রাজনৈতিক কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন কালাম মজুমদার, সেই সুযোগ গ্রহণ করেন মনিরুল হক চৌধুরী।

শেষ জীবনে মনিরুল হক চৌধুরীর কাছেই নির্বাচনে হারেন এই অবিসংবাদিত নেতা, অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদার।
শেষ জীবনে নিঃস্বন্তান কালাম মজুমদার মরণ ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন. তাঁর চিকিৎসার ব্যয়ভার জোগানোটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায় নিজের পক্ষে।

সারাজীবন মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকা ব্যক্তিটি, নিজের জন্য তেমন কোনো টাকা কড়ি জমানো রাখেননি।
খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে মৃত্যুর কাছাকাছি চলে যান কিংবদন্তি এই নেতা।

ক্যান্সারের সাথে লড়াই করার মতো কারো সামর্থ নেই তা ঠিক, কিন্তু জনপ্রিয় সাবেক সাংসদ হিসেবে তাঁর পাশে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে শক্ত ভাবে কেউ দাঁড়ায়নি।

মৃত্যুর পর জানা গেছে তার ব্যাঙ্ক হিসাব নাম্বারে মাত্র ৫০০০ টাকা ছিলো।
তাঁর মৃত্যুর পর সমগ্র কুমিল্লা থেকে বৃদ্ধ বনিতা যুবক, হাজারো মানুষের কান্নায় বিনয়ী হয়েছিল বাগমারার আকাশ।
সেই সময়টাতে লোটাস কামাল সাহেবের নাম শুধুমাত্র বাগমারার গুটিকয়েক মানুষের গোচরে ছিলো।

অভাব অনটন থেকে উঠে আসা "আসমত আলীর" ( লোটাস কামালের স্কুলের নাম ) নাম আধুনিক নামে রংচটা পরিবর্তনে হয়তো অনেকেই চিনতে পারতেন না ।

বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেধাবী ছেলেটি বড়ো হয়ে এখন সেই স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষার খরচ জোগাতে সহযোগিতা করছে।

যিনি নিজেই লেখাপড়ার খরছ যোগাতে পারতেন না, তিনি আবার অন্যদের সহযোগিতার জন্য খুলে বসেছেন ফাউন্ডেশন । এইসব কারণে খুব তারাতারি মানুষের নজরে চলে আসেন লোটাস কামাল।

অনেকেই বলেন কামাল সাহেব যদি সহযোগিতা করতেন, তাহলে সিঙ্গাপুরে কালাম মজুমদারের চিকিৎসা আরো দ্রুত গতিতে হতো. কিন্তু তিনি যা করেছেন তা হয়তো সেই সময় পর্যাপ্ত ছিলোনা সঠিক চিকিৎসার জন্য।

অপরদিকে কালাম মজুমদারের উত্তরসূরি হিসেবে গলার মালা অপেক্ষা করছিলো মোস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামালের জন্য.
১৯৯৪ সালে কালাম মজুমদারের অন্তিম জানাজায় লোটাস কামাল সাহেব, কালাম মজুমদারের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তের ঘোষণা ও ওই এলাকার রাজনৈতিক দায়িত্ব নেন।

এর পর থেকেই ওই এলাকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যায়।

" ও হাঁ, আসল কথা বলতেই ভুলে গেছি"

কালাম মজুমদার সাহেব যখন নির্বাচিত সংসদীয় এমপি, তখন জনাব মনিরুল হক চৌধুরী সাহেব সদ্য ছাত্র রাজনীতি এবং মূল রাজনীতি থেকেও ইস্তফা দিয়ে ঘর ফেরত একজন সাবেক ছাত্র নেতা।

১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বিভিন্ন কারণে অবশেষে তিনি রাজনীতি থেকে দূরে সরে আসেন।

একই এলাকার রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এবং সাংসদ হিসেবে কালাম মজুমদারের খুব পরিচিত ছিলেন চৌধুরীসাহেব। নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্যতার কারণে অংশগ্রহণ করতে না পাড়ায় , মনিরুল হক চৌধুরীকে নিজ এলাকায় নির্বাচন করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন কালাম মজুমদার।

আওয়ামীলীগ ছেড়ে আসা সাবেক ছাত্রনেতা অতীত পরিচয়ে সহজেই পেয়ে গেলেন তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদের টিকেট।
এরশাদ শাসন আমল পুরোটাই সংসদ সদস্য হিসেবে সুনাম কুঁড়িয়েছেন জনাব চৌধুরী।

মানুষের সরলতাকে খুব সহজেই আয়ত্তে নিতে পারতেন ওই নেতা। তিনি সব সময় বলতেন , আমার কাছে টাকা নাই , আমি আপনাদের উন্নয়ন করতে পারবো।

কুমিল্লার সরল মানুষ তাঁর কথাকে আমলে নিয়ে অকাট্য ভাবে ভোট দিয়ে গেছেন মনিরুল হক চৌধুরীকে।
তার শাসনামলে সাবেক কুমিললা ৯ নির্বাচনী ( সাবেক) এলাকা ছিলো উন্নয়ন মুখর।

তিনি গ্রাম মহল্লা সকল জায়গার রাস্তা ঘাট মেরামত এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেন ।
কুমিল্লার মানুষ তাঁকে পরের বারেও নির্বাচিত করে নেন।

মানুষ তাঁর প্রতি অকুন্ঠ ভালোবাসা দেখিয়েছেন। দক্ষিণ কুমিল্লার মানুষ নিজের খেয়ে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা করেছেন, কোন লোভ লালসা ছাড়া। কালাম মজুমদারের মৃত্যুর পর একক জনপ্রিয়তার আকাশে একমাত্র নক্ষত্র হয়ে উঠেছিলেন মনিরুল হক চৌধুরী।

কিন্তু উন্নয়নের বিপক্ষে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আবির্ভুত হন লোটাস কামাল। ১৯৯৬ এর নির্বাচনে বিপুল টাকা খরচ করে আওয়ামী টিকেটে মনিরুল হক চৌধুরীকে হারিয়ে দেন লোটাস কামাল।
টাকার বিরুদ্ধে উন্নয়নের স্লোগান দিয়ে সেবার জয়ের মালা পড়তে পারেননি মনিরুল হক চৌধুরী।

কথা দিয়ে মানুষের মন গলানো ছিলো তার কাছে সবচে সহজ অস্ত্র।
মহাসমাবেশে মোনাজাতে চোখের পানি ফেলে দিয়ে আকর্ষিত করতেন মানুষের মন।
মানুষ তার সাথে একমত পোষণ করে অন্য পক্ষ থেকে টাকা নিয়ে, ভোট দিতেন মনিরুল হক চৌধুরীর লাঙ্গল মার্কাকে।

তাঁর আমলে তিনি রাস্তা ঘাট ছাড়া তেমন কোনো উন্নয়ন করেন নি, তবে রাস্তা ঘাটের মতো জাতীয় সমস্যা সমাধান করাটা নিঃসন্দেহে বিশাল অবদান না বলার বিকল্প নেই।

সদর দক্ষিণকে অন্ধকার মুক্ত করা মনিররুল হক চৌধুরীর একক অবদান, এগুলি তিনি না করলেও পারতেন, কারণ একচেটিয়া জনপ্রিয়তা ছিল চৌধুরী সাহেবের।

এর মাঝে তিনি লাঙ্গল ছেড়ে ধানের শিষে ভর করে নির্বাচনের টিকেট ও পেয়ে যান ।
২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি আবারো বিপুল ভোট জয় ছিনিয়ে আনেন ধানের শিষ প্রতিক নিয়ে।

সেবারের ক্ষমতায় যাওয়ার পর তিনি এলাকাতে জুনিয়র কর্মীদের কাছে বিশেষ ক্ষমতা যেমন, মাস্তানি, চাঁদাবাজি , পুলিশ , থানা, ঠিকাদারি সব কিছুই অবাধে কর্মীদের কাছে ছেড়ে দেন।

জুনিয়র কর্মীরা সিনিয়রদের অসন্মান এবং নৈতিকতা অবক্ষয়ের শেষ প্রান্তে নিয়ে যান মনিরুল হক চৌধুরীর দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তাকে।

বিভিন্ন ভাবে ক্ষমতার দাপটে মানুষকে হয়রানি করা বিশেষ করে, পুলিশ ও থানার মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ. উপার্জনে লিপ্ত হয়েছিল ছাত্রদলের নেতা কর্মী থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের নেতা কর্মীরা।

নতুন আবির্ভুত লোটাস কামাল সাহেবের টাকা এবং অপেক্ষাকৃত কম রাজনীতি জানা মানুষটি, চতুর চৌধুরীকে পরাস্ত করাটা খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিলো।

হাজার কোটি টাকা ও অঢেল সম্পদের মালিক লোটাস কামাল অর্থ দিয়ে উন্নয়নের বিপক্ষে নিজের অবস্থান শক্ত করতে শুরু করলেন।
ধীরে ধীরে কুমিল্লা দক্ষিণের মানুষের মানসিক পরিবর্তন হতে লাগলো,শুধু উন্নয়ন করলেই তো হবে না আর্থিক উন্নয়ন লাগবে নেতাকর্মীদের।

বিএনপি নেতা কর্মীদের ভিতর লোভ বসবাস করতে শুরু করলো, তারা ভাবতে লাগলেন, এমপি হয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছে নেতা আর আমাদেরকে শুনাচ্ছে উন্নয়নের বুলি।

ধিরে ধিরে চালাক হতে শুরু করলো দক্ষিণ কুমিল্লার জনগণ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে টাকার কাছেই বিকিয়ে যান কুমিল্লা সদর দক্ষিনের মানুষ।
১৯৯৬ সালে লোটাস কামাল পরাজিত করেন মনিরুল হক চৌধুরীকে।

মনিরুল হক চৌধুরীর একক জনপ্রিয়তার দুর্গে হানা দিয়ে, কঠিন পরীক্ষার মাধ্যমে জনগণের কাছে আসতে পেরেছিলেন লোটাস কামাল।

তিনি ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার সাথেই সাথেই শুরু হয়ে যায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের দখলবাজি ও দলবাজি।

যেখানেই বিএনপি একচ্ছত্র ক্ষমতা নিয়ে তাঁবেদারি করেছে, সেখানেই আওয়ামীলীগ নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সন্ত্রাসী বাহিনী পর্যন্ত গঠন করেছিলো।

বাগমারা থেকে সকল ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করা হতো, বিশেষ করে ছাত্রলীগের টার্গেট ছিল তৎকালীন জনবহুল কলেজ ও ছাত্রদলের দুর্গ লালমাই ডিগ্রি কলেজ। তখন লালমাই কলেজে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল তৎকালীন জাতীয় পার্টি সমর্থক ছাত্রদের।

সেখানে আধিপত্য বিস্তারে ছাত্রলীগ এবং ছাত্রসমাজ বহুবার সম্মুখ যুদ্ধেও আগ্নেয়াস্ত্র, দা , ছেনি, লাঠি সহ দুই পক্ষের সংঘাত হয়েছিলো , যদিও বারবার ছাত্রলীগ হেরে গিয়ে অবশেষে আইনের অপব্যবহার এবং থানা পুলিশ লেলিয়ে মামলা করে ছাত্রসমাজের নেতা কর্মী হটিয়ে নিজেদের অবস্থান দাখিল করতে সক্ষম হন।

এতে করে লোটাস কামাল সাহেবের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়তে শুরু করে।

একই ভাবে বিএনপি আমলের পুনরাবৃতি শুরু করে আওয়ামীলীগ, 
এলাকার বিএনপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে কারণে অকারণে মামলা হামলা শুরু করে।

এসব ভয়ে বিএনপির অনেক কর্মী দেশ ছাড়তে এবং আওয়ামীলীগে যোগদান করতে বাধ্য হন। তবে, অনেক বিএনপি নেতারাই সম্প্রতি শুধুমাত্র, নিজেদের স্বার্থে অত্যাচারের নাম ভাঙিয়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন, যদিও আওয়ামীলীগ তাঁদের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে দলে কোনো অবস্থান দিতে এখনো নারাজ।

কথিত আছে লোটাস কামাল সাহেব এলাকার উন্নয়নে অনেক পিছিয়ে আছেন, তিনি শুধুমাত্র নির্বাচনকালীন সময়ে নেতা কর্মীদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে ভোটের তরী পার করে নিয়ে যাবেন সহজেই।

গত  ৮ বছর যাবৎ লোটাস কামাল ক্ষমতায় থাকা কালীন, এই অঞ্চলের আমূল রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। মনিরুল হক চৌধুরী রাজনীতির সমীকরণে নিজের অবস্থানকে ". ধরি মাছ, না ছুঁই পানি " র মতো করে চলেছেন।

তিনি কর্মীদের প্রতি কোনো খেয়াল বা ভালো মন্দ দেখার প্রয়োজন বোধ করেন না। তিনি ওই এলাকার বিএনপি কর্মীদের নিজের প্রপার্টি মনে করতেন। বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন বা মিটিং আয়োজনে নামমাত্র পয়সা দিয়ে চালানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

কথিত আছে নেতা কর্মীদের নিজেদের পকেট থেকে পয়সা দিয়ে সভা সেমিনার করতে নির্দেশ দিতেন মনিরুল হক চৌধুরী।
নেতা কর্মীরা দীর্ঘদিন চৌধুরী সাহেবের কথা মতো অংশগ্রহণ করলেও সম্প্রতি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন হাজারো ত্যাগী নেতা কর্মী।

মনির চৌধুরীর তাচ্ছিল্লতার কারণে বিএনপি ছেড়ে আসা 
সবাইকেই লোটাস কামাল সাহেব নিজের নৌকায় তুলে নিচ্ছেন সহজেই।

শুধুমাত্র তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি অবহেলিত আচরণ এবং তুচ্ছ তাচ্ছিলতা একটা বড়ো কারণ।
মনিরুল হক চৌধুরী আচরণে মনে হতো, এই এলামানুষ কিছুই বুঝেনা, এরা ঢাকা শহরেও যাওয়ার মতো ও যোগ্য নয়। শুধুমাত্র উনি একাই সব বুঝেন, বাকিরা সবাই বোকা।

ভাবটা এমন যে, উনি যা বুঝেন বা উনার মতো নেতা দেশের আর একজন ও নেই.।
উনি যখন বুঝতে শুরু করলেন যে , নেতা কর্মীরা উনার এই দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে শুরু করলো, ততক্ষনে প্রায় অনেকেই উনার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে .

এখন মনিরুল হক চৌধুরী সাহেব প্রায় একা একাই সময় পার করছেন, তিনি মানুষকে গণহারে অবিশ্বাস করতে শুরু করছেন।

অনেকেই বলেন, তিনি গত ৩ বার এমপি হয়ে অঢেল সম্পদ করে নিজেতো সুখেই আছেন।কিন্তু, তৃণমূলে কর্মীদের প্রতি নূন্যতম দায়িত্ব পালন করার জন্য উনার একজন মানসিকতা নেই বললেই চলে।

লোটাস কামাল সাহেব আছেন বহাল তবিয়তে. তিনি যখন জানতে পারলেন তাঁর সরকার অজানা সময়ের জন্য ক্ষমতার আসনে আসীন, তখন তিনি বিএনপির মতো মামলা হামলা থেকে সরে এসে, নেতাকর্মীদের অবৈধ ব্যবসা চালনার সুযোগ দিয়ে দিয়েছেন।

সদর দক্ষিণে এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে মাদক নেই, থানার দালালি করে লুটে পুটে খাচ্ছে একদল অকর্মা নেতা।
বিপদে পড়া মানুষদের থেকে পয়সা নিয়ে সমস্যা সমাধান, নইলে মামলায় জড়িয়ে, আবার মামলা থেকে ছুটানোর নাম দিয়ে ২ পাই কামানোর ধান্দা করছে অনেকেই।

যানবাহনে নিয়মিত আইনবহিরভুত চাঁদাবাজি, সবুজ বনায়ন ধ্বংস, পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি, দুর্বল মানুষের সম্পত্তি দখল। একদল অসাধু পুলিশের সহায়তায় চলছে এসব কিছু।

যদিও লোটাস কামাল সাহেব এইসব ব্যাপারে প্রশ্রয় দেন না বলে ধারণা আছে অনেকের। উনি যদি প্রশ্রয় না দিয়ে থাকেন, তাহলে প্রতিনিয়ত চলছে কিভাবে , প্রশ্ন জাগে সবার মনে।

কামাল সাহেব যদি একটি ইশারা দেন, তাহলে এইসব কুকর্ম এক দিনেই বন্ধ হবে বলে সবাই মনে করে। কিন্তু এসব অবৈধ কর্ম বন্ধে কারো ভ্রূক্ষেপ নেই বললেই চলে।

তিনি এসব কিছু বন্ধ করতে পারলে, তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হবে বৈকি।

কামাল সাহেবের পুরো সময়ে তিনি এলাকার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন তেমন করেননি, পরিকল্পনা আর স্বপ্ন নিয়েই ব্যস্ত আছেন।
গত অনেক বছর ধরেই এলাকাতে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা করবেন বলে আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো দৃশ্যমান কিছু দেখা যায়নি।

তাঁর সরকারের ২য় মেয়াদ প্রায় শেষের পথে, এখন যদি অন্য কোনো সরকার বা তাঁর নিজের অবস্থানের পরিবর্তন হয়, সকল আশা আর স্বপ্নে গুড়েবালি ধরে নিতে পারেন।

এহেন অবস্থাতে কুমিল্লা দক্ষিণের মানুষের পুঁজি বলতে রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নেই।

বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের দাসত্বে কেটে যাচ্ছে কুমিল্লার মানুষের.
সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই গভীর স্নায়ু চাপে থাকেন, কখন কোন দুর্ঘটনার খবর শুনতে পাবেন।

আজকের রাজনীতি আমাদের সন্তানদের জন্য হয়ে উঠেছে একটি মরণ বিষফোঁড়া। 
একটু উঠতি বয়সের ছেলেরা অবাধে জড়িয়ে পড়ছে মাদক আবর্তে।

নিজের সন্তান কোথায় গিয়ে ইয়াবা, ফেনসিডিল বা এর চেয়ে জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়লো কিনা, 
এসব ভাবনা নিয়েই চলছে আমাদের দক্ষিণ কুমিল্লার মানুষের প্রাত্যহিক জীবন।

সাইফুর রহমান সাগর
সাংবাদিক ও লেখক





খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন