সোমবার, ২৬ জুন ২০১৭ ০৪:৩০:৫৩ এএম

শ্রীপুরে পেঁপে চাষ করে আলমাছ মিয়া এখন স্বাবলম্বী

জেলার খবর | গাজীপুর | শনিবার, ২৭ মে ২০১৭ | ১২:০৭:২২ পিএম

শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সিংগারদিঘী গ্রামের আলমাছ মিয়া (৩৫) ১ যুগ ধরে জীবন-যুদ্ধে পেঁপে চাষ করে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

আলমাছ মিয়া বর্তমানে উপজেলার এক সফল মানুষের অনন্য উদাহরণ। তার বাগানের চাষকৃত পেঁপে বর্তমানে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। ১২ বিঘা জমিতে শুধু সবুজ পেঁপে গাছ আর প্রতিটি পেঁপে গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় কাঁচা পেঁপে আর ফুল।

উপজেলার সিংগারদিঘী গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে আলমাছ উদ্দিন ২০০১ সালে এইচএসসি পাশ করার পর কোথাও চাকুরি না পেয়ে দিশেহারা হয়ে ২০০৭ সাল হতে পেঁপে চাষ ও পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের শাকসবজি ও ফলের চাষ শুরু করেন। প্রথম দিকে তিনি ২ বিঘা জমি লিজ নিয়ে পেঁপে চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ১২ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করছেন।

পেঁপে চাষী আলমাছ মিয়া জানান, বাংলাদেশে পেঁপে খুবই জনপ্রিয় ফল। শুধুমাত্র ফল নয় সবজি হিসেবেও এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। পেঁপেতে প্রচুর ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি। পরিচর্যা করলে সব ধরনের মাটিতেই পেঁপে চাষ করা যায়। সাধারণত ৪ থেকে ৫ মাসের মাথায় পেঁপে গাছে ফল ধরে। প্রতিটি গাছে প্রায় ৫০টি ফল ধরে থাকে।

প্রতি মৌসুমে নিজেদের চাহিদা পূরণ করাসহ সকল খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা মুনাফা থাকে। গত বছর পেঁপের আবাদ করে ৪ লাখ টাকা খরচ করেছি মুনাফা পেয়েছি ৯ লাখ টাকা। এই মৌসুমে আবহাওয়া ভালো থাকলে তিনি প্রতি মণ পেঁপে প্রায় ৮০০/৯০০ টাকা বিক্রয় করার আশা করছেন। যা অন্যান্য মৌসুমের তুলনায় অনেক ভালো হবে।

বর্তমানে আলমাছ মিয়া পেঁপে চাষ করে জীবনের অস্বচ্ছল থেকে আজ পরিবার পরিজন নিয়ে স্বচ্ছল ভাবে জীবন-যাপন করছেন আর লাভবান হয়েছেন আর্থিকভাবে। তার বাগানে কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার অনেক বেকার মানুষের।

সরেজমিনে তার পেঁপে বাগান ঘুরে দেখা যায়, থোকায় থোকায় পেঁপে ধরা গাছগুলো দঁড়ি ও বাশঁ দিয়ে বেধে রেখেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা তার বাগানের পেঁপে কিনে নিয়ে যান। দেশের চাহিদা পূরণ করে তার বাগানের পেঁপে বর্তমানে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি ঋণদানকারী ব্যাংক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করলে সামনে আরও বেশি জমিতে পেঁপে চাষ করতে পারবেন বলে পেঁপে চাষী আলমাছ উদ্দিন জানান।

জানা যায়, মাটি ও পচা গোবরে মিশ্রণ করে পলিথিন ব্যাগে নিজেই দেশীয় জাতের বীজ বপন করে চারা রোপণ করে থাকেন আলমাছ মিয়া। নিজের দৃঢ় মনোবল, কঠিন পরিশ্রম আর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় আজ তার পেঁপে চাষের এই সফলতা। প্রথম দিকে পেঁপে গাছে কখন কোন সার ছিটাতে হবে, কোন ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে ইত্যাদি বিষয়ে তিনি কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছেন। তিনি ভবিষ্যতে এই পেঁপে চাষকে নিজের এলাকাসহ দেশের বেকার মানুষদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চান।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ.এস.এম ময়ীদুল হাসান বলেন, পেঁপে চাষী আলমাছ মিয়ার সফলতার পেছনে রয়েছে তার ঐকান্ত নিরলস প্রচেষ্টা। তিনি শ্রীপুর উপজেলায় সফল মানুষের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। উপজেলা কৃষি অফিস তাকে সব সময় সার্বিক পরামর্শ দিয়ে আসছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন