মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ০৪:১৫:১৬ এএম

সরকারি ভবনে বাস বিনা বরাদ্দে বিনা ভাড়ায়!

জেলার খবর | ফরিদপুর | বৃহস্পতিবার, ১ জুন ২০১৭ | ১১:৫৫:২৩ এএম

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় তিন কর্মকর্তার নামে কোনো সরকারি বাসভবন বরাদ্দ নেই। তবু তাঁরা সরকারি বাসভবনে থাকেন। এ জন্য কোনো ভাড়াও পরিশোধ করেন না।

তিন কর্মকর্তা হলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নূরুল আলম ও পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান।

১৫ মে উপজেলার মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় উপজেলার সরকারি ভবন বরাদ্দের বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই আলোচনায় বেরিয়ে আসে বরাদ্দ ছাড়াই তটিনী নামের ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ওই তিন কর্মকর্তা বসবাস করছেন। এর মধ্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বিশ্বাস গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি এ উপজেলায় যোগ দেন। এরপর তিনি ওঠেন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত ওই ভবনে। এখন পর্যন্ত কোনো ভাড়া দেননি।

উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনের পাশে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত দ্বিতল ভবনটির নাম তটিনী। এই ভবনে মোট চারটি ফ্ল্যাটে চারটি পরিবারের আবাসন সুবিধা রয়েছে। ভবনটির নিচতলায় একটি ফ্ল্যাটে থাকেন কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল।

 এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার নামে কোনো বাসা বরাদ্দ নেই। এখানে যোগদানের পর ডরমেটরিতে একটি শয্যা বরাদ্দ চেয়েছিলাম। কিন্তু পাইনি। এ কারণে আমি তটিনী ভবনে থাকতে শুরু করি। তবে ওই ফ্ল্যাটটি আমার নামে বরাদ্দ না থাকায় আমি ভাড়া পরিশোধ করিনি। আমার নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেই ভাড়া দিয়ে দেব।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বরাদ্দ ছাড়া সরকারি ওই ভবনে আমি একা থাকিনি। আমার আগে ও পরে আরও কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা আমার মতো থেকেছেন।’

 উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নূরুল আলম বলেন, তিন মাস আগে তিনি এখানে যোগ দেন। তখন কোনো আবাসন বরাদ্দ না পেয়ে ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে ওঠেন। এ জন্য কোনো ভাড়া দেননি।

উপজেলা পরিষদের বাসা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। চরভদ্রাসনে ওই কমিটির সদস্যসচিব হলেন উপজেলা প্রকৌশলী নূর মোহাম্মদ মোল্লা। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার ভালো করে জানা নেই। কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে কোন প্রক্রিয়ায় এটি ঘটেছে, তা জানাতে পারব।’

কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাদল আমিন বলেন, ‘আমি জানতাম না তিন কর্মকর্তা বরাদ্দ ছাড়াই ওই বাসভবনে থাকেন। গত সমন্বয় সভায় বিষয়টি আমার নজরে আসে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের ভাড়া পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছি। তাঁদের জন্য শিগগির ডরমেটরি অথবা অন্য কোথাও থাকার ব্যবস্থা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’


খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন