বুধবার, ২৬ জুলাই ২০১৭ ০৬:৪৫:০০ পিএম

ছাত্রীটি এখন ইউএনও’র আশ্রয়ে

জেলার খবর | ঝালকাঠি | মঙ্গলবার, ৬ জুন ২০১৭ | ০১:২৯:১৪ পিএম

বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা পেতে পালিয়েছে ঝালকাঠির রাজাপুরের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। রাজাপুরের গালুয়া এসকে বালিয়া বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ১৫ বছর বয়সী ওই ছাত্রীটি এখন ইউএনও’র আশ্রয়ে।

জানা যায়, ছাত্রীটির বাবা ঢাকার একটি মাদ্রাসায় নাইট গার্ড হিসেবে কর্মরত। এ সুযোগে সোমবার বিকেলে তার মা রাজাপুরের পুটিয়াখালি গ্রামের সাহেবের হাট এলাকার আব্দুল গফ্ফার মীরের ছেলে হালিম হোসেন সাকিবের (২৬) সাথে বিয়ের অয়োজন করে।

হালিম হোসেন সাকিব এলাকায় বখাটে হিসাবে পরিচিত।বিয়ের পর রাতেই বখাটে সাকিবের সঙ্গে এক কক্ষে থাকতে হবে, এমন ভয়ে সোমবার সকালে বাড়ি থেকে স্কুলে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে পালিয়ে রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাবে এসে অভিযোগ করেন ওই স্কুলছাত্রী। পরে সাংবাদিকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করলে ইউএনও আফরোজা বেগম তাকে আশ্রয় দেন এবং ছাত্রীটির মা-সহ স্বজনদের ইউএনও অফিসে ডেকেছেন।

সাংবাদিকদের কাছে স্কুলছাত্রীটি জানান, তিনি পড়ালেখা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান কিন্তু মা জোর করে এলাকায় বখাটে হিসেবে চিহ্নিত সাকিবের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিয়ে দিতে চাচ্ছেন ।

সাকিবের নানা হুমকি ও চাপে নিরুপায় হয়ে ১০/১২ দিন আগে হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন এই স্কুলছাত্রী। বর্তমানে তিনি নির্বিঘ্নে লেখাপড়া করতে চান, ওই ছেলের সাথে বিয়ে হলে আত্মহত্যা ছাড়া কোন পথ থাকবে না বলেও জানান।

স্কুলছাত্রীটি আরো জানান, ৮ম শ্রেণিতে পড়াকালে গৃহশিক্ষক হিসেবে সাকিবের কাছে পড়তে ঠিক করেছিল তার মা। পরে সাকিবের মন্দ আচরণে পড়া বন্ধ করে দেন। এরপর থেকেই বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছে সাকিব, বশে আনে ছাত্রীর মাকেও।

গালুয়া এসকে বালিয়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, পরিবারের এসব ঝামেলার কারণে পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটছে মেধাবী এই ছাত্রীটির । এর আগেও একবার বিয়ের আয়োজন করলে ইউএনওর সহায়তায় তা বন্ধ করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে ইউএনও আফরোজা বেগম পারুল জানান, ওই ছাত্রীর অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়েছে, আসুক তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন