শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ ০৫:০৯:৪৭ পিএম

বাস চলছে না আজও মাগুরায়

জেলার খবর | মাগুরা | মঙ্গলবার, ৬ জুন ২০১৭ | ০৩:৪৪:৪৮ পিএম

এক বাসচালককে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মাগুরায় আজ মঙ্গলবারও বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন বাসশ্রমিকেরা। মাগুরা-নড়াইল ও মাগুরা-যশোর আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং মাগুরা-শ্রীপুর ও মাগুরা-মহম্মদপুর অভ্যন্তরীণ সড়কে বাস চলছে না। গতকাল সোমবার সকাল থেকে শ্রমিকেরা ওই দুটি আঞ্চলিক ও দুটি অভ্যন্তরীণ সড়কে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। এ অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই চারটি সড়কপথে চলাচলকারী যাত্রীরা।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা আজ সকাল ৯টার দিকে শহরের ঢাকা রোড এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের বাধার মুখে তাঁরা সেখান থেকে পিছু হটেন। এ সময় শ্রমিকেরা দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এদিকে বাসচালক মো. সুজনের (২৫) লাশ গতকাল রাতে মাগুরায় এসে পৌঁছে। সকাল আটটার দিকে পৌরসভার পারলা গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়। লাশ দাফনের পর শ্রমিকেরা পারলা গ্রামের পাশে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধের চেষ্টা চালান।
পুলিশ ও শ্রমিকেরা জানান, মো. সুজন (২৫) নামের এক বাসচালককে গত শনিবার (৩ জুন) মাগুরা সদর উপজেলার মালিক গ্রাম এলাকায় পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন স্থানীয় দুই যুবক। নিহত সুজন মাগুরা-মহম্মদপুর সড়কে যাত্রীবাহী বাসের চালক ছিলেন। তিনি পৌরসভার পারলা গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। ওই দিন যাত্রী নিয়ে তিনি মাগুরা থেকে মহম্মদপুরে যাচ্ছিলেন। পথে মালিক গ্রাম এলাকায় ইফতারির সময় হলে বাস থামান তিনি। বাস থামানোর সময় স্থানীয় এক যুবকের বাইসাইকেলে বাসটি আঘাত করেছে—এমন অভিযোগ তুলে দুই যুবক সুজনকে পিটিয়ে আহত করেন। পরে গুরুতর আহত সুজনকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে ফরিদপুর ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গতকাল ভোরে তিনি মারা যান।
সকালে এ খবর মাগুরায় পৌঁছালে শ্রমিকদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুটি আঞ্চলিক মহাসড়ক ও অভ্যন্তরীণ সড়কে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। দুপুরে তাঁরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিক্ষোভকারীরা দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি করে নানা স্লোগান দেন।
এ বিষয়ে মাগুরা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ইমদাদুর রহমান আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ধর্মঘট ডাকিনি। তবে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা মাগুরার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। পুলিশ এখনো দোষীদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ কারণে শ্রমিকদের বোঝানো যাচ্ছে না। তাই সকালে লাশ দাফনের পর শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছি। বিকেল নাগাদ একটা সমাধানের পথ বের হতে পারে।’
এ প্রসঙ্গে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘নায়েব মোল্লা (৩৫) ও সজীব মোল্লা (২৮) নামের স্থানীয় দুই যুবক ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আজও আমরা মোটর শ্রমিক ও বাস মালিক গ্রুপের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। দোষীদের আটকের চেষ্টা চলছে। শ্রমিকেরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করেছিলেন। আমরা হতে দিইনি। তবে তাঁরা আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন।’
এদিকে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক-তদন্ত) হোসেন আল মাহবুব।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন