বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ ০২:৪৩:২৩ এএম

এবার কী আক্ষেপ ঘুচাতে পারবে প্রোটিয়ারা?

ধর্ম | রবিবার, ১১ জুন ২০১৭ | ০৫:১৬:৫১ পিএম

কখনো কোয়াটার ফাইনাল, কখনো বা সেমিফাইনাল। ক্রিকেটের এ দুটি মঞ্চ যেন প্রোটিয়াদের পিছু ছাড়ছেই না। গ্রুপ পর্বে অসাধারণ খেলেও তাই কোয়াটার ফাইনাল কিংবা সেমিফাইনালে জয়ের রথযাত্রা থামাতে হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। তবে এবারো কী আক্ষেপ থেকে যাবে প্রোটিয়াদের?

১৯৯৯ সালের ১৭ জুন, বার্মিংহামে তখন চলছে অস্ট্রেলিয়া বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচটি, যে জিতবে তার হাতেই চলে যাবে ফাইনালের টিকেট। সেমিফাইনাল পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলে এসেছে দুটি দলই, কেউ কারো থেকে কোনো অংশেই কম যায় না। ব্যাপারটি সেমিফাইনাল ম্যাচেও আবার তাই বুঝিয়ে দিল দুটি দল, সেমিফাইনালের ম্যাচটিতে তাই ছিল অন্যরকম এক চমক। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বেকায়দায় পড়ে যায় অজিরা। অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, মার্ক ওয়াহ এর মতো ব্যাটসম্যানরা শুরুতেই গুটিয়ে যাওয়ায় অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ এবং মাইকেল বেভানের অর্ধশতকের উপর ভর করে ২১৩ রানে পৌঁছোয় অস্ট্রেলিয়া।

এতো সহজ ম্যাচটিকে প্রোটিয়ারা যে এতো কঠিন করে ফেলবে তা হয়তো অজিরাও ভাবতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ার ছুঁড়ে দেওয়া ২১৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উইকেট বিলিয়ে আসার প্রতিযোগীতায় নামেন দক্ষিণআফ্রিকার ক্রিকেটাররা। প্রতিনিয়ত উইকেটের পতন হলেও জন্টি রোডস এবং জ্যাক ক্যালিসের সুবাদে প্রোটিয়ারাও ৪৯.৪ ওভারে সবকয়টি উইকেট হারিয়ে করে ২১৩ রান!দু’দলের সমান সমান রানের জন্য ম্যাচটি পরবর্তীতে টাই হিসেবে গণ্য হলেও সেবার কপাল পুড়ে প্রোটিয়াদের, রান রেটে পিছিয়ে থাকায় সেবার আর ফাইনালে ওঠা হয়নি দলটির। আর সেই থেকে চোকার্স তকমাটি লেগে যায় প্রোটিয়াদের নামের পাশে।

১৯৯৯ সালের পর আবার ২০০৭ সালে সেই সেমিফাইনালে গিয়েই পথ হারায় প্রোটিয়ারা। এবারো প্রতিপক্ষ সেই অস্ট্রেলিয়া! সেমিফাইনালে উঠলেই যেন প্রোটিয়ারা নিজেদের স্বভাব থেকে বেরিয়ে হয়ে যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দল।৩০০ রান করতেও যাদের তেমন কোনো বেগ পেতে হয় না তারাই কি না সেবার ১৪৯ রানে অলআউট! ৪৩.৫ ওভারেই সেবার গুটিয়ে যায় প্রোটিয়াদের ইনিংস। ৪৯ রান নিয়ে জাস্টিন কেম্প এর রানই ছিল সেবার সর্বোচ্চ রানের ইনিংস!তবে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ভুল করেনি অজিরা। ৩ উইকেটের বিনিময়েই টার্গেটে পৌঁছে যায় দলটি।

২০১১ সালের বিশ্বকাপটিও প্রোটিয়াদের জন্য ছিল আরেক বিভীষিকাময় বিশ্বকাপ। এবার সেমিফাইনালে ওঠার আগেই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ হয়ে দেশে ফিরে যেতে হয় তাদের।তবে এবার আর অস্ট্রেলিয়া নয়, এবার প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড।সেবারও মুখে চুনকালি মেখে বিশ্বকাপ ছেড়ে বিদায় নিতে হয় প্রোটিয়াদের। কিউইদের দেওয়া ২২২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৭২ রানেই অলআউট হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা!তাই সেমিফাইনাল ছোঁয়ার আগেই বিশ্বকাপ পর্ব শেষ করতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

সর্বশেষ অর্থাৎ ২০১৫ বিশ্বকাপেও চোকার্সের পরিচয় দেয় প্রোটিয়ারা। ২০১১ এর মতো এবারও প্রতিপক্ষ কিউইরা। তবে কিউইদের পাশাপাশি অন্যতম প্রতিপক্ষ ছিল বৃষ্টিও। সেমিফাইনালেপ্রথমে ব্যাট করতে নামলে বৃষ্টির কারণে ৪৩ ওভার শেষে ২৮২ রানের সম্মানজনক টার্গেট ছুঁড়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু বৃষ্টি আইনে কিউইদের টার্গেট গিয়ে দাঁড়ায় ২৯৩ রানে! দক্ষিণ আফ্রিকার ভাগ্য বরাবরের মতোই খারাপ। ২০১৫ বিশ্বকাপের ম্যাচটিও নিউজিল্যান্ড চার উইকেটের ব্যবধানে জয় লাভ করে ফাইনালে ওঠে।

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ভাগ্য সহায় না হলেও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে একটু আশার আলো দেখতেই পারে তারা। কেননা ১৯৯৮ সালের ঢাকার বঙ্গবন্ধুর জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম আসরের ফাইনালটি যে তারাই জিতেছিল! বর্তমানে ওয়ানডে র্যা ঙ্কিংয়ে প্রোটিয়ারা এক নম্বরে থেকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরু করলেও ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হওয়ায় চোখ রাঙাচ্ছে ইংলিশরাও। তাই ১৯৯৮ সালের পর আবারো চমক দেখাতে হলে এবার একটু ব্যাতিক্রম কিছুই করে দেখাতে হবে প্রোটিয়াদের।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে লংকানদের বিপক্ষে ৯৬ রানের বিশাল জয় দিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই পাকিস্তানের কাছে ১৯ রানের পরাজয় মেনে নিতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে।এখন সামনে কেবল ভারত। ভারতকে হারালেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে উঠে যাবে প্রোটিয়ারা। তবে প্রশ্ন একটাই দীর্ঘদিনের এ আক্ষেপ কী এবার ঘোচাতে পারবে প্রোটিয়ারা?

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন