বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ ০৯:২৫:৫০ পিএম

আজকের তারাবিতে ইসলামে দাওয়াত দেয়ার নীতি পড়া হবে

ধর্ম | সোমবার, ১২ জুন ২০১৭ | ০৫:০৭:১৪ পিএম

রমজানের ১৭তম তারাবি অনুষ্ঠিত হবে আজ। আজকের তারাবিতে সুরা নমল (৬০-৯৩), সুরা কাসাস (৮৮) এবং সুরা আনকাবুত (১-৪৪ আয়াত) পড়া হবে। সে সঙ্গে ২০তম পারার তেলাওয়াত শেষ হবে। আজকের তারাবিতে ইসলামের দাওয়াত মানুষের নিকট পৌছানো নীতিসহ যা পাঠ করা হবে তার উল্লেখযোগ্য কিছু আলোচ্যসূচি তুলে ধরা হলো-

সুরা নমল
সুরা নমল মক্কায় অবতীর্ণ। নমল দ্বারা আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে ক্ষুদ্র প্রাণী পিপীলিকাকে বুঝিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা এ সুরায় পিপীলিকার কথা বর্ণনা করেছেন। তাই এ সুরার নাম দিয়েছেন নমল।

পিপীলিকার এ ঘটনা হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের নবুয়তের প্রমাণ বহন করে, যা বিশ্বনবির নবুয়তের প্রমাণেও গুরুত্ব সর্বাধিক। সুরা নমল-এ তাওহিদ ও নবুয়ত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এ সুরার আলোচ্য বিষয়গুলো হলো-
>> তাওহিদের প্রমাণে বর্ণনা;

>> অসহায়দের দোয়া একান্ত আন্তরিকতায় কবুল হওয়া প্রসঙ্গ;

>> মৃতদের শ্রবণ সম্পর্কিত আলোচনা।

সুরা কাসাস
মক্কায় অবতীর্ণ সুরাসমূহের মধ্যে সুরা কাসাস হলো সর্বশেষ সুরা। হিজরতের সময় মক্কা এবং জুহফা নামক স্থানের মধ্যবর্তী স্থান রাবেগ-এ এ সুরা নাজিল হয়।

বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, হিজরতের সময় বিশ্বনবি যখন জুহফা অর্থাৎ রাবেগ অঞ্চলে পৌছেন, তখন জিব্রিল আলাইহিস সালাম এসে তাঁকে বলেন, ‘হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার কি মাতৃভূমির কথা মনে পড়ে? তিনি উত্তরে বলেন, হ্যাঁ মনে পড়বে বৈ কি। অতপর জিব্রিল আলাইহিস সালাম তাকে এ সুরাটি শুনান। এ সুরার শেষভাগে মক্কা বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান করা হয়।

এ সুরায় হজরত মুসা আলাইহিস সালামের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণের পাশাপাশি কারুনের বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। মুসা আলাইহিস সালামের দেশত্যাগ, দুশমনের আক্রমণ থেকে রক্ষা, তার সম্মান-মর্যাদা রক্ষা, পুনরায় মিসর প্রত্যাবর্তন এবং নবুয়ত ও রিসালাত প্রদাণে ধন্য করেছেন তার বিবরণ ওঠে এসেছে এ সুরায়।

পূর্ববর্তী সুরা নমলে রাণী বিলকিসের আলোচনা হয়েছে, আর এ সুরায় ফেরাউনের বিষয়ে আলোচিত হয়েছে। রাণী বিলকিস হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের মুজিযা দেখে তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিল। আর ফেরাউন মুসা আলাইহিস সালামের মুজিযা দেখেও তাঁর প্রতি ঈমান আনেনি। অথচ রাণী বিলকিসের রাজত্ব থেকে ফেরাউনের রাজত্ব ছিল ছোট।

সুতরাং একটি বিষয় পরিষ্কার যে, হিদায়াত এবং পথভ্রষ্টতার সিদ্ধান্ত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই আসে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন, আবার যাকে ইচ্ছা গোমরাহ করে দেন।

এ সুরার আলোচ্য বিষয়গুলো হলো-
>> হজরত মুসা আলাইহিস সালামের লাঠির বিবরণ;

>> হজরত মুসা আলাইহিস সালামের নবুয়ত লাভ;

>> বিশ্বনবির নবুয়তের প্রমাণ পেশ;

>> দাওয়াত ও তাবলীগের কতিপয় নীতি;

>> এক বস্তুর ওপর অপর বস্তু, এক ব্যক্তির ওপর অপর ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব দানের মাপকাঠি প্রসঙ্গ;

>> কারুনের প্রোথিত সম্পদের বিবরণ;

>> গোনাহের সংকল্পও গোনাহ;

>> কুরআন শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় ও উদ্দেশ্য হাসিলের ওপায়।

সুরা আনকাবুত
মক্কায় অবতীর্ণ সুরা আনকাবুত মুশরিকদের প্রতিছিল এক বিশেষ চ্যালেঞ্জ। এ সুরায় আল্লাহ তাআলা মাকড়শার দৃষ্টান্ত দিয়ে শিরকের বাতুলতা প্রকাশ করেছেন।

এ সুরার আলোচ্য বিষয়গুলো হলো-
>> অন্যায় কাজে প্রতি আহ্বান করাও মারাত্মক অপরাধ;

>> কাফেরদের উদ্দেশ্যে সতর্কবাণী;

>> আল্লাহর অসীম রহমতের বিবরণ;

>> পৃথিবীর প্রথম হিজরত প্রসঙ্গ;

>> হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের প্রতি বিশেষ নিয়ামাত;

>> আল্লাহর নিকট প্রকৃত জ্ঞানী।

সুতরাং আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের এ গুরুত্বপূর্ণ সুরাগুলো বুঝে পড়ার এবং তাঁর ওপর আমল করার পাশাপাশি নিজেদের আকিদা-বিশ্বাসকে শিরকমুক্ত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন