রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ ১২:৩৭:৪৫ এএম

কোন ঈদে নতুন কাপড় চোখে দেখি নাই

জাহিদুল খান সৌরভ | জেলার খবর | শেরপুর | সোমবার, ১৯ জুন ২০১৭ | ০৩:৪৮:১৭ পিএম

 শেরপুর শহরের খরমপুর মোড়ে খালি রিক্সা নিয়ে দাড়িয়ে ছিলেন রিক্সাচালক মোঃ জাকির হোনেস (৫০) প্রয়োজনের তাগিদে ডাক দিলাম উনাকে।

কাছে আসলেন বললাম কসবা যাবেন উত্তরে তিনি মাথা নাড়ালেন জিজ্ঞেস করলাম ভাড়া কত নিবেন উত্তরে জানালেন বাবা যা দিবেন তাই।

কারন জানতে চাইলে বললেন, বাবাজি মাথার উপর অনেক চিন্তা ঈদের আগে অনেক টাকা দরকার। এক পর্যায়ে প্রায় জোড় করেই তার রিক্সায় তুললেন, সংক্ষিপ্ত সময়ে জানালেন দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হওয়ার করুন কাহিনী।

শহর থেকে একটু দূরে শেখহাটি বাজারের মান্দাখালী ব্রিজের পাশেই তার বসবাস। পরিবারে রয়েছেন দুই ছেলে এক মেয়ে বউ সহ ১২০ বয়সী এক বৃদ্ধা মা।

বড় ছেলেটির নাম নূর ইসলাম (১৮) ক'দিন আগে হাফেযি পাশ করেছে শেরপুরের স্বনামধন্য মাদ্রাসা তেরাবাজার (জামিয়া সিদ্দিকিয়া) থেকে, মেজো ছেলেটির নাম মোবারক হোসেন(১২) স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াশুনা করে, ছোট মেয়েটির নাম জার্মিন (১১) সে ও শহরের তাতালপুরে একটি মহিলা মাদ্রাসায় হাফেযি বিভাগে সদ্য ভর্তি হয়েছে।

একপর্যায়ে কেঁদে কেঁদে কষ্ট নিয়ে বললেন, বাবা নিজে তো কোন ঈদে নতুন কাপড় চোখে দেখি নাই, অভাবের তাড়নায় ছেলে মেয়েদেরকেও কোন ঈদে নতুন জামা কাপড় দিতে পারি নাই।

বড় ছেলেটা কয়েকদিন আগে কোরআনের হাফেয হলো, তাকে একটা পাঞ্জাবির কাপড় কিনে দিছিলাম, কিন্তু মজুরী দিয়ে সেটা বানানোর ক্ষমতা নাই।

সামনে ঈদ আমার অনেক ইচ্ছা এবার ছেলেটারে পাঞ্জাবিটা বানাই দিমু কিন্তু আমি ব্যর্থ। সারাদিন রিক্সা দিয়ে যা কামাই তা দিয়া সংসার চালাতেই শেষ হয়ে যাই, পুলাপানদের শখ আহ্লাদ পূরন করার শক্তি কই।

অন্যদিকে গামছা দিয়ে দু'চোঁখ মুছতে মুছতে বললেন বাবাজি শুধু বড় পুলাডা না মাইয়া টাও মাথার ব্রেইন ভালা, অনেকদিন হয়ে গেল ছিড়া জোড়া-তালি দেওয়া বোরকা পড়ে মাদ্রাসায় যায় অরেও একটা নতুন বোরকা বানাই দিতে পারি নাই। জেলা শহর থেকে দশ মিনিটের রাস্তা ছিল আমার গন্তব্যস্থল, উনার কথা শোনে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলাম।

একসময় বাসার কাছাকাছি জিজ্ঞেস করলাম চাচা এলাকার কোন বিত্তবানদের কাছে যাননি, বললেন একবার কোরআন শরীফ ও মাদ্রাসায় ভর্তি বাবদ ৫০০ টাকার খুব দরকার ছিল।

তাই এলাকার এক নামকরা ধনী ব্যাক্তির কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে আশ্বাস দিবেন তো দূরের কথা খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

সবশেষে চাচাকে বললাম যদি আপনাকে কেউ সহযোগীতা করতে চায় নিবেন সে সাহায্য, চুপ করে চোঁখের পানি বের করে দিয়ে জানালেন বাবা তাহলে অনেক উপকার হয়। অন্তত পুলাপানডিরে ভালো করে আল্লাহর লাইনে পড়াইতে পারুম।

যদি কেউ উনাকে সহযোগীতা করতে চান, তাহলে উনাকে সরাসরি অথাবা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যেমে সহযোগীতা করতে পারবেন।

যোগাযোগঃ
জাহিদুল খান সৌরভ, শেরপুর সংবাদদাতা ( ইউরোবিডিনিউজ.কম)
০১৯১২-১৬৭৫৯৯ (বিকাশ)
০১৯১২-১৬৭৫৯৯+১ (রকেট)

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন