শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭ ০৭:০৬:০৬ পিএম

সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

জেলার খবর | সিরাজগঞ্জ | সোমবার, ১০ জুলাই ২০১৭ | ০২:১২:৪১ পিএম

সিরাজগঞ্জে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও নদীভাঙনের কারণে জেলার ৫টি উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন বানভাসিরা। বন্যা কবলিত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে (সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ এলাকায়) বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে জেলার কাজিপুর, শাহজাদপুর, চৌহালী, বেলকুচি এবং সদর উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নর চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ১০টি, শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি, চৌহালী উপজেলার ৭টি, বেলকুচি উপজেলার ৬টি এবং কাজিপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নসহ মোট ৪৮টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে কাজিপুর উপজেলার ঢেকুরিয়া হাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

বিলচতল, ঢেকুরিয়া, শ্রীপুর, সুতানারা, মলি­কপাড়া, বদুয়ারপাড়া, দাদবোরা, খিরাইকান্দি, খাসরাজবাড়ি, ভেটুয়া, বাশজান, ভাঙ্গারছেদ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যা কবলিত মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।

মনসুরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক রাজমহর জানান, ৮০ লাখ টাকা খরচ করে মনসুরনগর ইউনিয়নের মাজনাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ১ হাজার ৯০০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই বাঁধটি ভাঙলে প্রায় দেড় হাজার বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যাবে।

মাজনাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন জানান, এই বাঁধের ফলে স্কুলসহ অনেক স্থাপনা বন্যা-ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে। ফলে বাঁধটি মেরামতে সরকারি সহায়তা জরুরি।

সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কার্যালয় থেকে বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ১১ মেট্রিক টন, কাজিপুরে ৪ মেট্রিক টন, চৌহালীতে ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান ইমাম বলেন, বর্তমানে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা নদীতে আরো কয়েকদিন পানি বৃদ্ধি পাবে। ভাঙনরোধে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে। শহর রক্ষা বাঁধগুলো যাতে ভেঙে না যায় এজন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন