রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১২:৫৩:০৬ পিএম

‘বাড়িতে অভাব, তাই দেহব্যবসা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না’

আন্তর্জাতিক | সোমবার, ১৭ জুলাই ২০১৭ | ০৮:১৩:৫৬ পিএম

একদিকে ঊর্ধ্বাকাশে ছুঁটছে কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট)। আর অন্যদিকে হাত বদলানো মেয়েদের অভিশাপের দীর্ঘশ্বাস। এই অভিশাপ চক্রতো নিজেদেরই তৈরি। লাখ লাখ কোটি টাকা সামরিক ব্যয়ে পরাশক্তি নামের ‘মোড়লিয়ানা’ অর্জনে বিভোর ভারত। আর দেশটির কোচবিহারে দারিদ্র্যের কারণে মেয়েরা জড়িয়ে পড়ছে দেহব্যবসায়!

আনন্দবাজার’ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রত্যন্ত এলাকা বা আসামের গ্রাম থেকে আসা কিছু তরুণীকে ‘রাতপাখি, সন্ধ্যাতারা, ফুলকি বা মধু’ নামেই চেনেন এখানকার অনেকে। এসব তরুণীর ছবি রয়েছে। সেই ছবিই আগে যায় খদ্দেরদের হাতে। ক্যাটালগের মতো করেই ছবি রাখা হয়। সেই ছবির নীচে লেখা থাকে তাদের সঙ্গ পাওয়ার জন্য কত ব্যয় করতে হবে।

রয়েছে নানা হিসাব- ঘণ্টা পিছু বা দিনের হিসেবে টাকার অঙ্ক ওঠানামা করে। কেউ যদি তাদের কাউকে নিয়ে বাইরে যান, তা হলে আর এক রকম খরচ। অভাবের তাড়ায় দেহব্যবসায় নামা এসব তরুণীকে নিয়েই এতো হিসাব-নিকাশ।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, শহরজুড়ে এই ব্যবসা ছড়িয়েছে। তাতে জড়িয়ে পড়ছেন গরিব পরিবারের অনেক কন্যাই। তাদেরই একজন নাম না জানানোর শর্তে বলেন, ‘বাড়িতে অভাব। তাই এ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়।’

শনিবার কোচবিহার শহর এলাকার হরিশ পাল চৌপথী সংলগ্ন একটি লজে হানা দিয়ে এই চক্রের খোঁজ মিলে। এমন অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। আগেও হোটেল থেকে দোকান একাধিক জায়গায় অভিযান হয়েছে। কয়েকজন ধরাও পড়েছেন।

পুলিশ সুপার অনুপ জায়সবাল বলেন, “লাগাতার অভিযান চলবে। তদন্তে সব কিছুই খতিয়ে দেখা হবে।”

পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, শনিবার লজ থেকে ধৃত ৩ যুগল আপত্তিকর অবস্থায় ছিলেন। তাঁরা মাথাভাঙা ও দিনহাটার বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন। ওই বক্তব্যের সত্যতাও যাচাই করা হচ্ছে। চক্রে আরও কারা জড়িত সেটা দেখা হচ্ছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন