শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭ ১২:০৭:২০ এএম

ইউএনওকে দেখে খালে নামলেন এমপি, সরালেন কচুরিপানা!

জেলার খবর | যশোর | রবিবার, ৬ আগস্ট ২০১৭ | ১১:১০:৫৮ এএম

যশোরের অভয়নগর উপজেলার জলাবদ্ধ এলাকার বিভিন্ন খালে পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কচুরিপানা স্বেচ্ছাশ্রমে অপসারণ করা হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ৬টি খালের ৭ কিলোমিটার জুড়ে কচুরিপানা অপসারণ করা হয়েছে। স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় ১৫শ মানুষের অংশগ্রহণে খালে পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী কচুরিপানা অপসারণ করা হয়। স্বেচ্ছাশ্রমের এই কর্মযজ্ঞে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে গলা পানিতে নেমে নিজ হাতে কচুরিপানা পরিষ্কার করেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মনদীপ ঘরাই।

ইউএনও মনদীপ ঘরাইকে দেখে এবার ভবদহের জলাবদ্ধ এলাকার খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করতে পানিতে নামলেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়। শনিবার (৫ আগস্ট) সকালে যশোরের অভয়নগরের মশিয়াহাটি খালে কচুরিপানা অপসারণ কর্মসূচি পরিদর্শনে গিয়ে পানিতে নেমে পড়েন তিনি।

জনসাধারণের সঙ্গে তিনিও কচুরিপানা অপসারণ করেন জলাবদ্ধতা নিরসনে। সংসদ সদস্যের অংশগ্রহণের কচুরিপানা অপসারণে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।

টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিবৃদ্ধির ফলে অভয়নগর উপজেলার ৪ ইউনিয়ন জলাবদ্ধ হয়ে হাজার হাজার পরিবার গত ২০ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দি অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে গৃহপালিত পশু নিয়ে সড়কে ঘর বানিয়ে আশ্রয় নিতে শুরু করে। পানিবন্দি মানুষের কথা চিন্তা করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ যৌথভাবে বিভিন্ন খাল ও বিল থেকে নেট, পাটা, কারেন্ট ও জাল উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। কিন্তু পানি প্রবাহের আরেক প্রতিবন্ধকতা কচুরিপানা ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মনদীপ ঘরাই জানান, স্বেচ্ছাশ্রমে জনসাধারণ অংশগ্রহণে শুক্রবার থেকে অভয়নগরের জলাবদ্ধ এলাকায় কচুরিপানা অপসারণ কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য কচুরিপানা অপসারণ কাজ পরিদর্শনে গিয়ে নিজেই অংশ নেন।

জানা যায়, অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ফেসবুক স্টাট্যাসের সূত্র ধরে ‘কচুরিপানা নির্মূলে, নামবো জলে বিভেদ ভুলে’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে এলাকার আপামর জনসাধারণ শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন খালে নেমে শুরু করে কপুরিপানা অপসারণের কাজ। শুক্রবার দিনব্যাপী সুন্দলী এলাকার তিনটি খালের সাতটি পয়েন্টে প্রায় দেড় হাজার মানুষ কচুরিপানা অপসারণের কাজে অংশ নেন।শনিবার সকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে শত শত মানুষ কচুরিপানা অপসারণে খালে নেমে পড়ে।

গোবিন্দপুর, সুন্দলী, ডুমুরতলা, ডহর মশিয়াহাটি প্রভৃতি এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখেন সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়। এরপর মশিয়াহাটি বাজার এলাকা পরিদর্শন শেষে নিজেই মশিয়াহাটি খালে নেমে কচুরিপানা অপসারণের কাজ শুরু করেন এমপি রণজিৎ রায়।

এসময় কচুরিপানা অপসারণের কাজে অংশ নেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মনদীপ ঘরাই, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আসলাম হোসেন, প্রেমবাগ ইউপি চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন, সুন্দলী ইউপি চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিল প্রমুখ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন