বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৭:২৫:৪৮ এএম

একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী নেতৃবৃন্দের সঠিক মূল্যায়ন চাই

মারুফ হোসেন | খোলা কলাম | সোমবার, ৭ আগস্ট ২০১৭ | ১১:৪৪:১৩ এএম

মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রর্বতক,শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করে গণতন্ত্র চর্চার সঠিক প্লাটফর্ম দিয়ে গেছেন। জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা ছিল স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রুপরেখা। বাংলাদেশের নির্মাতা ও মহান দেশপ্রেমিক জিয়াউর রহমানের আর্দশ বুকে ধারন করি বলে প্রবাসে এসেও দেশপ্রেম মনে প্রানে তাড়না করে। আর এ কারনে বিএনপির পতাকা তলে এসে নিজেকে গর্বিত মনে হয়।

জিয়ার সৈনিক বলে দাবি করতে নিজেকে ধন্য মনে হয়। তাই মনে প্রানে বিএনপিকে ধারন করি। আর বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশমাতা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও তারুণ্যেও অহংকার তারেক রহমানের নির্দেশনা সর্বদা মেনে তা বাস্তবায়ন করছি। আগামীদিনেও তার নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে নিজেকে উৎসর্গ করতেও আমরা প্রস্তুত।

লাল সবুজের বাংলাদেশে, আমি বিশ্বাস করি দেশ থাকলে রাজনীতি থাকবে, রাজনীতি থাকলে দল থাকবে। দেশে সুস্থ্য রাজনীতি আনতে হবে। আর, সুস্থ্য রাজনীতি থাকলে দলের উপকার এবং নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার সৌন্দর্য আসবে। তাই আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আগামীদিনের রা®্র¡নায়ক তারেক রহমানের কাছে সারা বিশ্বের সকল প্রবাসী জাতীয়তাবাদী সৈনিকদের আকুল আবেদন হচ্ছে, প্রবাসে থাকা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতি করে তাদের ত্যাগ-শ্রম-মেধা মামলা হামলার শিকার অনেক নেতৃবৃন্দ এবং তাদের এই শ্রম শুধু জাতি ও দেশের জন্য, এবং জাতীয়তাবাদী দলের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে ।

প্রবাসে থাকা বিভিন্ন এলাকাতে বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচিত এমন অনেক নেতা আছে যারা দেশ বাচাঁও, মানুষ বাচাঁও আন্দোলনে শরীক হয়ে ত্যাগ শিকার করে যাচ্ছে।বিএনপির হাইকমান্ড থেকে যখন যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। প্রবাস শাখাগুলো সেই কর্মসূচি ঝুকি নিয়ে সফল করে। বাংলাদেশের মত ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে রাজপথে নামে প্রবাস নেতাকর্মীরা। এতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রবাস নেতারা বিভিন্নভাবে হয়রানী করেন। এসব হয়রানী হামলা মামলা উপেক্ষা করে জিয়ার সৈনিকরা এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রবাস বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অতীতের কর্মকান্ডের খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে, প্রবাসে থেকে যেভাবে কর্মকান্ড চালানো হয়েছে সেভাবে মুল্যায়ন পায়নি প্রবাসের ত্যাগী নেতারা। আমার ধারনা প্রবাসী ত্যাগী নেতাদের সঠিক জায়গায় সঠিক মূল্যায়ন করা হলে বহিঃবিশ্বে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিটি কর্মীই উৎসাহ পাবে এবং দল শক্তিশালী হবে। এশিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপের যে সব নেতারা দলের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে বহিঃবিশ্বে বিএনপিকে সু-সংগঠিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল তাদের সঠিক মূল্যায়ন করবে বলে আমার বিশ্বাস।

আমার জানা মতে, এশিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপের বিএনপিকে প্রতিষ্ঠিত করতে দলের অনেক শীর্ষনেতারা কাজ করছেন। শীর্ষনেতারা সব সময় সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করেছেন। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সৌদি আরব বিএনপির সভাপতি আহমদ আলী মুকিব আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ। ২৪ ঘণ্টাই ডুবে থাকেন দলীয় রাজনৈতিক কর্মকান্ডে। তপ্ত মরুর বুকে তিনিই চাষাবাদ করছেন সবুজ ধানের শীষ। তার যোগ্য নেতৃত্বে মরুর বুকে উড়ছে জাতীয়তাবাদী আদর্শের পতাকা। সাংগঠনিক কাজে চষে বেড়াচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যে থেকে ইউরোপে। পাড়ি দিচ্ছেন হাজার মাইল। অংশ নিচ্ছেন হাসিনা বিরোধী বিক্ষোভে কিংবা দলীয় কর্মসূচিতে। যখনই দেশে দলের কোন নেতাকর্মী হত্যা-গুমের শিকার হন সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে দেন মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপে। সামনে থেকে দেন নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে সৌদি আরব, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে গড়ে তুলেছেন বিএনপির শক্ত ভিত। প্রবাসের ভোটারবিহীন সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়তেও রাখছেন জোরালো ভূমিকা।

বিএনপির নিবেদিত প্রাণ এই বিএনপি নেতার বাড়ি হবিগঞ্জের হাওরবেষ্টিত আজমিরীগঞ্জের উপজেলার শিবপাশা গ্রামে। পিতা আলহাজ হাফেজ আবদুশ শহীদও ছিলেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারী। আশির দশকেই আজমিরীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন আহমদ আলী মুকিব। নব্বই দশকের গোড়ার দিকে সৌদি আরব পাড়ি দেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি জড়িয়ে পড়েন সৌদি আরব শাখা বিএনপির রাজনীতিতে।

‘৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় দুর্গত মানুষের জন্য তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসনের ত্রাণ তহবিল সংগ্রহে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। ফলে ৯৮ সালে সৌদি আরব শাখা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যান দলের জন্য। ওয়ান-ইলেভেনের দুঃসময়ে তাকে প্রবাসে আন্দোলন গড়ে তোলার দায়িত্ব দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এরপর পেছন ফিরে তাকাননি মুকিব। জীবন বেচে রেখে চালিয়েছেন দলীয় কর্মকান্ড।

হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমীরগঞ্জ) আসনে জনমত গড়ে তুলেছেন তিনি। তাই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমীরগঞ্জ) আসন থেকে আলী আহাম্মদ আলী মুকিব ভাইকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে প্রবাস নেতাকর্মীরা।একই সাথে প্রবাসে থাকা বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঠিক মুল্যায়ন করতে তাদের নিজ নিজ এলাকা থেকে মনোনয়ন দেয়ারও দাবি জানান। আগামী নির্বাচনে যোগ্য নেতাদের মুল্যায়ন করলে এশিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপে বিএনপি আরো শক্তিশালী হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

[লেখক: কুমিল্লা লাঙলকোট পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুয়েত প্রবাসী।]

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন