রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০২:৪৯:২৬ পিএম

নেশার টাকা জোগাতে মাত্র ৫০ হাজার টাকার জন্য চার বছরের ফুটফুটে সন্তানকে বিক্রি করল এক ‘বাবা’ !

জেলার খবর | চাঁদপুর | মঙ্গলবার, ৮ আগস্ট ২০১৭ | ০১:০৯:৫১ পিএম

পথের ক্লান্তিকে ঝেড়ে ফেলে মনের অসাড়তাকে দূরে ঠেলে হাসি মুখে, হৃষ্ট চিত্তে সন্তানকে যে আঁকড়ে ধরে প্রাণ ভরে। তাঁর নাম বাবা ।

সন্তানের আদর্শিক পুরুষ কে হতে পারেন? আদর ও শাসনের প্রতীক কে হতে পারেন? অবশ্যই বাবা। আমরা যে বটবৃক্ষের ন্যায়, ছাতার ন্যায় তুলনা করি তাও বাবাকে নিয়ে। বাবা শব্দটির সঙ্গে নির্ভরশীলতা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। বাবা কথাটির মাঝেই যেন লুকিয়ে রয়েছে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, নির্ভরশীলতা, আশ্রয়। প্রত্যেক সফল মানুষকে সফল হয়ে উঠতে যে মানুষটি অনেক পরিশ্রম, অনেক ত্যাগ, অনেক ভালোবাসা, অনেক স্নেহ-মমতা, ছায়া, দিকনির্দেশনা দিয়ে বড় করে তোলেন তিনিই বাবা। অনেক সাধনার ধন সন্তানকে সুখী করার জন্য বাবার প্রাণান্তকর চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে, সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে বাবার সে কী পরিশ্রম।

Loading...
কিন্তু বাবা নামের এই শব্দটিকে কলঙ্কিত করেছে হারুনুর রশিদ নামের একজন নামমাত্র মাদকাসক্ত বাবা । চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ইছাপুরা গ্রামে মাত্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে চার বছর বয়সী পুত্র সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন এই লোক । পরে শিশু জাহিদুল হোসেনের মা আয়েশা আক্তার শাহরাস্তি থানায় মামলা করলে শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমানের প্রচেষ্টায় শিশুটিকে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলা থেকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সোমবার সকালে গ্রেফতার শিশুটির ক্রেতা হাসিনা বেগমকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই শিশুটির বাবা পলাতক।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানার পরিদর্শক নূর হোসেন জানান, গত রোববার শিশুটির মা আয়েশা আক্তার মামলা দায়ের করেন। শিশুটির বাবা হারুনুর রশিদ ও ক্রেতা হাসিনা বেগমকে আসামি করা হয়েছে।

আয়েশা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী হারুন নেশাগ্রস্ত ও বেকার। নেশার টাকা জোগাড় করতে সে প্রায়ই ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে দিতো। গত বৃহস্পতিবার ছোট ছেলেকে দোকান থেকে কিছু কিনে দেয়ার নামে বাড়ি থেকে নিয়ে বিক্রি করে দেয়।’

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ‘ইছাপুরা গ্রামের হারুনুর রশিদ টাকার লোভে তার পুত্র সন্তান জাহিদুল হোসেনকে বিক্রি করে দেয়। পরে জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের নির্দেশে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানা এলাকার রাজীবপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে স্থানীয় রাশেদের স্ত্রী হাসিনা বেগমের কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং হাসিনা বেগমকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আটক হাসিনা বেগম বলেন, ‘আমি তিন কন্যা সন্তানের জননী। একটি ছেলে সন্তানের আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘদিনের। আমাদের পূর্ব পরিচিত হারুন ৩ আগস্ট আমাদের বাড়িতে আসেন। তার ছোট ছেলেকে আমার কাছে দিতে চান। বিনিময়ে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে সন্তানটিকে রেখে হারুন চলে যান।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন