মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ০৪:১৫:০৯ এএম

ব্যবহারিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, অতঃপর যা ঘটলো

জেলার খবর | ফরিদপুর | বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট ২০১৭ | ০২:০০:১৩ পিএম

ঘটনাটি ফরিদপুর সদর উপজেলার হাট গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। জানা যায়, ঐ স্কুলের এক স্কুলছাত্রীকে ব্যবহারিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে করা হয় । উক্ত আভিযোগটি একই স্কুলের কৃষি বিষয়ক শিক্ষক রেজাউল করিম লাভলু (৩৮) করা হয়। ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্কুলের কৃষি শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক রেজাউল করিম স্কুলের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পরীক্ষায় বেশী নম্বর দেবার কথা বলে স্কুলের একটি কক্ষে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে স্কুল থেকে বের করে দেবার হুমকি দেয়া হয়। ফলে ভয়ে সেই ছাত্রী ঘটনাটি এতদিন কাউকে বলতে সাহস পায়নি।

সম্প্রতি অভিযুক্ত রেজাউল ছাত্রীটিকে ফের অশ্লীল প্রস্তাব দিলে সে তার সহকর্মীদের কাছে বিষয়টি বলে দেয়। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বুধবার সকালে রেজাউল করিম স্কুলে এলে স্কুলের কয়েকশ শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে রেজাউল করিমের সাথে কথা বলতে গেলে সে শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হবার চেষ্টা করে। এসময় স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী রেজাউল করিমকে বেদম প্রহার করে একটি শ্রেণি কক্ষে আটকে রাখে। স্কুল শিক্ষকের এহেন কর্মকান্ডে এলাকাজুড়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। ঘটনা শোনার পর থেকেই স্থানীয় এলাকাবাসী, স্কুলের শিক্ষার্থীরা রেজাউল করিমকে ঘেরাও করে রাখে। সকাল থেকেই শিক্ষকের বিচার দাবী করে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করে। পরে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রভাংশু মহান সোম ও কোতয়ালী থানার একদল পুলিশ স্কুলে যায়। পরে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক করে বেলা সাড়ে চারটার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়।

এদিকে, নির্যাতনের শিকার হওয়া স্কুল ছাত্রীটির মা জানান, শিক্ষক রেজাউল করিম তার মেয়েকে বিয়ে করেছে বলে লোক মারফত আমাকে জানায়। কিন্তু কথাটি আমি বিশ্বাস করিনি। এ বিষয়ে মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, স্যার তার কাছ থেকে সাদা কাগজে একটি স্বাক্ষর নিয়েছে। আমার মেয়ের বয়স মাত্র ১৩ বছর। যে শিক্ষক আমার মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে তার উপযুক্ত বিচার চাই। শিক্ষক রেজাউল করিম বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার হুমকিও দিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন কথাই বলবো না।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার এসআই মোঃ গাফফার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিক্ষুব্ধ মানুষের কবল থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন