রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৬:২৭:৪৮ এএম

না ফেরার দেশে চলে গেলেন পাকিস্তানের ‘মাদার তেরেসা’

আন্তর্জাতিক | শনিবার, ১২ আগস্ট ২০১৭ | ০১:২৬:৩৭ পিএম

পাকিস্তানের মাদার তেরেসা নামে পরিচিত জার্মান চিকিৎসক রুথ পিফাউ ৮৭ বছর বয়সে করাচিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। শুক্রবার হাসপাতেলে ভর্তি হওয়ার পর সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। খবরে বলা হয়, তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের অন্তর্বর্তিকালীন প্রধানমন্ত্রী শহিদ খাকান আব্বাসী।

পিফাউয়ের সাহস ও বিশ্বস্ততার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ড. পিফাউ জার্মানীতে জন্মগ্রহন করলেও তার হৃদয় সবসময় পাকিস্তানেই ছিলো। তিনি এখানে এসেছিলেন এমন সময় যখন পাকিস্তান সবে নতুন এক রাষ্ট্র।’ তিনি আরও বলেন, ‘রোগাক্রান্তদের জীবন ভালো করে তুলতে, আর এসব করতে করতেই তিনি নিজের জন্য একটি ঘর খুঁজে পান।’

পিফাউ পাকিস্তানের কুষ্ঠরোগ দূরীকরণে কাজ করার জন্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। ১৯২৯ সালে জার্মানীর লেইপজিগে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বোমা বিস্ফোরণে তার বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যায়। মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে তার চার্চ, ডটারস অফ দ্য হার্ট অফ মেরি থেকে তাকে পাঠানো হয় ভারতে। কিন্তু ভিসাজনিত সমস্যার কারণে তিনি করাচিতে এসে পৌঁছান। সেখানেই পাকিস্তানে ১৯৬০ সালে প্রথম কুষ্ঠরোগ দেখেন তিনি।

বিবিসিকে ২০১০ সালে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘আসলে আপনি প্রথমবার দেখলে এর (কুষ্ঠরোগ) পরিণতি বুঝতে পারবেননা। আমার মনে হয়, আপনি কখনোই বুঝতে পারবেননা।’ তিনি আরও বলেন, ‘মূলত প্রথম আমি যেই রোগীকে দেখে কুষ্ঠরোগ দূরীকরণে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সে ছিল একজন পাঠান। সে একটি ঔষুধের দোকানে চার হাত-পায়ে ভর করে চলছিলো। যেন এটাই স্বাভাবিক। যেন, এভাবেই সবাই হাতে পায়ে ময়লা নিয়ে একটি কুকুরের মতন করে চলাফেরা করে।’

পিফাউ ১৯৬০ সালে পাকিস্তানে প্রথমবার কুষ্ঠরোগের দেখা পেলেও, তখনই কাজ শুরু করেননি। ১৯৬৬ সালে এই রোগ দূরীকরণে কাজ শুরু করেন। দেশজুড়ে স্থাপন করেন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। তার চেষ্টার ফলেই ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিলো।

উর্জবার্গে অবস্থিত রুথ পিফাউ ফাইন্ডেশনের হেরাল্ড মেয়ের-পর্যকি বলেন, ‘পিফাউ হাজারো মানুষকে বাঁচাতে তার জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন।’ তিনি কুষ্ঠরোগ দূর করতে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন অনেক পাকিস্তানি চিকিৎসককে। তার কাজের জন্যে বহু পুরষ্কার পেয়েছেন পিফাউ। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, কোন বেসামরিক নাগরিককে দেওয়া পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরষ্কার হিলাল-ই-ইমতিয়াজসহ, হিলাল-ই-পাকিস্তান ও গার্মান স্টউফার মেডেল।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন