বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৭ ০৫:০৯:১২ পিএম

ফুলবাড়ীতে পনের হাজার মানুষ পানিবন্দি, ধরলার পানি বিপদ সীমার ৪১ সেন্টিমিটার উপরে

জেলার খবর | কুড়িগ্রাম | শনিবার, ১২ আগস্ট ২০১৭ | ০৪:১২:১০ পিএম

গত চারদিনের টানা বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ী ঢলে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধরলার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে ধরলা, বারোমাসিয়া, নীলকমল নদীর তীরবর্তি গ্রামসহ চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছেন, ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৪১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খয়বর আলী জানালেন, তার এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭টি ওয়ার্ডের প্রায় ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের অবস্থা ভয়াবহ। ওই ইউনিয়নটি পুরোটাই পানির নীচে। অন্যদিকে ২৫টি প্রাইমারীসহ বড়ভিটা উচ্চ বিদ্যালয়, কুঠিবাড়ী মর্ডাণ উচ্চ বিদ্যালয় ও মেকলি উচ্চ বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ফলে বিদ্যালয় গুলোর পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আজ শনিবার সরেজমিন নির্মাণাধীন দ্বিতীয় ধরলা সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, উজান থেকে পাহাড়ী ঢলের কাদা মিশ্রিত পানি ব্যাপক হারে আসছে। এ পানি ধরলার তীরবর্তি গ্রাম গুলোতে হু হু করে প্রবেশ করছে। এভাবে পানি প্রবেশ করতে থাকলে আগামী ২৪ ঘন্টার ভেতর বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। এরই মধ্যে সোনাইকাজী, শিমুলবাড়ি, যতিন্দ্রনারায়ন, চরশিমুলবাড়ী, পূর্ব ও পশ্চিম ধনিরাম, চরগোরকমন্ডল, গোরকমন্ডল, কিশামত শিমুলবাড়ী, চর বড়লই, খোচাবাড়ি ও রাঙ্গামাটি, মেখলি, কবির মামুদ, প্রানকৃঞ্চ, এলাকায় উজানের পানি প্রবেশ করে প্রায় ১৫ হাজার পরিবার মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শতশত একর জমির রোপা আমন ধানের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে।

কুঠিবাড়ী মর্ডাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজগার আলী জানালেন, তার এলাকার প্রানকৃঞ্চ ও জোৎকৃষ্টহরির প্রায় চার হাজার মানুষ নিজ নিজ বাড়ীতে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। কেউই বাড়ী থেকে বেড় হতে পারছেন না। গরু ছাগল পানিতে সাঁতার দিয়ে নিয়ে এসে ওয়াপদা বাধেঁ আশ্রয় নিচ্ছে। টানা চারদিনের বৃষ্টিতে নিম্ন আয়ের মানুয়ের খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

চরগোরকমন্ডল ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব জানালেন, তার এলাকার প্রায় দুই শতাধিক দিন মজুর দিন মজুরীর কাজ করতে না পেয়ে খাবার সংকটে পড়েছে। ফুলবাড়ীর অদুরে নাওডাঙ্গা পুলের পাড়ের সেতুটির পূর্বপাড়ের উত্তর পাশের সড়কের প্রটেকশন দেয়ালটি নীলকমল নদের পানির স্রোতে ভেঙ্গে গেছে। যে কোন মুহুর্ত্বে সড়কটি নদের বুকে চলে যাবে। ফলে ফুলবাড়ীর সঙ্গে ভাঙ্গামোড়, বড়ভিটাসহ কুড়িগ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হতে পারে।

ধরলা সেতুর পাশের আছিয়ার বাজার থেকে বোর্ডের হাট রাস্তাটিতে বর্তমানে এক কোমর পানিতে তলিয়ে রয়েছে। গোরকমন্ডল সেতুটির পশ্চিম পাড়ে উজানের পানির স্রোতে কিছু অংশ ভেঙ্গে গেছে। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দাসিয়ারছড়ার নিম্নাঞ্চল গুলো প্লাবিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলে ধরলাা পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে যে কোন ধরণের দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন