শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ ০৫:৪০:২১ এএম

কুষ্টিয়ায় নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার বেড়েই চলেছে

রোকনুজ্জামান | জেলার খবর | কুষ্টিয়া | বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৭ | ১০:৩২:৪৫ এএম

পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম উপাদান নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগে সয়লাব হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়ার হাট বাজার গুলোতে।

অবাধে ক্রয় বিক্রয় ও ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন-শপিংব্যাগ, প্রশাসনের কোন নজরদারি না থাকায় কাঁচা বাজার থেকে শুরু করে অভিজাত বিলাস বহুল দোকান গুলোতেও চলছে পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার। জেলার উপজেলা গুলোর বিভিন্ন হাট বাজারে ভোগ্য পণ্যের দোকানে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিবেশ ও জনস্বাথ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগ বিক্রি ও ব্যবহার আইনগত নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এর ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাঁচা বাজার থেকে শুরু করে মাছ-মাংস, অন্যান্য খাবার এমনকি প্রসাধনীসহ কিছু কিনলেই পলিথিনের ব্যাগে ঢুকিয়ে দিচ্ছে দোকানীরা। আর অবাধ পলিথিনের ব্যবহারের কারণে এখন আর কেউ চট বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহারই করছে না। এ ছাড়া সরকারিভাবেও এখন আর পলিথিনের ক্ষতিকর দিক নিয়ে নেই কোন প্রচার-প্রচারণা।

পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হওয়ায় পলিথিনের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় আইন বা প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় তদারকি না থাকায় এর ব্যবহার বন্ধ হয়নি।

পলিথিনবিরোধী অভিযান বর্তমানে নেই বললেই চলে। সরেজমিনে দেখা গেছে, কুষ্টিয়া সদর, খোকসা, কুমারখালী, ভেড়ামারা, মিরপুর ও দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে মুদির দোকান ও অভিজাত শপিংমলের প্রতিটি দোকানে পলিথিনের ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে মুদি, বেকারি, মাছ, মাংস, তরিতরকারি এবং ফলমূল্যের দোকানে ব্যাপক হারে পলিথিন ব্যবহার হয়ে আসছে।

নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্য থেকে শুরু করে কাঁচাপণ্যে পলিথিন এখন ক্রেতাদের হাতে হাতে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নজরদারি না থাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এসব পলিথিন ব্যাগ। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীরা জানায়, পলিথিন এখন সহজলভ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিক্রেতারা এখন দোকানে দোকানে এসে পলিথিন বিক্রি করে। নানা সাইজের পলিথিন পাওয়া যায়। এছাড়াও ক্রেতারা চটের ব্যাগের চেয়ে পলিথিন ব্যাগ নিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, একটি চটের থলের দাম ২০-৩০ টাকা। ক্রেতারা চটের তলের বদলে বিনামূল্যে পলিথিন ব্যাগে পণ্য নিতে দাবি করে।

কুষ্টিয়ার মিরপুরের মশান,মিরপুর, আমলা বাজার, নিমতলা, কাতলামারিসহ খোকসা, কুমারখালী, ভেড়ামারা ও দৌলতপুরের বিভিন্ন হাট- বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অবাধে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে।

তরিতরকারি, ফলমূল, মাছ-মাংসসহ প্রায় সবকিছুই বহন করার জন্য ক্রেতা- বিক্রেতারা পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করছেন। স্থানীয়দের মতামত, কুষ্টিয়া জেলার উপজেলা প্রশাসনের তদারকির অভাবে দিন দিন পলিথিনের ব্যবহার উপজেলা গুলোতে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সরকার দূষণমুক্ত পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে সারা দেশে পলিথিন শপিং ব্যাগ ব্যবহার ও বাজারজাতকরণের ওপর বিধি- নিষেধ আরোপ করেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ (সংশোধন-২০০২) অনুসারে পরিবেশ জনস্বাস্থ্য ও সুরক্ষার স্বার্থে সরকার পলিথিন ক্রয়-বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করে। এর আইনের সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা জরিমানাসহ ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ব্যবহারকারীর ওপর তাৎক্ষণিক ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিথিন আমাদের পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।

অপচনশীল এ যৌগ পদার্থটি মানবদেহে ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব ঘটায়। পলিথিন তৈরিতে এমন ধরনের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহৃত হয়, যা মাটির নিচে কয়েকশ’ বছর থাকলেও পচন ধরে না। যার কারণে মাটি হারাচ্ছে উর্বরতা।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগে দীর্ঘ সময় খাদ্যদ্রব্য রাখলে তার গুণগত মান নষ্ট হয়ে মানুষের নানা সমস্যা হতে পারে।পলিথিনের ব্যবহার অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ব্যবহার ও বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন