শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯ ০৯:৩২:২৭ এএম

বাজার মন্দায় খামারী ও কৃষক পরিবারে আহাজারি

রোকনুজ্জামান | জেলার খবর | কুষ্টিয়া | মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট ২০১৭ | ১০:২৬:১৯ এএম

কুষ্টিয়ায় কুরবানীর দেশীয় পশুর প্রচুর আমদানী তবে বিক্রি হতাশ করার মত। ঈদের আগ মুহুর্তে এসে বাজার একেবারেই মন্দায় খামারী ও কৃষক পরিবারে চলছে আহাজারি। বাজারে হু হু করে প্রবেশ করছে ভারতীয় গরু আর তাতেই দেশীয় গরুর মুল্যে ক্রমেই নেমে যাচ্ছে।

প্রতিদিনই আশা নিয়ে জেলার বিভিন্ন হাটে কৃষক এবং খামারীরা গরু নিয়ে গেলেও ভগ্ন মনোরথে ফিরে আসছে বাড়িতে। সারা বছরে গরু লালন পালন করে কোরবানীর মৌসুমে বিক্রি করার স্বপ্ন থাকে আর এই স্বপ্নের সাথে কৃষক এবং খামারী পরিবারের অনেক কিছুই জড়িয়ে থাকে। আর ক’দিন বাদেই ঈদুল আজহা কিন্তু গরু বিক্রি নেই।

আশানুরূপ দাম না পাওয়াতে অনেকে কম মুল্যে লোকশান দিয়ে গরু বিক্রি করে আসছে। আবার অনেকেই ঈদের বাকী দিনগুলোর আশায় বাড়িতে ফিরিয়ে এনে পুনরায় অন্য হাটে বিক্রির জন্য নিচ্ছে। বাকী দিনগুলোতে এই অবস্থা বিরাজ করলে কৃষক এবং খামারীদের পথে বসা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না বলে জানা গেছে।

এদিকে বন্যা ও মহাসড়কের বেহাল অবস্থায় এবার কুষ্টিয়া অঞ্চল থেকে কোরবানীর পশু আশানুরূপ দেশের কোথাও যাচ্ছে না। এলাকায় গরুর দাম কম হওয়াতে গত কয়েক দিনে কিছু গরু ট্রাকে করে নিয়ে গেলেও তা ঢাকায় পৌছতে সময় লাগছে ২০ ঘন্টারও বেশি। আবার চট্রগ্রাম এবং সিলেটে গরু পৌছতে সময় লাগছে একদিনেরও বেশি।

তাছাড়া ট্রাক ভাড়া গতবারের চেয়ে দ্বিগুন হওয়াতে অধিকাংশরাই কুষ্টিয়ার বাইরে গরু নিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে। গতকাল রবিবার জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে কোরবানীর গরুর হাট ছিল।

কিন্তু বৃষ্টির কারনে অনেকটা ক্রেতা শুন্য অবস্থায় হাট শেষ হয়েছে বলে জানা যায়। সব আকারের গরুর মুল্য কৃষকের আকাংখিত মুল্যের চেয়ে অনেক কম। অধিক মুল্যে গো-খাদ্যের ব্যয় এবং আনুসাঙ্গিক সব মিলিয়ে কৃষক লাভ তো দুরের কথা এই গরুর ঘরে রেখে দেয়াও অনেক কষ্টের ব্যাপার। তাই শেষ মুহুর্তের জন্য সবাই তাকিয়ে আছে।

এলাকার হাটগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে- ছোট এবং মাঝারী আকারের গরুর চাহিদা বেশি তবে এই সব গরু চাহিদা মত মুল্য কৃষকেরা পাচ্ছে না। বাজারে ভারতীয় গরুর ব্যাপক আমদানীতে গরুর বাজারের এই হাল বলে খামারীরা জানিয়েছেন।

কুষ্টিয়ার বাইরে জেলার গরু না যাওয়াতে এখন প্রতি বাড়িতে বাড়িতে বিভিন্ন আকারের গরু দৃশ্যমান রয়েছে। এদিকে শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি গতকাল রবিবার সারাদিন অঝোরে বৃষ্টির কারণে খামারী এবং কৃষকদের স্বপ্ন একেবারেই ভেস্তে যেতে বসেছে। সদর উপজেলার কুমারগাড়া গ্রামের কৃষক আলম ও নুরুজ্জামান জানান- এলাকার কৃষক এবং খামরীদের বাড়িতে বাড়িতে আহাজারি শুরু হয়েছে।

এমনিতে এলাকায় প্রচুর দেশী গরুর আবাদ ছিল তারপরে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশে দেশীয় গরু আশানুরূপ মুল্য নেই। তারা বলেন, এর জন্য সরকার দায়ী কেননা ভারতীয় গরু আসা বন্ধ রাখলে কৃষক এবং খামারীরা ন্যায্য মুল্য পেয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারতো কিন্তু সব কিছুই যেন গুড়ে বালু হওয়ার মত।

দীর্ঘ দিন ধরে কুষ্টিয়া অঞ্চলের গরুর দেশের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা পূরনে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রেখে আসছে। অন্য বছর গুলোতে মুলতঃ রোজার ঈদের পর থেকেই বাড়িতে বাড়িতে যেয়ে ব্যাপারীরা গরু কিনে রেখে আসতো।

এবারকার পরিবেশ সম্পুর্ন ভিন্ন। প্রথম দিকে কিছু ব্যাপারীদের বাড়িতে বাড়িতে দেখা গেলেও এখন আর তা নেই। আবার রোজার পর থেকে বিক্রি হওয়া গরুর দামও ছিল আশানুরূপ। মাসখানেক হলো গরুর দাম কমতে শুরু করে।

কৃষক এবং খামারীরা আশা করেছিল ঈদের আগে ব্যাপারীদের আনাগোনা বাড়ার পাশাপাশি গরুর মুল্য আশানুরুপ হবে। কিন্তু খামারী এবং কৃষকদের সব আশা একেবারেই নিরাশায় পরিনত হয়েছে। গো-খামারী কাজী ফার্মের মালিক কাজী শওকত জানান-আমার খামারের সব বেশি গরু ইতিমধ্যে ঢাকায় পাঠিয়েছি।

আশা করছি ভাল দামে বিক্রি হবে। তবে এলাকার অবস্থা একেবারেই খারাপ। এলাকার কৃষক এবং খামারীরা এবার মারাত্বকভাবে ক্ষতির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। তিনি জানান-বিজিবি মহা পরিচালকের বক্তব্যের পর থেকেই বাজারের অবস্থা নিম্নগতি। কৃষকেরা কত আশা ভরসা করে পুরো একটি বছর অপেক্ষায় ছিল কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন রকমের আশার আলো দেখা মিলছে না।

খামারী নজরুল ইসলাম জানান- ২মাস আগে গরুর দাম বেশি ছিল। সময় যতই গড়াচ্ছে ততই গরুর দাম পড়ে যাচ্ছে। তিনি জানান- জেলার কৃষক এবং গো-খামারীরা প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখছে কিন্তু দিন শেষে হাটে গেলে সব স্বপ্নই খতের সৃষ্টি করছে। দুঃখ এবং বেদনা তাদের পিছু ছাড়ছে না।

তারপরে আবার বৃষ্টি, মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার দেশী গরুর আমদানী বেশি সেই সাথে ভারতীয় গরুর অনু প্রবেশ সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে। তিনি জানান-বন্যা এবং মহা সড়কের বেহাল অবস্থায় এলাকার অধিকাংশ কৃষক কুষ্টিয়ার বাইরে গরু নিতে নারাজ।

কেননা সময় এবং খরচ বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ট্রাকে গরুর থাকায় বড় ধরনের ঝুঁকি থাকায় অনেকেই সাহস পাচ্ছে না। জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আসাদুল ইসলাম জানান-এবার কুষ্টিয়ায় ছোট বড় অনেক খামারীসহ কৃষকেরা ৯০হাজার বেশি গরু কোরবানী উপলক্ষে গরুর আমদানী আশা করছেন।

তবে বেসরকারীভাবে এর পরিমান অনেক বেশি বলে জানা গেছে। তিনি জানান-আমরা কৃষক এবং খামারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করে থাকি। তবে বাজারের অবস্থায় মনে হচ্ছে ভারতীয় গরুর কারনে দেশী গরুর মালিকেরা ক্ষতির মধ্যে পড়বে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন