বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৭ ০১:২২:০৫ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিল বিএনপি

রাজনীতি | রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ১২:৩০:৫২ পিএম

বর্তমানে দেশের অন্যতম একটা জাতীয় সংকট হলো রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যথা সময়ে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা। এই সংকট প্রসঙ্গে নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে সমালোচনা করে বক্তব্য প্রদান করেন।

নিউইয়র্কে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হবে কি করে, বিএনপি তো সত্যিকার অর্থে একটি জনপ্রিয় ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল। কোনও কিছুর বিনিময়ে বিএনপি নিজের দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেবে না।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডকে কেন গণহত্যা বলেননি? মিয়ানমারের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাননি? দেখেই বোঝা যায় এখনও সেই বশংবদ রাজনীতিতে আছেন। এখনও আপনারা ভয় পান যে মিয়ানমারকে যারা সমর্থন দিচ্ছে তারা যদি বিরাগভাজন হয়ে যান! এখানেই পার্থক্যটা।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এর আগেও রোহিঙ্গারা বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে দু’বার বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলো। তখন তৎকালীন সরকার প্রধান হিসাবে জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীকালে খালেদা জিয়া তাদের আশ্রয় দিয়ে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। এবারও বিএনপি চেয়ারপারসন লন্ডন থেকে বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে পরবর্তীতে ফেরত পাঠানোর কথা বলেছেন।’

‘কিন্তু দুর্ভাগ্য আজকে এই জিনিসগুলো উপলব্ধি করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা এই বিষয়ে এখনও কোনও জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে পারেনি। আমরা এই কথাগুলো বললে বলেন বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হবে না।’

রোহিঙ্গাদের জন্য বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা দেয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘এটি কোন ধরনের হীনমন্যতার রাজনীতি। ভয় পান বলেই এই ধরনের কাজ করেন। এই সংকীর্ণ রাজনীতি বাদ দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করুন।’একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বিএনপির জাতীয় ঐক্যের ডাকে আওয়ামী লীগ সাড়া না দেওয়ায় বিষয়টিকে ক্ষমতাসীনদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন মির্জা ফখরুল।

অন্য কোনও কারণে নয়, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বিএনপি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে- মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘আমরা জনগণের সঙ্গে ঐক্য করেই এই সংকট মোকাবিলা করতে সমর্থ হবো।’ এই ডাকে বিএনপি পিছপা হবে না।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টিতে বিএনপির দেয়া প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দুঃখজনক মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, যে দল জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত, গণতান্ত্রিক, নির্বাচন মুখী দল। এই দল দেশকে পাঁচবার পরিচালনা করার সুযোগ পেয়েছে জনগণের ভোটে। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া জনগণের সরাসরি ভোটে তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশের জনপ্রিয় দল বিএনপি। এই দল সম্পর্কে বিদেশে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখে সন্ত্রাসী বলা, জঙ্গি বলা এটা নিন্দা করার ভাষা আমাদের নেই। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

প্রধানমন্ত্রীর মুখে এ ধরনের বক্তব্য উদ্বেগ জনক মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই ধরনের কথাবার্তা বলে দেশকে আজকে বিভক্ত করে তারা (আওয়ামী লীগ) যেভাবে ২০১৪ সালে বিনা ভোটে গায়ের জোরে ক্ষমতায় গিয়েছিল ভবিষ্যতেও আবার সেই ধরনের গায়ের জোরে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে দলীয় রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও মনে করছেন বিএনপির এই নেতা। বাংলাদেশের জনগণ তাদের যে পদক্ষেপ এটিকে সমর্থন করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বিডি২৪লাইভকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। তিনি যেটা বলেছেন সেটা রাজনীতিতে আসার পর থেকেই তিনি বলছেন। বিএনপি প্রসঙ্গে তার প্রতিটি শব্দের উচ্চারণ নেগেটিভ। এটা নতুন কিছু নয়। যিনি জোর করে ক্ষমতায় আছেন। জোর করে ক্ষমতায় থাকার অর্থ হচ্ছে নিজেকে সন্ত্রাসের সাথে, গুন্ডামির সাথে সম্পৃক্ত করা, আইনের শাসনকে পদদলিত করা, ভোটাধিকারকে কেড়ে নেয়া, তিনি নিজে এ কাজ গুলো করার পরে অন্যের সমালোচনা করেন এটা শোভনীয় না।

বাংলাদেশের রাজনীতি নিউইয়র্কে বসে নয়, বাংলাদেশে করলেই ভালো হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, তিনি যে ক্ষমতা ভোগ করছেন সেটি হচ্ছে একজনের মধ্যে প্রথম হওয়া। সকল দলের সমান সুযোগ সাংবিধানিক যে ক্ষমতা আছে সেটা শাসনে নিশ্চিতকরে খেলে তিনি যদি প্রথম হতেন তাহলে আমরা মেনে নিতাম। আসলে তিনি একজনের মধ্যে প্রথম হতে চান। এটাই হলো তার সাথে আমাদের পার্থক্য।

এ রকম একটা পরিস্থিতিতে সহায়ক সরকারের রুপরেখা দিলে সরকার যদি প্রত্যাখ্যান করে তাহলে বিএনপির কি করার থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, আমাদের নেত্রী ফিরে আসলেই সহায়ক সরকারের প্রস্তাবনা আমরা দিব। তারপর সরকারের ভুমিকার উপরেই পরবর্তী কার্যক্রম আমরা গ্রহণ করবো।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি করা হবে কি না- এক সাংবাদিক এ প্রশ্ন তুললে প্রধানমন্ত্রী তা নাকচ করে দেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগের পাশাপাশি আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর সমবেদনা জানাতে গেলে খালেদা জিয়ার তাকে ফটকের ভিতরে ঢুকতে না দেওয়ার কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “এরপর আর কেউ কখনও এ বিষয়টা আমার কাছে তুলবেন না। বিএনপির মতো একটি সন্ত্রাসী দল, জঙ্গিবাদী দল-তাদের সাথে বসতে হবে। তাদের সাথে বসে সমাধান করতে হবে-এই কথাটা আর কেউ বলবেন না, যেটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য না।”

বিএনপির বিরুদ্ধে হত্যা, দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, “বিএনপিকে কেন টেনে আনেন বলেনতো? কেন তাদের সঙ্গে বসতে হবে, কেন তাদের রক্ষা করতে হবে?”

রোহিঙ্গা ইস্যুতে অন্যান্য বিরোধী দলসহ বিএনপি সরকারের সঙ্গে আসবে কি না এক সাংবাদিক জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, “বিরোধীরা কী বললো না বললো সেটা নিয়ে তো রাজনীতি করি না।”

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন