রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০২:৫৪:৫৪ পিএম

একটি মেয়ের চ্যালেঞ্জ ও সফলতার গল্প

জেলার খবর | কুমিল্লা | বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ১১:৪৩:২৫ এএম

কুমিল্লা বোর্ডের শিক্ষার্থী পূজা পরীক্ষকদের খামখেয়ালি মার্কিংয়ের জবাব দিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটে সুযোগ পেয়ে পরীক্ষককে দেওয়া চ্যালেঞ্জে সফল হলেন পূজা। মেয়ের সফলতার পর ফেসবুকে বাবার পোস্ট এরই মধ্যে হয়েছে ভাইরাল। ফেসবুকে পূজা’র বাবার পোস্ট;

“আমার মেয়েটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘খ’ ইউনিটে চান্স পেল। কুমিল্লা বোর্ডের ইংরেজি পরীক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা ও খামখেয়ালিপনার কারণে তার ওপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেছে তা কাটিয়ে উঠে সে আবার নিজেকেই প্রমাণ করল।

ছোটবেলা থেকেই তার ইচ্ছে ছিল ইংরেজি সাহিত্য পড়বে। নিজেকে তৈরিও করেছিল সেভাবে। কিন্তু এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পরীক্ষকের খামখেয়ালিপনা তাকে বিপর্যস্ত করে ফেলে। ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে ৮০, প্রথম পত্রে ৩৩ নম্বর। কী পরিমাণ আন্ডারমার্কিং হলে এমনটা হতে পারে আমার বোধগম্য নয়। যেহেতু পুনঃপরীক্ষার কোনো সুযোগ নেই তাই পরীক্ষকের খামখেয়ালিপনার কাছে তাকে হার মানতে হলো। সে দিনই সে বলেছিল, এর জবাব আমি দেব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে। সে তা-ই করে দেখাল। ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি ২৫ নম্বরে সে পেয়েছে ২১ নম্বর। সে দিন এই মেয়েটি হতবাক করার মতো রেজাল্ট (৩৩ নম্বর) দেখে কষ্টের হাসি দিয়ে বলেছিল, ‘স্যার আমি এর জবাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে দেব। যদি পুনঃপরীক্ষার সুযোগ থাকত তাহলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমি ৮০ পাব। তো যাই হোক, আমি তো পাস করেছি। আমার অনেক সহপাঠী তো ইংরেজি প্রথম পত্রে ফেল করেছে। তাদের জীবন থেকে তো একটি বছর চলে গেল পরীক্ষকের খামখেয়ালিপনার কারণে।’

সে দিন সে আরও বলেছিল, ‘আমি হয়তো বিসিএস দেব, ভাগ্য হয়তো আমাকে অনেক ওপরে নিয়ে যাবে। কিন্তু আমার মার্কশিটে তো ৩৩ নম্বর থেকে যাবে। এটি তো আমার জন্যে অনেক কষ্টের, বেদনার। আর কোনো শিক্ষার্থীর ভাগ্যে যেন এমন দুর্ঘটনা না ঘটে কোনো পরীক্ষকের খামখেয়ালিপনার কারণে।’

এ মেয়েটির অভিভাবক হিসেবে কুমিল্লা বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি থাকবে, এ রকম অপদার্থ, অযোগ্য, মস্তিষ্কবিকৃত ইংরেজি শিক্ষককে যেন আর পরীক্ষক বা প্রধান পরীক্ষক করা না হয়। সারা জীবনের একজন ছাত্রছাত্রীর প্রচেষ্টা এই সমস্ত অযোগ্য ইংরেজি শিক্ষকের কারণে শেষ হয়ে যেতে পারে। (ইংরেজি শিক্ষকদের সাতকাহন পরে লিখব)।

তার জীবনের আরেকটি অধ্যায় শুরু হলো। কোলে পিঠে করে ওকে গড়ে তুলেছি। পুজোর সময় জন্ম বলে তার নাম রেখেছিলাম পূজা।”

বাবা রতন কুমার মজুমদার পেশায় একজন শিক্ষক। চাঁদপুর পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তিনি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন