বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:১৪:৪১ এএম

৫৮ জন হত্যাকারীকে কেনো টেরোরিস্ট বলা হচ্ছেনা!

সাইফুর সাগর, মন্ট্রিয়ল | খোলা কলাম | শনিবার, ৭ অক্টোবর ২০১৭ | ১০:৪৪:৪৩ এএম

লাস ভেগাসের কনসার্টে রোববার বন্দুকধারীর গুলিবর্ষণের পর লোকজন প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন -এএফপি


পাঠক আমি আজকের লেখাটি গভীর অনুভূতি নিয়ে লিখতে বসেছি. এই লেখাতে আমার অনেক প্রশ্ন রয়েছে যার উত্তর সবার জানা, কিন্তু আমরা কেউই মুখ খুলে বুক ফুলিয়ে বলার সাহস পাইনা।

লাসভেগাসে স্মরণকালের সবচে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হলো, খোদ পিউর আমেরিকান নাগরিকের হাতে. হত্যাকান্ডটিকে বিশ্বমিডিয়া ফলাও করে প্রায় ২৪ ঘন্টা হেডলাইন হিসেবে রেখেছিলো।

কিন্তু খুব কম সময়ের মধ্যেই এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের নির্মমতা নিয়ে কানাঘুষা একেবারেই কমে গেলো।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, হত্যাকারীকে কেউ সন্ত্রাসী বলেনি, শুধুমাত্র আমেরিকান অসুস্থ লোক বলেই দায়সারা ভাবে পাশ কাটিয়ে গেলো।

আমরা বিগত আমলের অনেক হত্যাযজ্ঞ দেখেছি বিশ্বব্যাপী. আমেরিকাতেও এর আগে এরকম বন্দুকধারীদের গুলিতে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

প্রতিবারই প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পেছনের লোকটির পরিচয় যখনি মুসলিম নামধারী পাওয়া যেতো, বিশ্বমিডিয়া খুব রক্ষণ ও উৎসাহের সাথে মাস জুড়ে সারাবিশ্বের মুসলমানদের কপালে সন্ত্রাসের তিলক এঁটে দিতো।

দুঃখজনক হলেও সত্যি, মুসলমান দেশগুলির গণমাধ্যমেও পশ্চিমা দেশের প্রতিটি অপবাদকে মাথা পেতে নিয়েছে।

প্রতিটি ঘটনাই দুঃখজনক ও অনাকাঙ্খিত, আমরা কোনো হত্যাকান্ডকেই সমর্থন করিনা ।



কিন্তু অবাক বিস্ময় হলো, এই ধরণের ঘটনাকে যখন পুঁজি করে একটি জাতি এবং রাষ্ট্রকে নিঃশ্বেস করে দেয় ।

সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন কয়েকটি ঘৃণ্য অধ্যায় আমরা দেখেছি. আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া , লিবিয়া সহো বহু দেশকে নিশ্চিন্ন ও সেসব দেশের আন্তর্জাতশক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরকে ব্যভিচার এবং চরম কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ, নারী শিশুকে শতাব্দীর নিষ্ঠুরতম পন্থায় অত্যাচার করে মারা হয়েছে শুধুমাত্র মুসলমান বলে।

আমি ধর্মীয় গোড়ামির মানুষ নই, তবে আমি বিশ্বাস করি এবং সন্মান করি অন্য মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধকে।

আমার কাছে মাঝে মাঝে মনে হয়, পশ্চিমারা সবচেয়ে বেশি ধর্মীয় গোঁড়ামির জাতি, হয়তো আমাদের মতো ঢাক ঢোল পিটিয়ে নয়, তাঁদের ধর্মীয় রাজনীতি হলো বিশ্বব্যাপী ভিন্ন উপায়ে।

লাসভেগাসের ঘটনায় অনেকটুকুই প্রমাণিত, আমেরিকান খুনি হওয়াতে হত্যাকারীকে সন্ত্রাসী বা কোনো ধর্মীয় জাতি গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করা হয়নি।

আজ মুসলমান পরিচয়টি বিশ্বব্যাপী একটু ভয়ঙ্কর পরিচয়ে পরিণত হয়েছে।

আমরা এমন এক পর্যায়ে এসে গেছি, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এমন এক দুনিয়ায় যাচ্ছে যেখানে তাঁদের পরিচয় মুসলমান বলতে দ্বিধাবোধ করবে।

কারণ, আমরা আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধকে নিজেরাই সন্মান দিতে পারিনি।
আমাদের মাঝে হাজারো বিভাজন তৈরিতে সক্ষম হয়েছে বিধর্মীরা।

আমাদের বিভাজনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, মুসলমানকে মুসলমানের বিরুদ্ধে দাঁড় করতে সক্ষম হয়েছে।

এটাই তাদের বা অন্য ধর্মীয়দের ধর্মীয় রাজনীতি।
আজ তারা সার্থক, আমরা হেরে গেছি।

আমাদের আরো অনেক বিশাল ধরণের ধ্বংসের সম্মুখীন হতে হবে শীঘ্রই.

আমাদেরকে পুরো দমেই নিঃশ্বেষ করে ছাড়বে তারা।

সকল জাতি ও ধর্মের মানুষের মাঝে মানবতার অস্তিত্ব জাগ্রত হোক ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন