মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১১:২৬:৫২ পিএম

জেনেশুনে ব্লু হোয়েলের মরণ ফাঁদে টাঙ্গাইলের তরুণ

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা | জেলার খবর | টাঙ্গাইল | শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৭ | ০৭:২৬:২০ পিএম

নিশ্চিত মৃত্যু এবং মরণ ফাঁদ হিসেবে বর্তমান বিশ্বের আতঙ্ক ‘ব্লু-হোয়েল সুইসাইড গেম’। সব জেনেশুনে গেমটির আসক্তির শিকার হয়েছে হৃদয় (২০) নামের এক তরুণ।

সে টাঙ্গাইল গোপালপুর উপজেলায় বয়ড়াপাড়া আলমনগর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আমজাদ আলীর ছেলে।

হৃদয়ের অস্বাভাবিক আচরণে বিষয়টা প্রকাশিত হলে গত (১১ অক্টোবর) তার স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হৃদয় এসএসসি পাশের পর গাজীপুর একটা পেপার মিলে চাকরি করে। সেখানে ফেসবুক ব্যবহার করতে করতে ব্লু-হোয়েল সুইসাইড গেমের মরণ ফাঁদে ঢুকে যায়। গেমটি খেলতে খেলতে হৃদয় তার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে গত (১১ অক্টোবর) তার ফেসবুক পেইজে ব্লেড দিকে কাটা তার একটা হাতের ছবি পোষ্ট দেয়।

ছবিটি ফেসবুকের মাধ্যমে তার সৌদি প্রবাসী মামা কবির হোসেনের নজরে আসে। কবির বিষয়টা সৌদি থেকে তার পরিবারকে জানালে, পুরো গ্রাম জুড়ে একটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। এরপর গত (বুধবার) রাতে পরিবারের লোকজন হৃদয়কে গাজীপুর থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে।

হৃদয় জানায়, গত ২০দিন আগে সে তার মোবাইল ফোনের নেট অন করলে তার মোবাইল স্কিনে একটা অ্যাপ ভাসতে থাকে। সে ওই ঘাতক গেমটি সম্পর্কে সচেতন থাকলেও, একটা কৌতুহল নিয়ে গেমটি ওপেন করে। এরপর তার ফোনে একটা কল আসে এবং তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে নেয়। এভাবেই গেমটির একজন অ্যাডমিন বা নির্দেশ দাতার মাধ্যমে শুরু হয়ে যায় গেমটির মজার মজার ধাপ এবং চ্যালেঞ্জিং সব পর্ব।

গত ২০ দিন ধরে সে গেমটির কত পর্ব পর্যন্ত খেলেছে বা কি কি কাজ করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে হৃদয় জানায়, আমার কিছু মনে নেই, তবে গেমটি খেলার প্রথম দিকেই আমার হাতে তিমি মাছের ছবি আঁকতে বলা হয়েছিল। সেদিন রাতে হাত কেটে ছবি আঁকতে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। সকালে ঘুম থেকে জেগে আমার রক্তাক্ত হাত দেখতে পাই। তবে রাতে ঘটে যাওয়া কিছুই আমার মনে পড়ছিল না।

হৃদয়ের নানা আব্দুল হামিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা হৃদয়কে নিয়ে ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছি। তার মোবাইল সহ সীমকার্ড বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এইসব জীবনঘাতী গেম যেন ছেলে-মেয়েদের হাতে পৌঁছাতে না পারে সেই জন্য তিনি দেশের সরকারকে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

এদিকে হৃদয়ের মা হাজেরা বেগম ছেলের প্রাণ হারানোর ভয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। হৃদয়কে পারিবারিক কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।এ নিয়ে পুরো এলাকায় অভিভাবকদের মনে তাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন