বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:০৯:৫০ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ৪ লাখ টাকায় চুক্তি, অতঃপর...

শিক্ষাঙ্গন | মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ | ০১:০৪:২২ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদভূক্ত ক-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় 'ডিভাইস' নিয়ে জালিয়াতি ডিজিটাল জালিয়াতির দায়ে আটক ১২ শিক্ষার্থীকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে আদালত বসিয়ে এই শাস্তি প্রদান করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদ এলাহী। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরের মোট ৮৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ কেন্দ্র থেকে আটক আল ইমরান ও নূরে আলম আরিফ, কাজী মোতাহার হোসেন ভবন থেকে আবু হানিফ নোমান এবং উদয়ন স্কুল থেকে মো. শাহপরান, মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শৌমিকা প্রতিচি সাত্তার, মতিঝিল আইডিয়াল কলেজ থেকে খন্দকার সিরাজুল ইসলাম ও মো. রাকিবুল ইসলাম, লালমাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে মোছা. আরিফা বিল্লাহ তামান্না, শেখ বোরহানউদ্দিন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ থেকে মো. আবুল বাশার ও নাহিদ হাসান কাউসার এবং আহম্মেদ বাওয়ানি একাডেমি কেন্দ্র থেকে এসএম জাকির হোসাইন ও মো. তানভীর হোসাইন।

এদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে মোবাইলফোন এবং বাকিদের কাছ থেকে এটিএম কার্ড সাদৃশ ডিজিটাল ডিভাইস ও কানে শোনার জন্য পুথির মতো ছোট ডিভাইস পাওয়া গেছে।

আটককৃতরা জানিয়েছেন, সর্বনিম্ন ৪ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে তারা চুক্তি করেন। সেই অনুযায়ী তাদেরকে ডিজিটাল ডিভাইস সরবরাহ করা হয়। আটককৃতদের পরীক্ষা চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আটক করে নিয়ে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদ এলাহী সাংবাদিকদের বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতি করার ১২ জনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

জালিয়াতির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম আমজাদ আলী বলেন, কেন্দ্রে প্রবেশকালে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেক করার পরেও নানা কৌশলে জালিয়াত চক্রের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করছে। তবে চক্রের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ শিক্ষার্থীদের আমরা ধরতে সক্ষম হয়েছি। তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরের মোট ৮৭টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৭৬৫ আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮৯ হাজার ৫০৬ জন ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রী। পরীক্ষা চলাকালীন সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান কার্জন হল পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ও ক ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মো. হাসানুজ্জামানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ। -যুগান্তর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন