শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭ ০৯:৪৪:৪২ পিএম

বৃষ্টি থামলেই শীত নামবে

ভিন্ন খবর | শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭ | ০৬:০৯:৩৩ পিএম

গ্রামবাংলায় একটি কথা প্রচলিত আছে- ভাদ্র মাসে শীতের জন্ম। কোনো কোনো অঞ্চলে প্রচলিত রয়েছে- ভাদ্র মাসের ১৩ তারিখ শীতের জন্ম। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই ঋতুচক্র কিছুটা যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে। মাঝে ২০১৩ সাল ছাড়া ২০১০ সাল থেকেই শীতের অনুভূতি পেতে পেতে কার্তিক মাস গড়ায়। এবারও কার্তিকে এসে শীতের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে। শীত কড়া নাড়ছে দুয়ারে।

এ সময়টাকে বলা হয় ট্রানজেকশন পিরিয়ড। এ সময় প্রকৃতিতে চলে বর্ষার বিদায় আর শীতের আগমনের প্রস্তুতি। প্রকৃতিতে শীত আসে একটু একটু করে। ঠিক যেমনটি হচ্ছে গত চার-পাঁচ দিনে। রাতের প্রকৃতির বুকে নিঃশব্দে নেমে এসে মেলে ধরছে কুয়াশার চাদর, ভোর রাতে ঠান্ডা হাওয়ায় ফুরফুরে প্রকৃতি। ভোররাতে হিম হিম বাতাস।

অবশ্য এ সময়কে প্রাকশীতও বলা হয়। এখন হেমন্তকাল। তাই ভোরে সূর্য ওঠার আগে ঘরে গরম, বাইরে ঠান্ডা অনুভূত হবে। (গত দুদিন নিম্নচাপের কারণে ব্যতিক্রম)। একটু একটু করে শীত নেমে আসবে। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই ‘মিষ্টি শীত’ পড়তে শুরু করবে। ডিসেম্বরে এর তীব্রতা আরো কিছুটা বাড়বে। আর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে শীত অনুভূত হবে সর্বোচ্চ।

গত ১৭ অক্টোবর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। সেই স্থানে উত্তুরে বায়ু এখনো আসেনি। কিন্তু সাগরে নিম্নচাপের কারণে দুই দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টি নিয়ে এসেছে শীতের আমেজ। বৃষ্টি শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে বাংলাদেশের আকাশে প্রবেশ করবে উত্তুরে হাওয়া। শুরু হবে শুষ্কতা, পড়বে শীত।

গ্রামাঞ্চলে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে রাতে বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে। এমনকি রাজধানীতেও গভীর রাতে কুয়াশা অনুভূত হচ্ছে গত কয়েক দিন ধরে। অক্টোবরের দ্বিতীয়ার্ধে শীতের আমেজ শুরু হয়। এটা স্বাভাবিক। তবে এই আবহাওয়াকে এখনো ‘আগাম শীত’ বলা যাচ্ছে না। কিন্তু বর্তমান নিম্নচাপটি কেটে গেলে রাজধানীসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যে শীত অনুভূত হবে, এটি মোটামুটি হলফ করেই বলা যায়।

এরই মধ্যে আবহাওয়ায় পরিবর্তন এসেছে। টানা বৃষ্টি শুরুর আগে গত সপ্তাহেও রাজধানীতে দিনে রোদের তেজ থাকলেও সকাল-সন্ধ্যায় হেমন্তের মিহি কুয়াশা দেখা গেছে। এটি শীতের আগমনী বার্তা। ষড়ঋতুর দেশে নবান্নের সুবার্তা নিয়ে আসা কার্তিক মাসে প্রকৃতির চিরায়ত রূপ অবশ্যই কয়েক বছর ধরে এমনই হয়। ফসলের মাঠজুড়ে সোনালি হাসির আভা ছড়িয়ে পড়ে। কার্তিকের প্রথম সপ্তাহ চলে এখন। বৃষ্টি হলেও শহরে শীতের প্রকোপ তেমনটা অনুভূত হচ্ছে না। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে শীত পড়তে শুরু করেছে।

শীতের আগমন বাংলার মানুষের মনে এক অনাবিল আনন্দের জন্ম দেয়। শীত শুরুর আগেই কৃষকের ফসল কাটা প্রায় শেষ হয়ে আসে। আর গোলাভরা ধানের এ আনন্দকে উৎসবে পরিণত করতে আয়োজন করা হয় রস-পিঠার। রস আর পিঠার এ আয়োজন চোখে পড়ে গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে। আর দিনকয়েক পড়েই কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়বে সারা দেশ। কনকনে ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতে দৈনন্দিন কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যেতে হবে সবাইকে। আর সবাইকে প্রস্তুত হতে হচ্ছে শীতকে বরণ করতে।

দেশে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে শীতের শুরু হয়। কিন্তু অগ্রহায়ণ পেরিয়ে পৌষ-মাঘ শীতকাল ধরা হলেও হেমন্তেই শীত অনভূত হওয়া শুরু। গত কয়েক দিন ধরেই তাপমাত্রা ক্রমেই কমছে। আগামী কয়েক দিনেও তাপমাত্রা কমতে থাকবে। এর প্রভাবে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে চলতি সপ্তাহের শেষভাগে থেকেই শীতের আমেজ অনুভূত হতে পারে। যদিও কিছু কিছু অঞ্চলে এখনই শীত অনুভূত হচ্ছে। সপ্তাহের শেষ নাগাদ বাতাস বইবে উত্তর দিক থেকে। এ বাতাসই হিমালয় পাড়ি দিয়ে শীত নিয়ে আসবে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে।

গতকালই কথা হচ্ছিল উত্তরাঞ্চলের দুটি জেলার পরিচিতজনদের সাথে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসব জেলার গ্রামবাংলার প্রকৃতি এরই মধ্যে আস্তে আস্তে পরিবর্তনের ছোঁয়া পেতে শুরু করেছে। শরতে কাঁশফুল ঝড়ে গেছে এরই মধ্যে। নীল আকাশে মেঘের শুভ্রতাও কমে আস্তে আস্তে ঘোলাটে বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে। গাছের সবুজ পাতাও শুকিয়ে জীর্ণ হয়ে বিষণ্নতার রূপে সাজতে শুরু করে দিয়েছে। অর্থাৎ, শীতের ছোঁয়া লাগা শুরু হচ্ছে এসব স্থানে। এবার রাজধানীর পালা।

শীত আসতে আরো কিছু দিন বাকি থাকলেও প্রস্তুতি এখনই চোখে পড়ছে। শীতের প্রধান আকর্ষণ খেজুরের রস সংগ্রহে বিভিন্ন জেলার গাছিরা গাছ প্রস্তুতের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। রাজধানীতেও কিছু কিছু স্থানে ভাপাপিঠা বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। কাপড় ব্যবসায়ীরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন, প্রস্তুতি নিচ্ছেন হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও। শীতের পোশাকে সাজবে সব দোকান। আর কয়েক দিন পরেই যে জমবে বিকিকিনি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন