বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৭:০১:০০ পিএম

শাখাওয়াতে মৃত্যু নিয়ে রহস্য, কবর থেকে লাশ তুলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর

মোঃ আঃ রহিম রেজা | জেলার খবর | ঝালকাঠি | রাজাপুর | বুধবার, ৩১ আগস্ট ২০১৬ | ০৪:০১:১৭ পিএম

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের মানকি গ্রাম থেকে  শ্রমিক শাখাওয়াত খলিফাকে কাজ দেয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নেয়ার  একদিন পরে কাঠালিয়ায় মৃত দেহ পাওয়া যায়।
শ্রমিক শাখাওয়াত হোসেন  খলিফা (৪৫) কে গত ২৪ আগষ্ট তার ভায়রা রাজাপুর উপজেলার মানকি গ্রামের  জয়নাল আবেদিনের ছেলে বেল্লাল হোসেন হাওলাদার ও তার সঙ্গি নাসির বাড়ি  থেকে কাঠালিয়ার সোনার বাংলা বাজার সংলগ্ন ইটভাটায় কাজ দেয়ার কথা  বলে ডেকে নিয়ে যায়। 
এরপর তার মৃত দেহ গত ২৫ আগষ্ট কাঠালিয়া স্বাস্থ্য  কেন্দ্র থেকে পুলিশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঝালকাঠি নিয়ে আসে। এ  ব্যাপারে কাঠালিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (নং ১৮, তারিখ ২৫ আগষ্ট  ২০১৬) দায়ের করা হয়। ২৬ আগষ্ট পর্যন্ত কাঠালিয়া থানা পুলিশ লাশের কোন  পরিচয় না পাওয়ায় ছবি তুলে রাখে। 
গত ২৭ আগষ্ট শুক্রবার ঝালকাঠি কবরস্থানে  বেওয়ারিশ হিসেবে শাখাওয়াতের লাশ দাফন করা হয়। এ ব্যাপারে শাখাওয়াতের  মা আমেনা বেগম জানায়, বাড়ি থেকে ডেকে নেয়ার দুই দিন পর আরেক  জামাই বেল্লাল বাড়িতে এসে শাখাওয়াতের জামা কাপড় দিয়ে জানায়  শাখায়াতকে পাওয়া যাচ্ছে না, এই তার জামা কাপড়। স্বজনদের কাছে বেল্লাল  জানায়, কাজের পারিশ্রমিক চাওয়ায় বেল্লালের সঙ্গি নাসির টর্চ লাইট  দিয়ে আঘাত করে। 
এতে রাগ করে শাখাওয়াত কোথায় যেন গিয়েছে। এই  ঘটনার পর মা আমেনা বেগম বেল্লালের ঘনিষ্ট এলাকার কবির মেম্বরের কাছে  গিয়ে রাজাপুর থানায় জিডি করার কথা জানালে ঐ মেম্বর জিডি না করতে  বলে খুঁজে দেখবেন বলে জানায়। রোববার কাঠালিয়া থানায় দু’দিন আগে  একটি মৃতদেহ পেয়েছে বলে জানতে পারে শাখাওয়াতের মা ও তার স্বজনরা।  সেখানে গিয়ে ময়না তদন্তের আগে কাঠালিয়া পুলিশ অজ্ঞাত মৃতদেহের  তোলা ছবি দেখে শাখাওয়াতকে চিনতে পারে।
তখন কাঠালিয়া থানার পুলিশ  তাদেরকে জানায়, ময়না তদন্তের পর লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে ঝালকাঠি  করস্থানে দাফন করা হয়েছে। তাই সোমবার স্বজনরা ঝালকাঠি এসে পৌর  মেয়রের সাথে যোগাযোগ করে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে একটি মৃতদেহ  দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। শাখাওয়াতের মা আমেনা বেগম তার ছেলে  শাখাওয়াতের মৃতদেহের ছবিটি বুকে নিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরে এবং এই  হত্যার সাথে জড়িত বেল্লালসহ সবার বিচার দাবী করেন। 
এই ঘটনার বিষয়ে  কাঠালিয়া থানার এসআই আবু জাফর জানান, গত ২৫ আগষ্ট কাঠালিয়ার  আমুয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তার সৈয়দ ইমতিয়াজ উদ্দিনের মাধ্যমে আমরা খবর  পেয়ে সেখান থেকে শাখাওয়াতের মৃতদেহ উদ্ধার করি। 
মৃতের সুরতহাল  প্রতিবেদনে পেটের উপরে, বুকের নিচে, পায়ের হাটুতে ও আঙ্গুলে চামড়ায়  দাগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ  মানিকহার রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে মঙ্গলবার বিকেলে লাশ উত্তোলন করে  পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।  

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন