মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৭:০৭:১৬ পিএম

মোবাইল চুরি নয়, চাচীর পরকীয়া দেখা ফেলায় আজিজাকে পুড়িয়ে হত্যা!

জেলার খবর | নরসিংদী | রবিবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৭ | ১২:৩৯:০১ পিএম

মোবাইল চুরি নয়, চাচির সঙ্গে পরকীয়া প্রেমিকের অপ্রীতিকর ঘটনা দেখে ফেলার কারণেই ৫ম শ্রেণির ছাত্রী আজিজাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃত তমুজা বেগম।

আর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে আজিজার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

গতকাল শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের দগ্ধ অবস্থাতে তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজন ও পরিবারের অভিযোগ, মোবাইল চুরির অভিযোগে মেয়েটিকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে প্রথমে নির্যাতন ও পরে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

নিহত আজিজার বাড়ি নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার খনকুট গ্রামে। বাবার নাম আব্দুর সাত্তার, মা রেহেনা বেগম। আজিজা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। পাঁচ বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল চতুর্থ।

এদিকে সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আজিজার চাচী বিউটি বেগমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে শিবপুর থানায় মামলা করেছেন নিহতের পিতা সাত্তার মিয়া। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিউটি বেগমের মা সানোয়ারা বেগম, তার ভাই রুবেল মিয়া ও তার ফুপু শাশুড়ি তমুজা বেগম। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বিউটির স্বামী সালাম মিয়া তিন মাস আগে মালয়েশিয়া যান। এরপর বিউটি এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। সম্প্রতি কিশোরী আজিজা তার চাচির পরকীয়ার ঘটনা দেখে ফেলে।

এ জন্য বেশ কিছুদিন ধরে আজিজাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বিউটি। এ জন্য তিনি তার চাচাতো ভাই রুবেল, মা সানোয়ারা বেগম ও ফুফুশাশুড়ি তমুজা বেগমকে ডেকে আনেন বলে উল্লেখ করা হয় এজাহারে।

এতে আরও বলা হয়, পরে মোবাইল ফোন চুরির নাটক সাজিয়ে আজিজা সেটি চুরি করেছে বলে অপবাদ দেয়া হয়। এরপর শুক্রবার বিউটিকে ধরে নির্জন স্থানে নিয়ে হাত-মুখ বেঁধে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করেন।

শুক্রবার রাতে খইনকুট গ্রামে আজিজার হাত-পা বেঁধে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হলে তার শরীরের ৯৬ শতাংশ পুড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হলে শনিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

বাবা আবদুস সাত্তার জানান, আজিজাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তাকে হত্যার ঘটনার বিবরণ জানিয়েছে গেছে।

এদিকে পুলিশের হাতে আটক তমুজা বেগম বলেন, বিউটি বেগমের স্বামী মালোয়েশিয়ায় যাওয়ার পর বিউটি বেগম পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। প্রেমিকের সঙ্গে অবাদে মেলামেশা শুরু করে। এরই মধ্যে বিউটি বেগমের সঙ্গে তার প্রেমিকের অবৈধ মেলামেশার দৃশ্য দেখে ফেলেন স্কুলছাত্রী আজিজা। এরপর থেকেই আজিজাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অংশ হিসেবে মোবাইল চুরির নাটক সাজানো হয়। ঘটনাকে বাস্তবায়ন করতে পরিকল্পিতভাবে মোবাইল চুরির অপবাদ দেয়া হয় আজিজা ও তার বোনকে।

শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সৈয়দুজ্জামান জানান, মোবাইল চুরি নয়, চাচির সঙ্গে পরকীয়া প্রেমিকের অপ্রীতিকর ঘটনা দেখে ফেলার কারণেই আজিজাকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাত ১১টার দিকে বিউটির ফুফু শাশুড়ি তমুজা বেগম বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে আরও কে কে জড়িত তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন