বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৪:০৮:৩৬ এএম

পাবনায় কলেজ ছাত্রী গৃহবধূকে তুলে নিয়ে নির্যাতন

জেলার খবর | পাবনা | সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৭ | ০১:৪৩:৪৩ পিএম

শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে বাবার বাড়ি এসেও স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পেলেন না শারমিন আক্তার। তাকে কলেজ থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর আহত করেছে স্বামী-শাশুড়ি।

মাথার চুল টেনে ছিঁড়ে ও গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালানোর এক পর্যায়ে তার চিৎকারে রাস্তার লোকজন এগিয়ে আসায় প্রাণে বেঁচে যান শারমিন।

স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাকে ছেড়ে দিলেও পরে বাবা-মাকে ডেকে জোরপূর্বক তাকে দিয়ে তালাকনামায় স্বাক্ষর করানো হয়। এই নির্মম অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নের গাঁওগোয়াল ফকিরপাড়া গ্রামে।

শনিবার সন্ধ্যায় নির্যাতিত শারমিন তার এক আত্মীয়ের বাসায় সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতনের কাহিনী তুলে ধরেন সাংবাদিকদের কাছে। সম্মেলন শেষে তিনি ঈশ্বরদী থানায় স্বামী আবদুস সালাম, শাশুড়ি ঝর্ণা বেগম, ননদ দিলরুবাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তিনি আওতাপাড়ার নূরজাহান বালিকা বিদ্যানিকেতন অ্যান্ড কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির ছাত্রী এবং মুলাডুলি বাঘহাছলা গ্রামের কৃষক আবদুল জলিল খন্দকারের মেয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে শারমিন জানান, অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ২০১৪ সালে উপজেলার সাহাপুরের গাঁওগোয়াল ফকিরপাড়া গ্রামের ওয়াহেদ হাসানের ছেলে আবদুস সালাম ফকিরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।

প্রায় এক বছর আগে যৌতুকের দাবিতে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বাবার বাড়িতে থেকেই লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন শারমিন। গত বুধবার পরীক্ষার ফি জমা দেওয়ার জন্য কলেজে গেলে সেখান থেকে আবদুস সালাম জোর করে তাকে তার বাড়িতে তুলে নিয়ে যায় এবং মারধর করে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দীন বলেন, অভিযোগটি আমরা হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন