রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০২:৫৩:১৮ পিএম

লালমনিহাটে বিয়ের প্রলোভনে প্রেমিকাকে ধর্ষণ, থানায় অভিযোগ

জেলার খবর | লালমনিরহাট | শনিবার, ৪ নভেম্বর ২০১৭ | ১০:৪০:৪৫ এএম

লালমনিহাটের অাদিতমারী উপজেলার নামুড়ি বাজার এলাকা থেকে বিয়ের প্রলোভনে ডেকে অভিনব কায়দায় প্রেমিকাকে অপহরন করে দুই দিন যাবত ধর্ষণ করে বাড়ির পাশে ফেলে যায় মাইদুল ইসলাম (২৪) নামের এক প্রেমিকা। স্থানীয়রা ঐ স্কুল ছাত্রী (১৫) কে উদ্ধার করে আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করেন।

শুক্রবার(৩ নভেম্বর) সকালে তাকে আদিতমারী হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে চিকিৎসকরা।
এব্যাপারে মেয়ের বাবা নারী শিশু নির্যাতন অাইনে থানায় একটি মামলা করেন। যাহার নং অাদিত /১ নভেম্বর ১৭।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) দিনগত রাতে তাকে উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের রথের পাড় এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। অপহৃত ছাত্রী উপজেলার নামুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীতে পড়াশুনা করছে। সে ওই এলাকার মুদি ব্যবসায়ীর মেয়ে।

এলাকাবাসী ও অপহৃত স্কুল ছাত্রী জানান, স্কুল যাওয়া আসা পথে তাকে প্রায় উত্ত্যাক্ত করে আসছিল পলাশী ইউনিয়নের ম্যালম্যালি বাজার এলাকার প্রভাবশালী মেহের আলীর ছেলে মাঈদুল ইসলাম(২২)। বিষয়টি মাঈদুলের পরিবারকে অবগত করেও কোন সুফল হয়নি। এরপর ৪ মাস আগেও ওই ছাত্রীকে অপহরনের চেষ্টা চালায় লম্পট মাঈদুল ইসলাম। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সালিশ বৈঠকে মাঈদুলকে শাসন করে নিস্পত্তি করা হয়। কিন্তু চরিত্র সংশোধন করে নি লম্পট মাঈদুল। গত বুধবার (১ নভেম্বর) দিনগত রাতে ওই ছাত্রী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে লম্পট মাঈদুল ও তার দুই বন্ধু মিলে মেয়েটি অপহরন করে নিয়ে একাধিক বাড়িতে ধর্ষন করে। পরদিন সন্ধ্যায় মেয়েটি রথেরপাড় নামক স্থানের জনৈক মহুবর রহমানের বাড়ির পাশে রেখে পালিয়ে যায় লম্পট মাঈদুল।


অবশেষে মেয়েটি একজনের সহযোগিতায় বাড়িতে ফোন করে অবস্থান জানালে বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আদিতমারী হাসপাতালে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পাঠানো হয় লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে। সদর হাসপাতালে চলছে তার চিকিৎসা।

মেয়েটির মা জানান, লম্পট মাঈদুল দীর্ঘ দিন ধরে তার মেয়েকে বিরক্ত করে আসছে। বারংবার নিষেধ করার পরও নাবালিকা মেয়েটিকে জোরপূর্ব বিয়ের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে লম্পট মাঈদুল। তিনি এর সুষ্ট বিচার দাবি করেন।

আদিতমারী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্ব থাকা সৌরভ চন্দ্র জানান, মেয়েটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এব্যপারে অাদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ হরেশ্বর রায়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সৃষ্ট ঘটনায় অাদিতমারী থানায় নারী শিশু নির্যাতন অাইনে একটি মামলা রজু করা হয়েছে এবং আসামী ধরে আইনের আওতায় আনার সকল চেষ্টা অব্যাহত আছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন