রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০২:৫৩:৩১ পিএম

ঝিনাইদহের বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রয় হচ্ছে অতিথি পাখি, আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই

আতিকুর রহমান | জেলার খবর | ঝিনাইদহ | শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০১৭ | ১০:১৪:৫৯ এএম

ঝিনাইদহের হাটবাজারে বিক্রয় হচ্ছে শীতের অতিথি পাখী । আইন থাকলেও আইনের প্রয়োগ হচ্ছেনা । জেলার বিভিন্ন বিল,হাওড়,বাউড়ে এখন অতিথি পাখী আসতে শুরু করেছে আর সেই সুযোগে এক শ্রেণীর শৌখিন ও পেশাদার পাখিশিকারিরা বন্দুক,বিষটেপ,জাল ও বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে এসব পাখি নিধন করছে।

এতে করে একদিকে জীববৈচিত্র ধবংসো হচ্ছে অন্যদিকে ফসলের জমিতে ক্ষতিকর পোকার আক্রমন বাড়ছে। ১৯৭৪ সালে বন্য প্রানী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দন্ডের বিধান রয়েছে।

এত বলা হয়েছে পাখি শিকার বা নিধনের সর্বোচ্ছ শাস্তি ১বছর জেল,১ লক্ষ টাকা দন্ডে দন্ডিত হতে পারে।কিন্ত বাস্তবে এই আইনের কোন প্রয়োগ নেই।ঝিনাইদহ কৃষি অফিসার ড.খান মুহাম্¥দ মনিরুজ্জামন জানান পাখি নিধন করা যাবে না কারন পাখি কৃষকের বন্ধু,এরা পোকা মাকড় খেয়ে কৃষকের জমির বিভিন্ন ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে পোকার আক্রম থেকে ফসলের রক্ষা করে।

কৃষি বিভাগ কৃষকের কিটনাশক ব্যবহার কমাতে ও পাখিরা ধানের জমিতে অবাধ ভাবে বিচরণ করতে পারে সেই পরামর্শ দিচ্ছে, যাতে পাখি সংরক্ষণ হয় । ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটির বাসিন্ধা কুতুব উদ্দীন জানান শীতের শুরুতেই বিলে পাখী নেমেছে কিন্তু এক শ্রেনীর মানুষ নানান উপায়ে পাখি শিকার করছে এদের আইনের আওতায় আনা দরকার বলে মনে করছি দেশে আইন আছে কিন্ত এর প্রযোগ হচ্ছে না।

এদিকে ঝিনাইদহ সিনিয়র সাংবাদিক আসিফ ইকবাল কাজল জানান সাধুহাটি ইউনিয়নের বংকিরা ,রাঙ্গিয়ার পোতা ,আসান নগর বিলে হাজার হাজার পাখি এসেছে এর কারণ শীতের শুরুতেই বিলের পানি কমতে শুরু করেছে আর এসময় অল্প পানিতে খাবার সংগ্রহের জন্য অনেক দেশি বিদেশি অতিথি পাখি আসে আমাদের দেশের বিভিন্ন বিলে।

আমি ব্যাক্তি গত ভাবে মনে করি কেউ যেন পাখি শিকার না করে সেই দিকে কর্তপক্ষ এর মনিটারিং করা উচিত। হরিনাকুন্ডু,শৈলকুপা,মহেশপুর ,কোটচাদপুর,কালীগঞ্জ থানার বিভিন্ন বিলে এখন ঝাকে,ঝাকে অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে বলে বিভিন্ন সুত্র হতে জানা গেছে এবং সেখানেও পাখি শিকার করা হচ্ছে। গতকাল ডাকবাংলা বাজারে পাখি বিক্রয় হচ্ছে এমন সংবাদের সুত্র ধরে বাজারে গিয়ে দেখা গেছে পাখি বিক্রয় হচ্ছে ,হরিনাকুন্ড উপজেলার এক জনকে পাওয়া গেলো আর বাকীরা ততক্ষন ৮০/৯০ টি বিভিন্ন জাতের পাখি বিক্রয় করে চলে গেছে। শুধু পেলাম দৌলতপুর ইউনিয়নের জহিরুল ইসলামকে তিনি জানান এই পাখি রাতে বিল হতে জাল দিয়ে ধরা ।

জহুরুল কাইয়ুম পাখি এনে ছিলো ৯টি আর কাদা খোচা ১২ টি। কাইয়ুম পাখির দাম ৩০০/ ৩৫০ টাকায় বিক্রয় করেছে। তিনি জানান এই পাখি ধরে তাদের সংসার চলে। অনুসন্ধানে জানা গেছে নাথকুন্ডু,রাঙ্গিয়ার পোতা,বংকিরা আসন নগর ,গবরাপাড়া,বাদপুকুর সহ এখন বিলে প্রচুর পাখি আর এই পাখি শিকার করতে মানুষ রাতে জাল পেতে রাখে খুব ভোরে উঠে এই পাখি জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করে। সাধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজি নাজীর উদ্দীন জানান পাখি নিধন কোন মতেই গ্রহন যোগ্য নয়,আমি একদিন একটা ছেলেকে পাখি শিকার করতে দেখে তাকে বকা ঝকা করে তাড়িয়েছি।

আমার ইউনিয়নে কেউ যদি এমন অন্যায় করে তার শান্তি দেওয়ার ব্যবস্থ করবো । আর প্রশাসনের অনুরোধ করবো হাট বাজারে কেউ পাখি বিক্রয় করতে এলে তাকে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে বিচার করার আহবান করছি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন