সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ ১১:৩০:০০ পিএম

দৌলতপুরের ব্যাংগাড়ী যুদ্ধ ক্ষেত্র স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও সংরক্ষণ হয়নি

রোকনুজ্জামান | জেলার খবর | কুষ্টিয়া | শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০১৭ | ১২:৩১:৫২ পিএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পার হলেও সংস্কার করা হয়নি ব্যাংগাড়ী মাঠের যুদ্ধক্ষেত্র। আজ ১১ নভেম্বর ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিবাহিনী ও পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সবচেয়ে বড় সম্মুখ যুদ্ধ সংগঠিত হয় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ ব্যাংগাড়ীর মাঠে।

এলাকাবাসীর কাছে এটি ব্যাংগাড়ীর মাঠের যুদ্ধক্ষেত্র নামে পরিচিত। ওই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে তিন শতাধিক পাক হানাদার বাহিনীর সদস্য নিহত হয়। তবে দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৬ বছর অতিবাহিত হলেও সংরক্ষণ করা হয়নি যুদ্ধক্ষেত্রের এ স্থানটি।

একদিন ভারী অস্ত্রের মুহুর্মুহু গুলির শব্দে প্রকম্পিত হয়েছিল যে প্রান্তর, সেখানে এখন কেবল আগাছা ও ঝোপ- জঙ্গলে ভরে আছে। উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ ব্যাংগাড়ীর মাঠ থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শিকারপুর মুক্তিযুদ্ধ সাব-সেক্টর সদরের দূরত্ব ছিল মাত্র দেড় মাইল। এই সাব-সেক্টরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নভেম্বর মাসের দিকে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনী ওই এলাকায় এক প্রতিরক্ষা বেষ্টনী গড়ে তুলে।

কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই এ খবর পৌঁছে যায় পাশের পাক হানাদার ক্যাম্পে। খবর পেয়ে ১১ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর উপর দু’দিক থেকে অর্তর্কিত আক্রমণ শুরু করে পাক বাহিনী। তবে এ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারাই জয়ী হন। পাক বাহিনীর অসংখ্য সদস্য নিহত হয়। তবে পাক বাহিনী, তিন জন মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম ও মোসলেম উদ্দিন এবং মিত্র বাহিনীর তিন সদস্যকে জীবিত ধরে নিয়ে যায়।

মিত্র বাহিনীর তিন সদস্যকে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ফেরত দিলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধান আজও পাওয়া যায়নি। যুদ্ধে অংশ নেওয়া চক বিলগাথুয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃজালাল উদ্দীন ও প্রাগপুর গ্রামের যুদ্ধআহত বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আতাউল গনি সেদিনের যুদ্ধের স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন জানান, জীবন বাজি রেখে সেদিনের সেই সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৬ বছর পার হলেও আজও সংরক্ষণ করা হয়নি যুদ্ধক্ষেত্রের এ স্থানটি।

মুক্তিযুদ্ধের এ গৌরবগাঁথা স্মৃতি সংরক্ষণে এ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগই নেয়া হয়নি। তাই যুদ্ধক্ষেত্রের স্থানটি ছেঁয়ে গেছে ঝোপ-জঙ্গল আর আগাছায়। সেখানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানান দৌলতপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কামাল হোসেন দবির।

তিনি আরো জানান, সেদিন যুদ্ধে প্রাই ৪ থেকে ৫ শতাধিক পাক সেনা সদস্য নিহত হয় এবং মিত্র বাহিনীর দুই সদস্য শহীদ হোন। আজও যুদ্ধক্ষেত্রের এ স্থানটি কেন সংরক্ষণ করা হয়নি তা নিয়ে তিনি ক্ষোভও প্রকাশ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা ইতিহাস ভবিষ্যৎ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সরকার দ্রুত ব্যাংগাড়ীর মাঠের যুদ্ধক্ষেত্রের স্মৃতি সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেবে এমনটিই দাবি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ এলাকাবাসীর।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন