শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭ ০৯:৫৯:২৮ পিএম

শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয়: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খালেদা জিয়া

রাজনীতি | সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭ | ১১:১৩:৪৭ এএম

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষ জনতার জনসভায় ‘সংঘাতের বদলে ঐক্যে’র আহবান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আগামী নির্বাচন হতে হবে একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে। দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না, শেখ হাসিনার অধীনেতো নয়ই।

বিএনপি প্রধান বলেন, দেশের জনগণ পরিবর্তন চায়। এ পরিবর্তন আসতে হবে নির্বাচন ও ভোটের মাধ্যমে। যে নির্বাচনে জনগণ নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবে, ভোট দেবে। এজন্য প্রয়োজন নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন। শেখ হাসিনার অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না, হবে না।

নির্দলীয় সরকারের এ দাবি তুলে ধরার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকেও সরকারের অন্যায় আদেশ না মানার আহবান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।

তিনি বলেন, একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করার দায়িত্ব আপনাদের। আপনারা সরকারের কথা শুনতে পারেন কিন্তু তাদের অন্যায় আদেশ মানতে পারেন না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইভিএম বাতিল করতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী নিয়োগ করতে হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, আমরা রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন ও ঐক্যের রাজনীতি করতে চাই। আলাপ আলোচনা ছাড়া কোনোভাবেই এ পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। সংসদে থাকুক আর বাইরে থাকুক সবার সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করবো না। ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের প্রতি প্রতিহিংসা নয়, আপনাদের শুদ্ধি করবো।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ রোববার এ জনসভার আয়োজন করে বিএনপি।

দুপুর ২টায় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খানের কোরআন তেলোওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসে। নানামুখী বাধা সত্ত্বেও ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও হাজারো নেতা-কর্মী সমাবেশে উপস্থিত হয়। বেলা তিনটার মধ্যেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঠ ও এর চারপাশ লোকে লোকারণ্য হয়ে যোয়। কোথাও তিল পরিমান ঠাঁই ছিলো না। জনসভা রূপ নেয় জনসমুদ্রে। ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের মূল ফটকের সামনে, মৎসভবন থেকে শাহবাগ সড়কেও জনস্রোত গিয়ে পৌঁছায়।

খালেদা জিয়া মঞ্চে উঠেন বেলা সাড়ে ৩টায়। মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে মঞ্চে উঠেন অফ হোয়াইট রঙের শাড়ি পরিহিতা বিএনপি চেয়ারপারসন। হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের অভিবাদনের জবাব দেন তিনি।

৫১ মিনিট স্থায়ী বক্তব্যে খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন, সরকারের দুর্নীতি-অপশাসন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগ, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে চাপ দিয়ে পদত্যাগ করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, আজকে বিচার বিভাগের কী অবস্থা আপনারা দেখেছেন। প্রধান বিচারপতিকে পর্যন্ত জোর করে অসুস্থ বানিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। দেশের বাইরে পাঠিয়ে শুধু নয়, দেশের বাইরে এজেন্সির লোক পাঠিয়ে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন দেশে ফিরে আসতে। কিন্তু তাকে দেশে ফিরতে দেয়া হয়নি। তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাকে বাধ্য করা হয়েছে পদত্যাগ করার জন্য।

প্রধান বিচারপতি সত্য কথা বলেছেন বলে তার ওপর সরকারের এরকম আচরণ উল্লেখ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি কিছু সত্যি কথা বলেছিলেন-এই যে নিম্ন আদালত নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার, আবার জুডিশিয়ারির দিকেও তারা হাত বাড়াচ্ছে, একে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। তাহলে মানুষ ন্যায় বিচার পাবে না। আজকে সেটাই সত্য হলো। কথা বললে যে দোষ এটা আজকে প্রমাণিত হলো। তিনি সত্য কথা বলেছিলেন বিধায় তাকে আজকে বিদায় নিতে হয়েছে।

খালেদা জিয়া বলেন, আজ ঘরে ঘরে কান্না আর আহাজারি। এই সরকারের হাত থেকে মানুষ মুক্তি চায়, পরিবর্তন চায়।

এসময় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা কী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যেতে পারবেন, ভোট দিতে পারবেন। তখন উপস্থিতি নেতাকর্মীরা হাত তুলে সমস্বরে বলেন, ‘না’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না হতে পারে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তারা জনগণকে ভয় পায়। তাই জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। সবাই যাতে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোট নিজে দিতে পারে। সেজন্যই আমরা বলেছি নির্বাচন কমিশনের আমাদের কিছু কথা ইসির সংস্কারের জন্য দিয়ে এসেছি। বলেছি যদি সুষ্ঠু নিবাচন অবাধ করতে হয় তাহলে বিচারিক ক্ষমতায় দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। আজকে নির্বাচন কমিশন কেন বলে সেনা মোতায়েন হবে না ইভিএম হবে। সরকার যা বলে তাই করবে।

উপস্থিত নেতাকর্মীদের কাছে তিনি জিজ্ঞেসা করেন, হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে? আপনারা ভোট দিতে পারবেন? এ সময় স্বমস্বরে উপস্থিতি মানুষ ‘না’ বলে সায় দেন। তারা সবাইকে বের করে দিয়ে একচেটিয়া ভোট নেবে।

ইসির উদ্দেশ্য খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা সরকারের অন্যায় আবদার মানতে পারেন না। নির্বাচন কমিশনারদের বলতে চাই অবাধ নির্বাচন করার দায়িত্ব আপনাদের। ইভিএম বন্ধ করতে হবে। সেনা মোতয়েন করতে হবে। নির্দলীয় সরকারের ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশ বাহিনীও থাকবে এতে আমার কেনো আপত্তি নেই। হাসিনার গুণ্ডাবাহিণীর হাতে অবৈধ অস্ত্র। তারা মানুষকে খুন করছে। সেনা না দিলে হাসিনার গুণ্ডা বাহিনী কেন্দ্র দখল করে অত্যাচার চালাবে। এদেশের মানুষ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেখিয়ে দেবে যে জিয়াকে ভুলে নাই। তিনি আছেন মানুষের মনে।
তিনি বলেন, আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। কিন্ত জনগণ সেটা মানতে রাজি নয়। কারণ, এরা কতো অবিচার করেছে তা তারা জানে। তারপরও দেশের স্বার্থে আমি তাদের ক্ষমা করবো। কারণ, আমরা রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই। জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি করতে চাই। আলাপ আলোচনা ছাড়া তা সম্ভব নয়। আমরা জবাবদিহিতামূলক সংসদ দেখতে চাই। সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে আলোচনা করে কোনো সমস্যা হলে সমাধান করবে।

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করেন খালেদা জিয়া বলেন, দেশের এতো ক্ষতি করেছেন। সম্পদ লুট করেছেন। পিঠ বাঁচানোর জন্য ক্ষমতায় থাকতে হবে বলে যা ভাবছেন তা হবে না। আমরা সহিংসতার রাজনীতি করি না। আমরা আপনাদের শুদ্ধ করবো, শুদ্ধি অভিযান চালাবো। যে খারাপ কাজ করছেন তা বাদ দিয়ে আপনাদের সত্যিকার অর্থে মানুষ বানাবো।

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যদি জনগণের পালস বোঝেন যে তারা কি চাচ্ছে। জনগণ চাচ্ছে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন দিয়ে আপনাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন।

চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, মাঠে আপনারাও যাবেন আমরাও যাবো। চ্যালেঞ্জ করছি একটি জায়গায় আপনারা সভা করেন আমরাও করছি দেখি কাদের কতো লোক আছে। জনগণই আমাদের শক্তি। তাদের নিয়ে আমাদের পথচলা। আমরা এটা বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, আমি কেন বলছি তত্ত্বাবধায়ক। এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ছিলো আওয়ামী লীগের, জামায়াতের। তার জন্য তারা ১৭৩ দিন হরতাল করেছে। রাস্তাঘাট বন্ধ রেখেছে। হরতালের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। এমনকি ইট দিয়ে পুলিশের মাথা থেতলে দিয়েছে। অফিসগামী বয়স্ক লোকতে তারা দিগম্বর করেছে। এগুলো আওয়ামী লীগের চরিত্র। তারা তত্ত্বাবধায়কের দাবির জন্য সমুদ্রবন্দর দিনের পর দিন বন্ধ রেখেছে। বাসে আগুন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। যাত্রীবাহী বাসে গান পাউডার দিয়ে আগুন দিয়ে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে আওয়ামী লীগ। এদের অপকীর্তির শেষ নাই। তাই আপনাদের বলবো নিরপেক্ষ একটা নির্বাচন দিয়ে দেশের মানুষ কি চায় সেটা যাচাই করে।

খালেদা জিয়া বলেন, ২০১৪ সালে কোনো নির্বাচন হয়নি। তাহলে কি করে এই সরকার বৈধ সরকার। তারা সরকার ও সংসদ অবৈধ। এই সংসদে কোনো বিরোধী দল আছে? এ সময় সমস্বরে সবাই বলে ‘না’।

খালেদা জিয়া সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই সরকার হয়তো আপনাদের বলে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আপনাদের চাকরি যাবে মামলা হয়রানি শিকার হতে হবে। কিন্তু না। আমরা আগেই বলেছি আমরা হিংসাত্মক রাজনীতি করি না। সরকারি আদেশ নিষেধ মেনে চলাই আপনাদের দায়িত্ব। আমরা দেখবো সরকারি চাকরিতে কে কতটা যোগ্য। সেখানে বিএনপি বা আওয়ামী লীগ বলতে কিছু নেই। যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতের তাদের চাকরির পদোন্নতি হবে। আপনারা নির্ধিদ্বায় কাজ করতে পারেন।

সমাবেশে বাধা দেয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর আমরা সামবেশ করতে চেয়েছিলাম তারা দেয়নি। জনসভার অনুমতি তারা দিয়েছে কিন্তু জনসভা যাতে সফল না হয় জনগণ যাতে আসতে না পারে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষকে অনেক কষ্ট করে আসতে হয়েছে। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, হোটলেগুলোতে তল্লাশি করেছে। পাবলিক যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এমনকি আমিও যাতে আপনাদের সামনে এসে পৌঁছাতে না পারি, আমার বাসা থেকে বের হয়ে গুলশান পার হতে বাস দিয়ে রাস্তা আটকে রাখা হয়েছে। এরা যে কতো ছোটমনের রাজনীতি করে তা আবার প্রমাণ করলো। এতো ছোট মন নিয়ে রাজনীতি করা যায় না।

খালেদা জিয়া বলেন, দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনতে ৭ নভেম্বর সিপাহী জনগণ কাজ করেছে। এজন্য আওয়ামী লীগ এই দিনকে ভয় পায়। জনগণকে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে ভয় পায়। সেজন্যই তারা আমাদেরকে কোথাও জনসভা করতে দেয় না। বিভিন্ন জায়গায় বাধা সৃষ্টি করে। ছেলে পেলেদের হয়রানি করছে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলখানায় বন্দি রাখছে। আমাদের রাজনীতি হলো জাতীয় ঐক্যের। আসুন বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মতের পার্থক্য থাকবে কিন্তু জনগণের স্বার্থে এক হতে হবে। তাহলেই দেশের জনগণের কল্যাণ উন্নতি করা সম্ভব। এরা ক্ষমতায় থেকে জনগণকে যেমন ভয় পাচ্ছে তেমনি বিএনপির মতো বড় দলকে ভয় পাচ্ছে। বিএনপি সম্পর্কে তারা বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করে। আমরা মন্তব্য করলে তাদের ধরে নিয়ে মিথ্যা মামরায় হয়রানি করে। এরা গণতন্ত্র ভয় পায়। মানুষকে ভয় পায়। সেজন্য বাকশাল কায়েম করেছিলো। এখন অঘোষিতভাবে বাকশালকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। জনগণের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। যে-ই এই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছে হয় তাদের উঠিয়ে নেবে না হয় মামলা দিয়ে হয়ারনি করা হবে। গত ১০টি বছর ধরে কতো জুলুম অত্যাচার করেছে তার হিসাব নাই।

তিনি বলেন, আমি বলেছি তাদের ক্ষমা করে দেবো। কিন্তু জনগণ জানে কতো অবিচার তাদের সাথে করেছে। আমরা দেশে রাজনীতির সুষ্ঠু পরিবশে ফিরিয়ে আনতে চাই। সেজন্য দেশে গণতন্ত্র হতে হবে বহুমতের। মানুষকে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যতক্ষণ এগুলো প্রতিষ্ঠা করা না যাবে সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা যাবে না।

সরকারের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকার দেশকে শেষ করে দিয়েছে। ১০ টাকার চাল আজ ৭০ টাকা। সবজি তরিতরকারির দাম ৭০-৮০ টাকার নিচে নয়। পিঁয়াজ একশ’ টাকা। এই অবস্থায় আবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে।

বিনামূল্যে সার তো দেয়-ই না বিএনপির আমলের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। কৃষকরা আজ মহা দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কৃষি উপকরণ পাচ্ছে না। ক্ষমতায় গেলে ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার কথা বলেছে। কিন্তু চাকরি দেয়নি। চাকরি না দিয়ে ঘরে ঘরে বেকার সৃষ্টি করেছে। এ সময় ভুয়া ভুয়া সম্বস্বরে স্লোগান ধরেন সমাবেশে আগতরা।

তিনি বলেন, কথায় কথায় উন্নয়নের কথা বলে। উন্নয়নের নামে লুটপাট চলছে। ইউরোপ আমেরিকার চেয়ে রাস্তা ব্রিজ বানানোর জন্য চারগুণ বেশি ব্যয় হচ্ছে। চলছে নানারকম ধাপ্পাবাজি। বিদ্যুতের দাম তো বাড়ানো হচ্ছে কিন্তু মানুষ বিদ্যুত পায় না। গুলশানের মতো জায়গায়ও বিদ্যুৎ আসে যায়। কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট করা হলো। তাহলে মানুষ বিদ্যুৎ পায় না কেন। পদে পদে ধোকাবাজি। এই দীর্ঘদিন ধরে এই ধোকাবাজি অথ্যাচার নির্যাতন চলতে পারে না।

বিএনপি চেয়ারপারসন তার দেয়া ‘ভিশন-২০৩০’ রূপকল্প তুলে ধরে দেশের বেকারত্ব দূর করতে বেকারভাতা চালু, স্নাতক পর্যায় পর্য়ন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, নারীদের উপবৃত্তি প্রদান, সব নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য বীমা চালুসহ নানা অঙ্গীকারের কথাও বলেন।

দুপুর থেকেই নেতা-কর্মীরা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতি সম্বলিত পোস্টার হাতে নিয়ে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসে। ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা এই জনসভায় যোগ দেয়। কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী, বরিশাল থেকে জহিরউদ্দিন স্বপন, গাজীপুর থেকে সায়্যেদুল আলম বাবুল, সিলেট থেকে কাইয়ুম চৌধুরীর নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরাও জনসভায় যোগ দেয়। সমাবেশে অংশ নেয়া যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের অনেকের মাথায় ছিলো লাল-সবুজের টুপি।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, রফিকুল ইসলাম মিয়া, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, শাহজাহান ওমর, বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, জয়নাল আবেদীন, শওকত মাহমুদ, চেয়াপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, যুগ্মমহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুনুর রশীদ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
অঙ্গসংগঠনের মধ্যে বিএনপি মহানগর দক্ষিণের হাবিবউন নবী খান সোহেল, মহানগরের মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, যুব দলের সাইফুল ইসলাম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেন, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের রাজীব আহসান প্রমূখ বক্তব্য দেন।

জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান কবির মুরাদ, মহাসচিব ড. এমতাজ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ও আবুল কালাম আজাদ।

সমাবেশ পরিচালনা করেন প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া, জ্যেষ্ঠ নেতা হারুন আল রশীদ, মাহমুদুল হাসান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মীর নাসির, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, রুহুল আলম চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, গিয়াস কাদের চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, মিজানুর রহমান মিনু, আবদুস সালাম, ভিপি জয়নাল আবেদীন, শাহজাদা মিয়া, ফরহাদ হোসেন ডোনার, মজিবুর রহমান সারোয়ার, ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মাহবুবে রহমান শামীম, সাখাওয়াত হোসেন জীবন, বিলকিস জাহান শিরিন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, গৌতম চক্রবর্তী, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আবদুল হাই, আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জল, নুরী আরা সাফা, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরফত আলী সপু, শিরিন সুলতানা, ফাওয়াজ হোসেন শুভ, নাজিমউদ্দিন আলম, আবদুস সালাম আজাদ, শরীফুল আলম, আবদুল আউয়াল খান, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, মাহবুবুল হক নান্নু, আমিরুল ইসলাম আলীম, আসাদুল করীম শাহিন, রেহানা আখতার রানু, ভিপি হারুনুর রশীদ, শহীদুল আলম, শামসুল আলম তোহা, কাজী আবুল বাশার, আহসানউল্লাহ হাসান, খন্দকার আবু আশফাক প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অঙ্গসংগঠনের যুব দলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, মুক্তিযোদ্ধা দলের আবুল হোসেন, সাদেক আহমেদ খান, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, নুরুল ইসলাম খান নাসিম, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, হেলিন জেরিন খান, ছাত্র দলের আকরামুল হাসান, নিলোফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আখতার, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

জনসভা উপলক্ষে সকাল থেকে পুলিশ, র‌্যাবসহ ব্যাপক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন প্রাঙ্গনে জলকামানের গাড়ি, প্রিজন ভ্যান রাখা হয়।

জনসভায় নানাভাবে বাধার দেয়ার অভিযোগ করে খালেদা তিনি বলেন, ‘ছোট মন নিয়ে রাজনীতি হয় না’। আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলে কী করবে তার একটি ধারনাও দেন খালেদা জিয়া।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন