শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭ ০৯:৫১:০৬ পিএম

কলকাতায় প্রশংসিত ‘একজন কবির মৃত্যু’

বিনোদন | সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭ | ০৯:১৩:৩৩ পিএম

কলকাতায় প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘একজন কবির মৃত্যু’। আবু সাইয়ীদ পরিচালিত এ চলচ্চিত্রটি গতকাল রোববার ২৩তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়। এ সময় উপস্থিত দর্শকরা চলচ্চিত্রটির প্রশংসা করেন। এছাড়াও কলকাতার প্রথম সারির পত্রিকায় একাধিক প্রশংসাসূচক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘ছবিতে আবিদ হায়দার নামক বিখ্যাত একজন মধ্যবয়স্ক কবি মারা যান। তার ইচ্ছানুসারে ঢাকা থেকে তার দেহ দাফন করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামে। আর এই সফরের মাঝে মাঝে বিভিন্নভাবে কবির দর্শন, অতীত, তার কবিতা এবং মৃত্যু-চেতনার কিছু কিছু ধারণা আমরা পেতে থাকি। ছবি তৈরির চিরাচরিত প্রায় কোনো প্রথাই এই ছবিতে দেখতে পাওয়া যায় না। ছবির গল্পে অদ্ভুত একটা সারল্য আছে। গল্প বলার মধ্যে আছে সততা। কিন্তু বলার কৌশল প্রচণ্ডভাবে এক্সপেরিমেন্টাল। সারল্য আর এক্সপেরিমেন্টের এই মিশেল বাংলা ছবিতে প্রায় দেখাই যায় না। আর সততা নামক শব্দটাও বাংলা ছবি থেকে ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসেছে। এমতাবস্থায় আবু সাঈদের এই ছবি আমাদের নতুন একটা পথ দেখায়। সাহস দেয়। প্রমাণ করে দেখায় যে এভাবেও ছবি তৈরি করা সম্ভব।’

সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন দু’জন অভিনয়শিল্পী। কবি আবিদ হায়দারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন গুণী অভিনেতা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় এবং মৃত্যুরূপী একজন নারীর চরিত্রে আইরিন সুলতানা। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাদের সিনেমাটি শর্ট লিস্টে জায়গা করে নিয়েছে। অর্থাৎ উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘ইনোভেশন ইন মুভিং ইমেজ’-এ নির্বাচিত হয়েছে। এজন্য আমি খুবই আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। আরেকটা মজার বিষয় হলো, এই নন্দন চত্তরে অসংখ্য মানুষ এসেছেন। আমাদের চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনীর পর দর্শকদের যে মন্তব্য পেয়েছে তা শোনে মনে হয়েছে সত্যি এরা চলচ্চিত্র বোঝেন।’

গত ১০ নভেম্বর কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে প্রদীপ জ্বালিয়ে ২৩তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। ভারতের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী, বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, কমল হাসান ও অভিনেত্রী কাজলসহ এ সময় আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এ বছর চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে ৫৩টি দেশের ১৪৩টি চলচ্চিত্র। ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই উৎসব।

নিরীক্ষাধর্মী এ চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে গণ-অর্থায়নে। ২০১৫ সালের ৭ অক্টোবর নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি সেমিনার হলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়। এরপর ঢাকা শহর, এর আশপাশ, ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়া জেলার ভাণ্ডারবাড়ী যাওয়ার রাস্তার বিভিন্ন অংশ এবং ভাণ্ডারবাড়ী গ্রামে সিনেমাটির দৃশ্যধারণের কাজ হয়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন