শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭ ০৯:৫৩:১৯ পিএম

ঝুলে আছে সর্বাধুনিক শিশুপার্ক নির্মাণ প্রকল্প

জাতীয় | মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৭ | ০৪:৩৯:০৬ পিএম

দেশের সর্বাধুনিক শিশুপার্ক নির্মাণ করার প্রকল্প নিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই (পার্ক হওয়া কিংবা না হওয়া) নিতে পারেনি ডিএসসিসি।

স্থানীয়দের বিরোধীতার কারণেই ধূপখোলা খেলার মাঠে পার্ক নির্মাণের এই প্রকল্পটি ঝুলে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন এ বিষয়ে চলতি মাসেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তবে শেষ পর্যন্ত শিশুপার্ক হচ্ছে না বলেই দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

২০১৬ সালে মার্চ মাসে ডিএসসিসির মেয়র এক অনুষ্ঠনে বলেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে ধূপখোলা খেলার মাঠে একটি অত্যাধুনিক পার্ক নির্মাণের কাজ শুরু হবে। যেখানে এমন কিছু রাইড থাকবে যেটা মালেয়শিয়া ও থাইল্যান্ডের মত অনেক দেশেই নেই। অবশ্য তিনি এলাকাবাসী সঙ্গে আলোচনা করার কথাও বলেছিলেন তখন।

পরে ডিএসসিসি একটি প্রকল্প নেয়। প্রকল্পের আওতায় ১০টি আধুনিক রাইডের জন্য ১৩৫ কোটি ৬০ লাখ এবং অন্যান্য স্থাপনার জন্য ৫৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যায় ধরা হয়। নকশার জন্য কনসালটেন্টও নিয়োগ দেয়া হয়। প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়ে ১৮’র জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রীড়া সংগঠকসহ পরিবেশবাদীরা এই পার্কের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এ নিয়ে তারা মানববন্ধন ও মেয়রের কাছে স্মারকলিপিও দেন। অবশ্য স্থানীয় কাউন্সিলরসহ বাসিন্দাদের অনেকেই আধুনিক পার্ক করার পক্ষেও রয়েছেন।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, এই মাঠের তিনটি অংশ। জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত অংশে পার্ক ও বাকি দু’অংশে মাঠ রেখেই নকশা তৈরি হয়।

এই মাঠে শিশু কিশোরদের প্রশিক্ষণ দেন গেন্ডারিয়া সোনালি অতীত খেলোয়াড় কল্যাণ সোসাইটির সংগঠক ও কোচ মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, পুরান ঢাকার সবচেয়ে বড় মাঠ এটি। আশেপাশের সবাই এখানেই খেলে। ডিএসসিসি মাঠ সংস্কার না করে পার্ক করার প্রকল্প নিয়েছে। হয়তো মেয়র সাহেবকে কেউ ভুল বুঝিয়েছেন। পার্ক নয় আমরা মাঠ চাই।

প্রকল্পটির দায়িত্বে আছেন ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, প্রায় ২শ’কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক শিশুপার্ক নির্মাণে এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। নগরবাসীর বিনোদনের জন্য এটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। বিনোদনের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা করতে উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর ন্যায় সর্বাধুনিক রাইড থাকবে এখানে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জানুয়ারি মাসে কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি মহলের আপত্তির কারণে তা হয়নি।

শেষ পর্যন্ত পার্ক হবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ নিয়ে আলোচনা চলছে। মেয়র সাহেবের সঙ্গে এলাকাবাসীর কথা হয়েছে। শিশুপার্ক হবে নাকি হবে না, বিষয়টিতে চলতি মাসেই চূড়ান্ত হবে বলেও জানান ডিএসসিসির এই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী।

১৯৮২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ধূপখোলা মাঠটি উদ্বোধন করেন। এর আয়তন ৬.৯৩ একর। এই মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেটে জাতীয় পর্যায়ের অনেক খেলোয়াড় খেলাধুলা করছেন। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ও এই মাঠে এক সময় নিয়মিত খেলাধুলা করেছেন। জাতীয় ফুটবল দল বিভিন্ন সময় এখানে অনুশীলন করে। অনেক লীগও এই মাঠে হয়। বর্তমানে এখানে যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুর, কোতোয়ালি, বংশাল ও ওয়ারীসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকার শিশু-কিশোরেরা নিয়মিত খেলাধুলা করে।

মাঠটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, ইস্ট এন্ড ক্লাব মাঠ ও জনসাধারনের খেলার মাঠ এই তিন ভাগে বিভক্ত। এরমধ্যে জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত মাঠটিতে বলতে গেলে বিগত ৫/৬ বছর যাবৎ বন্ধ রয়েছে। ২০১০ সালে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের কাজের জন্য ঐ অংশটি নেয়া হয়। কাজ শেষ হলেও দীর্ঘদিন ধরেই মাঠটিতে সংস্কার করা হয়নি। এখনো ঐ অংশটিতে খেলা যায় না।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন