বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৮ ০৫:৫৬:০১ পিএম

আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে ভারতে পালাল আসামি!

জাতীয় | বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৭ | ১২:৩১:৫৪ পিএম

সুনামগঞ্জের হাওরে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ঠিকাদার হান্নান আহমেদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। আবদুল হান্নান নামের পাসপোর্ট ব্যবহার করে গত মঙ্গলবার দুপুরে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তের তামাবিল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে চলে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও তার পরিবার।

গত ২ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমদ বাদী হয়ে সুনামগঞ্জে বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি, অনিয়ম ও কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, ঠিকাদারসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা
দায়ের করেন। ওই মামলায় ২১ নম্বর আসামি করা হয় মেসার্স হান্নান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হান্নান আহমেদকে। দুদকের মামলা এবং তামাবিল ইমিগ্রেশনে হান্নানের ভিন্ন নাম থাকলেও উভয় ঠিকানায় সিলেট নগরীর জালালাবাদ আবাসিক এলাকার ১০/৪ নম্বর বাসার বাসিন্দা বলে উল্লেখ রয়েছে।

সিলেট মহানগর যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হান্নান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। গত মঙ্গলবার দুপুরে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে ভারতে গেছেন বলে ঘনিষ্ঠজনরা নিশ্চিত করেছেন। দুটি পরিবার একই সময়ে ভারতে গেলেও তারা একসঙ্গে ছিলেন কি-না, এ প্রশ্নে মন্তব্য করতে রাজি হননি ইমিগ্রেশন সংশ্নিষ্টরা। তবে হান্নানের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে আপলোড করা ছবিতে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে উভয় পরিবারকে একসঙ্গে দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বেলা সোয়া ২টার দিকে হান্নানসহ অন্যরা ভারতের উদ্দেশে তামাবিল ইমিগ্রেশন ত্যাগ করেন। সকালে সিলেট থেকে একটি সাদা রঙের নোয়াহ ও কালো রঙের আরেকটি প্রাইভেট কারযোগে উভয় পরিবারের সদস্যরা তামাবিলে যান। যাত্রাপথে গোয়াইনঘাটের আলুবাগান এলাকায় জাতীয় পার্টির এক নেতার বাগানবাড়িতে তারা খাওয়া-দাওয়া করেন। এই সময়ের ছবি ও ভিডিওচিত্রে দেশের একটি দৈনিকের কাছে রয়েছে। তামাবিল শুল্ক্ক স্টেশনে দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের সঙ্গেই হান্নান আহমেদের পরিবার ভারতে গেছে।'

গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হান্নান ভারতে পালিয়ে যাওয়ায় সংশ্নিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ মো. হান্নান চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে তাদের কেউ অবহিত করেনি। হান্নান আহমেদ যে দুদকের মামলায় পলাতক- সেটা তারা জানেন না। তবে পরে তিনি ফিরে এলে তাকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানান তিনি। সিলেটের পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান জানান, প্রয়োজনে ইমিগ্রেশনকে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবহিত করবে।

চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিলে অকাল বন্যায় সুনামগঞ্জের হাওরের বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক ফসলহানির ঘটনা ঘটে। বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় সুনামগঞ্জসহ দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ওই সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জ সফরে গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এমন পরিস্থিতিতে দুদকের পক্ষে মামলার পর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ ছাড়া গত ৩ আগস্ট সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল হক বাদী হয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ১৪১ জনকে আসামি করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন।

আইনজীবী সমিতির এ মামলায় মোট ৪৬ জন ঠিকাদারকে আসামি করার পাশাপাশি দুদকের মামলার ৬১ জন আসামির সবাই রয়েছেন। আদালতের বিচারক অভিযোগ আমলে নিয়ে এই মামলাও দুদককে তদন্তের দায়িত্ব দেন। গত ১৬ আগস্ট এ মামলার অন্যতম আসামি সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও নুর ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার খায়রুল হুদা চপল সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে দুদক তাকে গ্রেফতার করে।

গত ৩ অক্টোবর এ মামলার আরেক আসামি একজন ঠিকাদার হাজির হয়ে জামিন চাইতে সুনামগঞ্জের আদালতে যান। সেদিনও সিলেট জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিনকে সুনামগঞ্জের আদালতে দেখা যায়।

সূত্র: দৈনিক সমকাল।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন