সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ ০২:৩৮:৩২ পিএম

লাইফ সাপোর্টে কণ্ঠশিল্পী বারী সিদ্দিকী

বিনোদন | শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭ | ০২:২০:১২ পিএম

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বারী সিদ্দিকীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তার বড় ছেলে সাব্বির সিদ্দিকী। তিনি আরও জানান, গত শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

সাব্বির জানান, গেল রাত (শুক্রবার) ১টার দিকে হার্ট অ্যাটাক করেন বারী সিদ্দিকী। আধাঘণ্টার মধ্যে অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্ট দেন।

সাব্বির সিদ্দিকী বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই আব্বার কিডনির সমস্যা। প্রায় দুই বছর ডায়ালাইসিস চলছিল। তবে গেল রাতে ম্যাজর হার্ট অ্যাটাক করেন। এরপর তো ডাক্তাররা লাইফ সাপোর্টে নিয়ে যান তাকে। এখন আমাদের আসলে দোয়া আর অপেক্ষা করা ছাড়া কিছুই করার দেখছি না। সবাই উনার জন্য একটু দোয়া করবেন।’

এদিকে চিকিৎসকদের মতে, বারি সিদ্দিকীর দুটি কিডনি অকার্যকর।

বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও বংশীবাদক বারী সিদ্দিকী। তিনি মূলত গ্রামীণ লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ধারার গান করে থাকেন। তার গাওয়া ‘শুয়া চান পাখি’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘সাড়ে তিন হাত কবর’, ‘তুমি থাকো কারাগারে’, ‘রজনী’ প্রভৃতি গানের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।

বারী সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলায় এক সঙ্গীতজ্ঞ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পরিবারের কাছে গান শেখায় হাতেখড়ি হয়। মাত্র ১২ বছর বয়সেই নেত্রকোনার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষ সহ অসংখ্য গুণী শিল্পীর সরাসরি সান্নিধ্য লাভ করেন। ওস্তাদ আমিনুর রহমান একটি কনসার্টের সময় বারী সিদ্দিকীকে অবলোকন করেন এবং তাকে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন। পরবর্তী ছয় বছর ধরে তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমানের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন।

সত্তরের দশকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত হন। ওস্তাদ গোপাল দত্তের পরামর্শে ক্লাসিক্যাল মিউজিকের উপর পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বাঁশির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন ও বাঁশির ওপর উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নেন। নব্বইয়ের দশকে ভারতের পুনে গিয়ে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন। দেশে ফিরে এসে লোকগীতির সাথে ক্লাসিক মিউজিকের সম্মিলনে গান গাওয়া শুরু করেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন