সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ ০২:৪৪:০৫ পিএম

জিম্বাবুয়েতে সেনা অভ্যুত্থানের নেপথ্যে কি চীনের হাত?

আন্তর্জাতিক | শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭ | ০৬:৪৯:৪৫ পিএম

জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের অপসারণে কি হাত রয়েছে চিনের? অভ্যুত্থানের 'গন্ধ' কি আগেই নাকে এসেছিল বেজিংয়ের? জিম্বাবুয়েতে সেনা অভ্যুত্থানের প্রাক মুহূর্তে গত সপ্তাহে সে দেশের সেনাধ্যক্ষ জেনারেল কনস্ট্যানটাইন চিওয়েঙ্গার বেজিং সফরকে কেন্দ্র করে এই সন্দেহের জন্ম হয়েছে।

এমন একটি জল্পনার পালে বাতাস দিয়েছে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের গত ১০ নভেম্বরের একটি মাইক্রো-ব্লগ। সেই ব্লগে দেওয়া একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, বেজিংয়ে গিয়ে চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী চ্যাং ওয়ানচানের সঙ্গে হাসি মুখে করমর্দন করছেন জিম্বাবুয়ের সেনাধ্যক্ষ জেনারেল চিওয়েঙ্গা। আরেকটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, প্রতিনিধিদের নিয়ে দু'জনে একটি কনফারেন্স টেবিলে বসে রয়েছেন।

বেজিংয়ের সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর, গত সপ্তাহের ওই সফরে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওয়ানচানের সঙ্গে তো বটেই চীনের প্রবীণ সেনা-কর্তাদের সঙ্গেও আলাদা আলাদা ভাবে বৈঠকে বসেছিলেন জিম্বাবুয়ের সেনাধ্যক্ষ জেনারেল চিওয়েঙ্গা। তার পরপরই জিম্বাবুয়েতে সেনা অভ্যুত্থান হওয়ায় অনেকেরই সন্দেহ, বেজিং সে খবর আগেই জানত। আর জেনারেল চিওয়েঙ্গাও এ ব্যাপারে বেজিংয়ের কাছ থেকে 'সবুজ সঙ্কেত' পেয়ে গিয়েছিলেন।

জিম্বাবুয়ে চীনের 'শত্রু' দেশ নয়। সাতের দশকের মাঝামাঝি থেকেই জিম্বাবুয়ের সঙ্গে দহরম মহরম চীনের। সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ শাসনের অবসানে জিম্বাবুয়ের মানুষের সশস্ত্র সংগ্রাম চীনের সহযোগিতা ছাড়া সফল হত না কখনওই। তারপর থেকে দু'দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উত্তরোত্তর জোরদার হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মুগাবের সরকারের বিরুদ্ধে পশ্চিমী দেশগুলি একজোট হয়ে অর্থনৈতিক অবরোধ জারি করলে জিম্বাবুয়ের পাশে দাঁড়িয়েছিল বেজিং।

অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বরাবর জিম্বাবুয়ের বন্ধু হয়েছে চীন। জিম্বাবুয়ের অটোমোবাইল শিল্প তো বটেই, বিদ্যুত্‍কেন্দ্র, তামাক ও হিরে শিল্পেও সরকারি ও বেসরকারি স্তরে প্রচুর বিনিয়োগ রয়েছে চিনের। সাউথ আফ্রিকান ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের বিদেশ নীতির গবেষক কোবাস ফন স্তাদেন বলেছেন, ''অভ্যুত্থানের ঠিক আগে বেজিংয়ের ওই সফর যথেষ্টই ইঙ্গিতবাহী। তবে সেই সফরে কী হয়েছিল, তা কেই বা জানেন!''

চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে জিম্বাবুয়ের সেনাধ্যক্ষের বৈঠককে অবশ্য বেজিংয়ের তরফে 'রুটিন' ও 'স্বাভাবিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত আলোচনা' বলা হয়েছে। জিম্বাবুয়ের অভ্যুত্থানের পিছনে কলকাঠি নাড়ার অভিযোগও বেজিংয়ের তরফে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

বেজিং নর্মাল ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক পলিসির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ওয়াঙ শিনশং বলছেন, ''জিম্বাবুয়ের সঙ্গে বরাবরই আমাদের (চীন) কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক খুব ভাল। সে ক্ষেত্রে কেনই বা চীন চাইবে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হোক জিম্বাবুয়েতে, কেনই বা চাইবে জিম্বাবুয়েতে রাজনৈতিক ডামাডোল সৃষ্টি করতে?''

উল্লেখ্য, ১৯৮০ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের ক্ষমতায় রয়েছেন ৯৩ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে। প্রেসিডেন্ট মুগাবে গত সপ্তাহে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়াকে বরখাস্ত করলে এই রাজনৈতিক সংকটের সূচনা হয়।

নানগাগওয়াকে এতদিন প্রেসিডেন্ট মুগাবের উত্তরসূরী ভাবা হলেও সম্প্রতি তার জায়গায় ফার্স্ট লেডি গ্রেস মুগাবের নাম সামনে চলে আসে। এর জের ধরে নানগাগওয়াকে বরখাস্ত করেন মুগাবে। আর তারপরই দেশটির ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে জিম্বাবুয়ের সেনাবাহিনী।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন