শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১১:৫৬:১১ এএম

মুগাবে অনড়, সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক আজ

আন্তর্জাতিক | রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ | ১১:৪৩:১১ এএম

জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী, দেশজুড়ে চলছে বিক্ষোভ ও আনন্দোল্লাস। সবার এক দাবি, পদত্যাগ করতে হবে প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে। কিন্তু তিনি অনড়।

বলতে গেলে গত বুধবার থেকে গৃহবন্দি জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতা আন্দোলনের নায়ক ও ৩৮ বছরের প্রেসিডেন্ট মুগাবে। তার পরিবারের সদস্যরাও বন্দিদশায় রয়েছেন।

সেনাবাহিনী দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নিজের প্রতিষ্ঠিত ও ক্ষমতাসীন জানু-পিএফ পার্টির অধিকাংশ নেতা-কর্মী তার পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। শনিবার তার পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভ করে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, মুগাবের দিন শেষ; তাকে পদত্যাগ করতেই হবে। কিন্তু টানটান উত্তেজনায় পাঁচ দিন কেটে গেলেও তিনি পদত্যাগ করেননি, নিজের অবস্থানে অটল রয়েছেন।

ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রচণ্ড চাপে থাকলেও সমঝোতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন মুগাবে। আজ রোববার সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে তার। হয়তো এ বৈঠকে তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, তাদের বৈঠকে একজন ক্যাথলিক যাজক মধ্যস্থতা করবেন।

মুগাবের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল জানু-পিএফ পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব রোববার বৈঠকে বসবে। এ বৈঠক থেকে দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, মুগাবের পরিণতি কী হবে।

ব্রিটেনের কাছ থেকে ১৯৮০ সালে স্বাধীনতা লাভ করে জিম্বাবুয়ে। স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা মুগাবে দীর্ঘ ৩৮ বছর দেশটি শাসন করছেন। এখন তার বয়স ৯৩ বছর। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মুগাবে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী করতে চান ৫২ বছর বয়সি স্ত্রী গ্রেসকে। এ নিয়েই যত সমস্যা।

গ্রেসের ইচ্ছায় সম্প্রতি ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়াকে বহিষ্কার করেন মুগাবে। তার স্থলে গ্রেসকে বসানোর পরিকল্পনা করেন তিনি। মুগাবের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয় দলের একাংশ ও সেনাবাহিনী। সেনাপ্রধান গত সোমবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে, প্রয়োজনে তারা পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু তাতে গুরুত্ব দেয়নি মুগাবে সরকার। পর দিন মঙ্গলবার রাতে সাঁজোয়াযান নিয়ে রাজধানী হারারে দখল করে সেনাবাহিনী এবং বুধবার মুগাবেকে গৃহবন্দি করে।

শনিবার দেশজুড়ে মুগাবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে লাখ লাখ মানুষ। তার ছবি ছিড়ে প্রতিবাদ করে তারা। হারারেতে মুগাবের সরকারি কার্যালয় ও আবাসিক ভবনের দিকে বিক্ষোভকারীরা অগ্রসর হয়ে তার পদত্যাগের দাবি জানায়।

এদিকে, সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রোববারের বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হবে, তা জনগণকে মেনে নেওয়ার পরামর্শ দেবে তারা।

অন্যদিকে, জানু-পিএফ পার্টির ১০টি আঞ্চলিক শাখার মধ্যে নয়টিই মুগাবের পদত্যাগ দাবি করেছে। তারা জানিয়েছে, রোববার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করা হবে।

তবে শেষ পর্যন্ত কী হতে চলেছে, তা-ই দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন