সোমবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৮ ০৫:৫০:২২ পিএম

'পায়ে ধরি স্যার, দয়া করে পরীক্ষা নিন'

জাতীয় | রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ | ০৯:৫১:০৩ পিএম

“আমরা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই প্রায় মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। দীর্ঘ সেশনজট আমাদের এবং পরিবারের রক্ত চুষে নিচ্ছে।

আপনি উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের সময় বলেছিলেন ৬ মাসের মধ্য সেশনজট কমিয়ে আনবেন। এটা অন্য বিভাগগুলোতে সম্ভব হলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে আমাদের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সম্ভব হয়নি বরং জটের পরিমাণ আরো বেড়েছে। সেশনজট কমিয়ে আমাদের বিভাগকে দেশের সেরা বিভাগ পরিণত করতে আপনার সহযোগিতা কামনা করছি। ” পরিশেষে আমাদের একটাই আকুতি “পায়ে ধরি স্যার, দয়া করে পরীক্ষা নিন। ”

আজ রবিবার দুপুর আড়াইটায় বিভাগের পরীক্ষা ও ফলের দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারীর সাথে দেখা করে এভাবেই লিখিত আকুতি জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এর আগে দুপুর ২ টা থেকে প্রশাসন ভবনের সামনে বিভাগের সকল বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা এবং দ্রুত ফল প্রকাশের দাবিতে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।

পরে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আনোরুল হক এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলকে নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড.হারুন-উর-রশিদ আসকারীর সাথে দেখা করেন। সেখানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সেলিম তোহা, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, বর্তমানে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে মোট ৮ টি সেশন আছে। শিক্ষকদের দলাদলিতেই বিভাগে এই জটের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সেশনজট এই বিভাগে। তারা বিভাগের শিক্ষকদের কাছে বারবার সেশনজট কমানোর আকুতি করলেও শিক্ষকরা তাতে কর্ণপাত করেন না। কয়েকমাস আগে প্রশাসনকেও বিষয়টি অবগত করেছে শিক্ষার্থীরা। বিভাগ এবং শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো সত্য। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সাথে মিটিং করতে চেয়েছেন। আশা করছি ভালো কোন সমাধান বেড়িয়ে আসবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের অভিযোগুলো শুনেছি। আমরা আগামী মঙ্গলবার বিভাগের সকল শিক্ষকদের সাথে বসবো এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদেরকে সমস্যা সমাধানের তাগিদ দিবো। তারা ব্যার্থ হলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন