মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৯:৫০:৪৯ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: যে কৌশলে এগুচ্ছে আ’লীগ-বিএনপি

রাজনীতি | সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭ | ০৬:৫৯:৫৯ পিএম

একাদশ সংসদ নির্বাচন যত সামনে আসছে কৌশলি হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দলগুলো কাউকে এককানিও ছাড় দিচ্ছে না। এমনকি নিজ নিজ কৌশলেও এগোচ্ছে তারা।

সূত্র জানায়, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করে আগামী দিনের কৌশল নির্ধারণ করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা বিএনপির ইতিবাচক কর্মসূচিকে স্বাগত জানাচ্ছেন। পাশাপাশি বিএনপির কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে রেখে পরবর্তী করণীয় কী হবে তা ঠিক করার কথাও ভাবছেন ভেতরে ভেতরে।

দলটির নীতিনির্ধারণী মহলের দাবি, বিএনপিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেয়া হলেও অতীত অভিজ্ঞতার জন্য মাঠ খালি করে দেয়ার পক্ষে নয় আওয়ামী লীগ। সারা দেশ সফরের মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতারা সহায়ক সরকারসহ নির্বাচন কমিশনের কাছে যেসব দাবি জানিয়েছেন তার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে চাইবেন। এজন্য প্রায় একই সময়ে বিএনপির দাবিগুলো অসাংবিধানিক ও অরাজনৈতিক, তা জনগণের সামনে তুলে ধরার চিন্তা করা হচ্ছে।

বিএনপি যেন জনগণকে বিভ্রান্ত করতে না পারে এজন্য কক্সবাজার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কর্মসূচির পর কর্মসূচি পালনের যে অবস্থান ছিল, তা ভবিষ্যতেও থাকবে। কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও দলীয় কর্মসূচিতে মাঠে নামবেন বলে দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সম্পাদকমণ্ডলীর দুই সদস্য বলেন, সারা দেশে আমাদের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি চলছে। কেন্দ্রীয় নেতারা সেসব কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, যা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া আমাদের নেত্রী এরই মধ্যে বিভাগীয় শহরসহ বেশকিছু জেলায় জনসভা করেছেন। আগামীতেও তিনি নির্বাচনী জনসভা গুলোতে অংশ নেবেন। দলের পক্ষে ভোট চাইবেন। এগুলো আওয়ামী লীগের পূর্ব পরিকল্পিত ও স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে এর বাইরে বিএনপি যেন ফাঁকা মাঠের সুযোগ না পায়, সেজন্যও দলীয় কর্মকাণ্ডও বিভিন্ন রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেয়া হবে। উদাহরণ হিসেবে খালেদা জিয়ার কক্সবাজার সফরের পর ওবায়দুল কাদেরের সফরের প্রসঙ্গ টানেন তারা।

বিএনপি নেত্রীর কক্সবাজার সফরের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একই ধরনের কর্মসূচি নিয়ে সেখানে গেছেন। খালেদা জিয়া যে রুট দিয়ে পথসভা করতে করতে কক্সবাজার গেছেন, সাধারণ সম্পাদকও একই পথ দিয়ে পথসভা করতে করতে গেছেন। পথে খালেদা জিয়া পাঁচ জায়গায় পথসভা করেছেন, সেখানে নেতা ১০ জায়গায় পথসভা করেছেন। মানুষকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ খালেদা জিয়াকে দেয়া হয়নি।

অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি যেভাবে জনসভা করেছে, আওয়ামী লীগ সে ভাবে জনসভা করেছে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, মাঠের রাজনীতিতে বিএনপি তৎপর হয়েছে, এটা রাজনীতির জন্য ভালো লক্ষণ। তারা যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে তাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।

আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচিতে বিশ্বাসী নয় জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আমাদের মতো কাজ করে যাচ্ছি। কারণ আওয়ামী লীগ নিজের পরিকল্পনা নিয়েই কাজ করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন। কিন্তু নির্বাচন বানচালের জন্য গতবার যেসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছেন; তার জন্য জনগণকে কী জবাব দেবেন তা কি ঠিক করেছেন। কারণ তার ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে দেশে অরাজকতা হয়েছে। এজন্য জবাব তাকেই দিতে হবে। তিনি যেখানে কর্মসূচি পালন করতে যাবেন, সেখানে যদি ভুক্তভোগীরা গিয়ে জবাব চায়, তাহলে তিনি কী করবেন।

এদিকে আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ২০ দলীয় জোট চাঙ্গা করতে চায় প্রধান শরিক বিএনপি। সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জোটগতভাবেই মাঠে নামতে চায় দলটি। বিশেষ করে আসন্ন রংপুরসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটের পক্ষে প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

জানা গেছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, আগামী দিনের কর্মকৌশল নির্ধারণ এবং ২০ দলীয় জোট চাঙ্গা করার অংশ হিসেবে জোটের শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেখানে জোট নেতাদের বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ পর্যালোচনা করেন তিনি। এ সময় খালেদা জিয়া আগামী দিনের আন্দোলন ও নির্বাচনমুখী কর্মকাণ্ডে জোটের শরিকদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জানা গেছে, সড়কপথে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ায় সারা দেশে দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন উল্লেখ করে খালেদা জিয়াকে শিগগিরই বিভাগ ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা সফরে বের হওয়ার পরামর্শ দেন জোট নেতারা। তাদের এমন পরামর্শের প্রতিউত্তরে খালেদা জিয়া বলেন, অনেক দিন দেশের বাইরে থাকায় কিছু কাজ বাকি আছে। তাছাড়া বিজয়ের মাসে ডিসেম্বরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবে বিএনপি। পরে তিনি তার শারীরিক অবস্থার দিকে লক্ষ্য রেখে ও দলের স্থায়ী কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে সফরসূচি চূড়ান্ত করবেন।

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব বলেন, জোট নেতাদের পরামর্শের ভিত্তিতে জানুয়ারিতে বিভিন্ন বিভাগ ও গুরুত্বপূর্ণ জেলায় সফরের আভাস দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। দলের স্থায়ী কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।

সূত্র জানায়, আসন্ন রংপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপি জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেয়ার কথা জানিয়েছেন খালেদা জিয়া। এ বিষয়ে কোনো তথ্য বা প্রার্থী মনোনয়ন বিষয়ে জোট নেতাদের কোনো প্রস্তাব থাকলে তা জানাতে বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

সূত্র জানায়, রংপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপি থেকে যাকেই মেয়র প্রার্থী করা হবে, তাকেই শরিক দলগুলো সমর্থন জানাবে। তবে মেয়র প্রার্থী ছাড়া কাউন্সিলর প্রার্থী হতে আগ্রহী জামায়াতসহ অন্যান্য শরিক দলের কেউ থাকলে নাম দিতে বলেছেন খালেদা জিয়া।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন