শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৬:৪৫:৪৯ এএম

বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক: রোহিঙ্গা ফেরাতে চুক্তির সম্ভাবনা

জাতীয় | বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ | ১১:২৩:৪৭ এএম

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রবল আন্তর্জাতিক চাপের মুখে থাকা মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দু’দিনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে। দেশটির রাজধানী নেপিদোতে বৈঠকের প্রথম দিনে গতকাল বুধবার কয়েক দফায় এ ইস্যুতে দীর্ঘ আলোচনা হয়। আজ বৃহস্পতিবার দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে শেষ দফায় বৈঠক করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী। এরপর দু’দেশের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর কথায় আশা আরও জোরালো হয়েছে। প্রথম দিনের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে জানিয়ে তিনি গতকাল সন্ধ্যায় সংবাদ সংস্থা ইউএনবিকে বলেন, ‘আশা করছি কাল চুক্তি হবে।’ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গতকাল দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে চুক্তি সইয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আওতায় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়ের উৎস দেশ মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত বহুল প্রত্যাশিত এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। সবাই জানার চেষ্টা করছে আলোচনার বিষয়বস্তু ও ফলাফল। কারণ, তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবর্তন দেখতে চায়। নেপিদোতে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও ইউরোপের ৫১ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আসেম সম্মেলনের সাইডলাইনেও বিষয়টি নিয়ে জোরালো আলোচনা হয়। ১৫টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ করে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন। এরপরই এ ইস্যুতে নীরব থাকা সু চি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে চলতি সপ্তাহেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছা যাবে। দু’দেশের বৈঠকের ফল হিসেবে শিগগির একটি এমওইউ সই করা যাবে।

আগস্টের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত সোয়া ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ এই অভিযানকে জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন