বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৩:২২:১৩ পিএম

গণতন্ত্র অব্যাহত রাখতে ভবিষ্যতেও অবদান রাখবে সেনাবাহিনী

জাতীয় | বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ | ০৬:০৪:২১ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

তিনি বলেন, ‘সেবা ও কর্তব্যপরায়ণতার মাধ্যমে সেনাসদস্যরা জনগণের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং সমগ্র জাতির আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে। দেশের জনকল্যাণমূলক কাজে ভবিষ্যতেও সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

বৃহস্পতিবার সাভার সেনানিবাসে মিলিটারি পুলিশ কোরের (সিএমপি) বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলন ২০১৭, কোর পুনর্মিলনী এবং সিএমপি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান উপলক্ষে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্রমধারায় আজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বদরবারে একটি সুশৃঙ্খল ও আধুনিক সেনাবাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, আধুনিকায়ন ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং সেনাসদস্যদের আরো নিষ্ঠার সঙ্গে দেশমাতৃকার কাজে উদ্বুদ্ধ করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত আমাদের সেনাবাহিনী দেশের আস্থা ও গর্বের প্রতীক। দেশপ্রেমিক ও পেশাদার এই বাহিনী দেশের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের যেকোনো প্রয়োজনে সর্বদাই সর্বোচ্চ আস্থা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে নিজেদের নিবেদিত করে।’

প্রধানমন্ত্রী প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক এবং জিওসি অব আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদ তাঁকে স্বাগত জানান। সুসজ্জিত একটি সেনাদল প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায় এবং প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, কর্নেল কমান্ড্যান্ট অব দ্য সিএমপি অ্যান্ড স্কুল মেজর জেনারেল মিয়া মুহম্মদ জয়নুল আবেদীন, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এবং সিএমপিতে কর্মরত ও অবসরে থাকা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল আজিজের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেন। এ সময় তিনি নবনির্মিত সিএমপি সেন্টার এবং স্কুল কমপ্লেক্সেরও উদ্বোধন করেন।

সিএমপি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের আধুনিকায়নেও তাঁর সরকার গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক সুবিধা সংবলিত আধুনিক এই কমপ্লেক্স নির্মাণ করে দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন দুটি এমপি ইউনিট প্রতিষ্ঠা, সকল এমপি ইউনিটের অধিনায়কের র‌্যাংক মেজর থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেলে উন্নয়ন এবং আধুনিক সরঞ্জাম ও যানবাহন দ্বারা এমপি ইউনিটগুলোকে সুসজ্জিত করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা দৃঢ় আশা প্রকাশ করে বলেন, নবনির্মিত এই সিএমপি কমপ্লেক্স ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে আরো সফলতা অর্জন করবে, এমনকি বহির্বিশ্বেও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদেরকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, মিলিটারি পুলিশ কোর সেনাবাহিনীতে সামরিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করার ব্রত নিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ প্রতিষ্ঠান সেনাবাহিনীর মিলিটারি পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সদস্যদের উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান বন্ধুপ্রতিম দেশের অফিসারসহ বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বিজিবি, আনসার ও কারা অধিদপ্তরের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যদের সফলভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রাপ্তির মাধ্যমে যে বিরল স্বীকৃতি ও গৌরব আজ আপনারা অর্জন করলেন, তা ভবিষ্যতে নিষ্ঠা ও উদ্দীপনার সঙ্গে কাজ করার প্রেরণা জোগাবে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ এখন একটি ব্র্যান্ড নেম, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন বৈদেশিক মিশনে আমাদের সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের আত্মত্যাগ, কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনছে সম্মান ও মর্যাদা।’

তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছিলেন। ১৯৭২ সালে প্রথম মিলিটারি পুলিশ ইউনিট গঠন করেন। তিনি বলেন, তাঁরই হাত ধরে (বঙ্গবন্ধু) ১৯৭৪ সালের ১১ জানুয়ারি চারটি মিলিটারি পুলিশ ইউনিট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ‘কোর অব মিলিটারি পুলিশ’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য শৃঙ্খলার আদর্শ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ ২৩ বছরের স্বাধিকার আন্দোলন, সংগ্রাম এবং সুদৃঢ় ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীনতা। আমরা পেয়েছি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ।’ তিনি বলেন, জাতির পিতা আজীবন স্বপ্ন দেখেছিলেন সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। তিনি সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন দেশকে পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠনের লক্ষ্যে জাতির পিতা প্রণীত ১৯৭৪ সালের প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে আর্মড ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করেছি। বিশ্বমানের অত্যাধুনিক সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো বিন্যাস ও পরিবর্তনের পাশাপাশি আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীকে অত্যাধুনিক যুদ্ধসরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে।’

সরকারের নেতৃত্বে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধনে আমরা সফল হয়েছি। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের সর্বজনীন মডেল।’ তিনি বলেন, ‘২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। জনগণের মাথাপিছু আয় বেড়ে আজ ১৬১০ ডলার হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ সালে ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ। এখন তা হ্রাস পেয়ে হয়েছে ২২ দশমিক ৪ শতাংশ। অতিদারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ২৩ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। পৌনে নয় বছরে দেশ-বিদেশে কমপক্ষে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পাঁচ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। ইনশাল্লাহ ২০২১ সালের মধ্যে আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেব।’ তিনি বলেন, তাঁর সরকার ফাস্ট ট্রাক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। গভীর সমুদ্রবন্দর, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মেট্রোরেল প্রকল্প, আন্তদেশীয় রেল প্রকল্প এবং এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ও কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দেশের প্রথম টানেল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।

মিয়ানমারের শরণার্থীদের সহযোগিতা দিতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব সম্প্রদায় আমাদের মানবিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের সব ধরনের সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা বহুল প্রশংসিত হয়েছে।’ কুচকাওয়াজ শেষে প্রধানমন্ত্রী মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। বাসস


খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন