মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ ১০:০০:১৩ পিএম

মধুমিতা সিনেমা হল নিয়ে যত কথা যত কাহিনী

বিনোদন | সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৭ | ১২:৪৪:১৭ পিএম

মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে ৩০০ গজ দক্ষিণে হাতের বাঁয়ে মধুমিতা সিনেমা হল। ঢাকার অন্যতম পুরানো সিনেমা হল এটি। পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন এই সিনেমা হলের প্রতিষ্ঠাতা। ১লা ডিসেম্বর ১৯৬৭ সালে যাত্রা শুরু মধুমিতা সিনেমা হলের।

এটি উদ্বোধন করেছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার বিচারপতি আবদুল জব্বার খান। এই সিনেমা হলের নামকরণেও রয়েছে ছোট্ট একটি ঘটনা। সিনেমা হলের নাম চেয়ে দৈনিক পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দেন মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন।

অনেকে নাম জমা দেয়ার পর সেখান থেকে ‘মধুমিতা’ নামটি পছন্দ করেন সিরাজ উদ্দিন। এই নাম প্রস্তাবকারীকে তখনকার দিনে ৫০০ টাকা পুরস্কার দেন ও সেই সঙ্গে সিনেমা দেখার টিকিট ফ্রি করে দেন। এখন হলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজ উদ্দিনের ছেলে ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ। আগামী ১লা ডিসেম্বর ৫০ বছর পূর্তি হবে মধুমিতার। আর এই সূবর্ণজয়ন্তীতে আমাদের মুখোমুখি হন তিনি।

এ সিনেমা হলের শুরুর কথা বলতে গিয়ে ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, মধুমিতা সিনেমা হলের ইতিহাস বলে শেষ করা যাবে না। ১২২১ জন দর্শক একসঙ্গে বসে ছবি দেখতে পারেন এ সিনেমা হলে। যেমন বাংলা ছবি এখানে চলেছে ঠিক তেমনি ইংরেজি ছবিও এখানে বেশ ভালো ব্যবসা করেছে। আমি ৩৮ বছর ধরে এই সিনেমা হলের সঙ্গে। আমার পাশাপাশি ১৯৭৪ সাল থেকে এখানে আছেন বাবুল দে। তিনি হিসাব বিভাগের তদারকিতে থাকলেও সিনেমা সংক্রান্ত অনেক কাজের সাক্ষী তিনি। আরো অনেকের শ্রমই এখানে জড়িত। আমাদের অনেক স্মৃতি।

তিনি আরো বলেন, ‘ক্লিওপেট্রা’ ছবি দিয়ে যাত্রা শুরু হয় মধুমিতার। শুধু সিনেমা হল না মধুমিতা মুভিজ থেকে ‘মিস লংকা’ ‘গুনাহ’ ‘দূরদেশ’ ‘নিশান’ ‘শীষনাগ’ ‘ঘর জামাই’ ‘ঈদ মোবারক’ ‘মাসুম’ ‘কোবরা’ ‘আগুন’ ‘দিন দুনিয়া’ ‘অলঙ্কার’ ‘উৎসর্গ’সহ বেশকিছু সুপারহিট সিনেমা প্রোডাকশন হয়েছে। দর্শক সিনেমাগুলোর নাম আজও বলেন। শুধু বাংলা না ইংরেজি সিনেমাগুলোর কথাও বলতে চাই। ‘কিল অ্যান্ড কিল এগেইন’, ‘হেলেন অফ ট্রয়’, ‘জেসিস গার্লস’, ‘বেনহার’, ‘কমান্ডো’, ‘জুরাসিক পার্ক’, ‘ডেসপারেডো’, ‘দ্য মাম্মি’ ‘টাইটানিক’, ‘বেবিস ডে আউট’ ‘কিল দেম অল অ্যান্ড কাম ব্যাক এলোন’সহ আরো অনেক আমাদের আমদানীকৃত সিনেমা

এখানে দর্শকরা উপভোগ করেছেন। শুরুর দিনই আমরা আধুনিক শব্দ (ম্যাগনেটিক সাউন্ড) সুবিধা নিয়ে চালু করেছিলাম। ১৯৯৭ সাল থেকে এখানকার পর্দা বা স্ক্রিনে ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এখনো আমরা চেষ্টা করি বাজারের সবচেয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে। বর্তমানে সিনেমা হলে বসার আসন, বাথরুম থেকে শুরু করে শব্দ ব্যবস্থা সবকিছুই বদলে ফেলা হয়েছে মধুমিতার। বর্তমানে বাংলা সিনেমার ব্যবসা মন্দার দিকে।

এরপর একের পর এক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেলেও মধুমিতা সময়ের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে চালু আছে। সিনেমার প্রযোজক, দর্শক সবার দৃষ্টিতে বর্তমানে চালু থাকা ঢাকার হলের মধ্যে অন্যতম আধুনিক হল মধুমিতা।

রাজনীতিবিদ, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ফিল্মের এমন কোনো তারকা নেই যিনি মধুমিতায় ছবি দেখতে আসেননি। মতিঝিল এলাকায় তিন বিঘা জায়গায় নিজস্ব ভবনে গড়ে উঠেছে এই মধুমিতা সিনেমা হল। ভবিষ্যতে এ হলের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সিনেপ্লেক্স করার পরিকল্পনা আছে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদের।

তিনি বলেন, এসব পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে কয়েকটি উন্নতমানের মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণ করা। যেখানে দর্শক বাংলা ও ইংরেজি সিনেমা একসঙ্গে দেখতে পাবেন। সেখানে ফুডকোর্টের পাশাপাশি শিশুদের খেলার আয়োজনও রাখা হবে। মধুমিতা নিয়ে সামনে অনেক স্বপ্ন আমার। সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করতে চাই। মধুমিতা সিনেমা হল আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী ১লা ডিসেম্বর ৫০ বছর পূর্তির আয়োজনে মাতবে। আর ওইদিন সিনেমা হলে দর্শক দেখতে পাবেন তৌকীর আহমেদ পরিচালিত নতুন ছবি ‘হালদা’।

-পূর্বপশ্চিমবিডি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন